খোদার কসম! আজ থেকে একটি দোয়াও মিস হবেনা- ১ সেকেন্ডে সব দোয়া আরশে পৌঁছে যাবে
খোদার কসম! আজ থেকে একটি দোয়াও মিস হবেনা- ১ সেকেন্ডে সব দোয়া আরশে পৌঁছে যাবে
আফ্রিকার তানজানিয়ার
এক ব্যবসায়ীর ঘটনা- তিনি অনেক বড় ব্যবসায়ী,
ডেভলাপার ব্যবসায়ী, তিনি তার এলাকায় প্রায় ৭ হাজার
ঘর তৈরী করেছেন। তিনি দাওয়াতে ইসলামীর মুবাল্লিগ মাওলানা আবদুল হাবিব
আত্তারিকে উনার তৈরী সে শহরে নিয়ে যেতে চাইলেন। আবদুল হাবিব আত্তারি
বলেন – আমি এই ব্যবসায়ী ভাইটির
কাছ থেকে একটি জিনিষ শিখেছি, যা ফর্মূলার মত মনে রেখেছি,
যে ফর্মূলা আপনাকে সকল ব্যর্থতার মধ্যেও টেনশনমুক্ত রাখবে। তিনি বলেন- আমি যখন সে ব্যবসায়ীর গাড়িতে করে
তার শহরে যাচ্ছিলাম পথে একটি ব্রিজ ছিল, সে ব্রিজে কাজ চলছিলো,
ফলে গাড়ি থেমে গেল, সে ব্যবসায়ী অনেক লোককে ফোন
করল যাতে উনার গাড়িটি ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়, অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু সে ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলেন না। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে
গাড়ি ঘুরিয়ে আবার আমাকে আমার স্থানে নিয়ে আসলেন, আমি ভাবলাম বেচারা অনেক আশা করে আমাকে নিজের শহরে নিতে চেয়েছিল কিন্তু ব্যর্থ
হল তাই তার মনে কষ্ট পেয়েছে, তাই আমি সে ব্যবসায়ীকে শান্তনা দিয়ে
বললাম, আপনি টেনশন করবেন না হয়ত এর পিছনে আল্লাহ আমাদের জন্য
কোন কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।তখন সে ব্যবসায়ী লোকটি এমন একটি কথা বললেন- যা আমি আজো ভুলিনি। ব্যবসায়ীটি বলেন (ভাই যখন আমার কোন কাজ হয়ে যায় তখন আমি আল্লাহর একবার শোকর আদায়
করি, আর যদি কোন কাজ আটকে যায় তখন আমি আল্লাহর দুইবার শোকর আদায়
করি) আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? তিনি বলেন
আমাদের আজকে যাওয়ার পথে যে বাঁধা এসেছে সে বাঁধা অতিক্রম করার জন্য আমি আপ্রান চেষ্টা
করেছি, কিন্তু তারপরও যখন যেতে পারিনি, তখন আমি ১০০% বুঝতে পেরেছি এই যেতে না পারাটা আমার রবের
পক্ষ থেকে ফয়সালা, আর আমার রব যে ফয়সালা করেছেন তা আমাদের কল্যাণের
জন্য করেছেন। সেদিন একজন আফ্রিকার ব্যবসায়ীর মুখে এত সুন্দর কথা শুনে আমি তা আজো ভুলতে পারিনি। এটা এমন একটি ফর্মূলা যদি সব সময় এই ফর্মূলা মনে রাখেন লাইফটা টেনশনমুক্ত হয়ে যাবে।
যার মা জীবিত
আছে- খোদার কসম মায়ের দোয়া নিয়ে নাও। আজ যার মা নাই সে কার দ্বারা দোয়া করাবে? সন্তান
বাহিরে গেলে পিছে এমন একজন আছেন যিনি মুসাল্লা বিছিয়ে দোয়া করতে থাকেন তিনি হলেন মা। সন্তান বিদেশে থাকলে এই মা বারবার জানতে চাই বেটা কেমন আছ? খানা খেয়েছো কিনা? শরীর সুস্থ আছে কিনা?
তাই যাদের মা আছে তারা অনেক বড় নিয়ামতের অধিকারী। যত বড় কঠিন সমস্যা হউক, যত বড় মসিবত হউক মায়ের
কদমে বসে যাও। আর বল মা আমার জন্য দোয়া করে দাও। যদি তোমার মা মন থেকে দোয়া করে তাহলে গ্যারান্টি এই দোয়া সাথে সাথে আরশ পর্যন্ত
পৌঁছে যাবে।
মা বাবা জীবিত
থাকলে যদি কোন পেরেশানি চলে আসে তাহলে মা বাবাকে গিয়ে বল মা আমার জন্য দোয়া কর বাবা
আমার জন্য দোয়া কর, এটা একটা পদ্ধতি,
তবে আরেকটি পদ্ধতি হল যখনই কোন সমস্যা চলে আসবে তখন মা বাবার এত বেশী
খেদমত করতে থাক যে মা বাবা যেন মন থেকে দোয়া করে দিবে, আর বলবে
হে আল্লাহ আমার সন্তানকে তুমি হেফাজত কর, হে আল্লাহ আমার সন্তানকে
তুমি নিরাপত্তা দান কর, আমার সন্তানের সকল পেরেশানি দুর করে দাও,
আমার সন্তানকে জীবনের সকল জায়েজ ক্ষেত্রে সফলতা দান কর। যদি মা বাবাকে বলার আগেই তোমার খেদমতে খুশি হয়ে তারা তোমার জন্য দোয়া করে তারপর
দেখ তোমার জন্য চারিদিক থেকে খুশির খবর আসবে, সফলতার
খবর আসবে, আসমান জমিনের বরকতের সকল দরজা আল্লাহ তোমার জন্য খুলে
দিবেন।
আল্লাহর প্রিয়
হাবিব (দ) এরশাদ করেন যার সারাংশ
হল- যখন কোন ফাসেক ফাজের গুনাহগার লোক আল্লাহর দরবারে দোয়া করে,
আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন এর কাজ তাড়াতাড়ি করে দাও। কারন কি? কারন হলো এই ফাসেকের দোয়া আল্লাহ
পছন্দ করেন না। তার আওয়াজ আল্লাহ পছন্দ করেন না। আর যখন আল্লাহর কোন নেক বান্দা আল্লাহর বারেগাহে দোয়া করেন, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন- এখন সে যা চাইছে
তাকে তা দিও না। তার চাওয়াটা আমার কাছে খুব পছন্দ হয়েছে, তাকে আরো চাইতে দাও তাকে আমার কাছে আরো বেশী বেশী দোয়া করতে দাও।
কিন্তু আফসুস
সে লোকের জন্য যে বলে আমার দোয়া কবুল হচ্ছেনা, অথচ
তার দোয়া কবুল না হওয়ার দ্বারা বুঝা যায় তার আওয়াজ আল্লাহর কাছে পছন্দ হয়েছে। তার চাওয়া আল্লাহর কাছে পছন্দ হয়েছে। সে জন্য দোয়ার পর তাড়াহুড়া করবেন
না, বরং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। যারা বলে আমার দোয়া কবুল হয়না কেন? তাদের জন্য একটি যৌক্তিক উদাহারণ দিচ্ছি যা শুনলে আপনার বুঝতে
সহজ হবে। যেমন আপনার একটি ছোট বাচ্চা আছে আর তার কাশি হয়েছে, সে যদি আপনার কাছে বায়না করে বাবা আমি আইসক্রিম খাব, আপনি কি আপনার সে শিশু বাচ্চাকে আইসক্রিম দিবেন? কখনো
দিবেন না, আপনার সন্তান যদি সে মুহুর্তে কান্নাকাটিও করে তবুও
আপনি তাকে আইসক্রিম দিবেন না, কারন এই মুহুর্তে আপনার সন্তানকে
আইসক্রিম দেয়াটা তার প্রতি মহব্বতের প্রমান হবেনা বরং দুষমনির প্রমাণ হবে। আপনি পিতা হয়ে যেমন আপনার সন্তানকে কখন কি দিতে হবে তা ভালো বুঝতে পারেন, ঠিক তেমনি আমাদের যিনি খালেক, আমাদের যিনি
রব তিনিও আমাদেরকে কখন কি দিতে হবে কখন কি দিলে আমাদের জন্য কল্যান হবে তা তিনি ভালো
ভাবেই জানেন। সে জন্য আপনি দোয়া করছেন হে আল্লাহ সন্তান দাও তিনি
দিচ্ছেন না, আপনি দোয়া করছেন হে আল্লাহ আমি ভাড়া
বাসায় থাকছি আমাকে নিজের একটি ঘর দাও তিনি দিচ্ছেন না, হে আল্লাহ
আমি বিদেশে যেতে চাই- আল্লাহ ভিসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন না, কারন এই রব আপনাকে
আমাকে ৭০ মায়ের চেয়েও বেশী মহব্বত করেন। মা বাবা যেমন সন্তানের
ভালোর জন্য সন্তানকে আইসক্রিম দিচ্ছেন না, তেমনি
আপনি চাওয়ার পরও যদি রব আপনাকে কোন কিছু না দেন তাহলে বিশ্বাস করুন সে না দেয়াটাই আপনার
জন্য উত্তম ও কল্যানকর।
যে ১টি সন্তানের
জন্য তামান্না করছেন কিন্তু সন্তান হচ্ছেনা, বিশ্বাস
করুন আপনার জন্য সন্তান কল্যাণকর নয়। চিন্তা করুন সে সব পিতা মাতার ব্যপারে
যাদের সন্তানেরা তাদেরকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়, বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। এসব পিতা মাতা বৃদ্ধাশ্রমে
বসে বসে বলে হায় আল্লাহ যদি আমাকে এমন সন্তান না দিত? হতে পারে আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন সে জন্য আপনাকে এমন নাফরমান
সন্তান না দিয়ে আপনার জন্য কল্যাণকর ফয়সালা করেছেন। সে জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহর কাছে চাইবেন, কিন্তু যা চাইবেন তা
পেলেও আল্লাহর শোকর করবেন, না পেলেও শোকর করবেন।
দোয়া কবুল না
হওয়ার একটি কারন হল হারাম রিজিক, হাদিস শরীফে আছে
হারামখোরের দোয়া কবুল হয়না, বান্দা হারাম খাচ্ছে, সুদের কারবার করছে, মিথ্যা বলে ব্যবসা করছে আর অভিযোগের
সুরে বলে আমার দোয়া কেন কবুল হয়না?
একবার হযরত
মুসা (আ) এক ব্যক্তিকে দেখলেন,
খুব বেশী কান্নাকাটি করছেন, আর বলছেন হে আল্লাহ
আমার দোয়া কবুল করো নাও, হে আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করে নাও। মুসা (আ) সে ব্যক্তির এমন আহাজারি
দেখে আল্লাহকে বললেন হে আল্লাহ তোমার এই বান্দা কেমন কান্নাকাটি করছে দোয়া কবুলের জন্য
তুমি তার দোয়া কবুল করে নাও। তখন এরশাদ হল হে মুসা সে যদি কাঁদতে
কাঁদতে মরেও যায়, এত উঁচুতে হাত তুলে
যে তার হাত আসমান বরাবর পৌঁছে যায়, হে মুসা তবুও আমি তার দোয়া
কবুল করবনা। আরজ করলেন হে আল্লাহ কারন কি? এরশাদ হল হে মুসা সে হারাম ভক্ষন করে, সে
যে পোষাক পরিধান করেছে তা হারাম। অথচ একজন জলিলুল কদর নবী তার দোয়া
কবুল করার জন্য সুপারিশ করছেন, তবুও আল্লাহ হারাম
ভক্ষণকারীর দোয়া কবুল করেননি।সে জন্য রিজিককে হালাল করুন।
আপনি যদি চান
মুস্তাজাবুত দাওয়াত হয়ে যাবেন, মুস্তাজাবুত দাওয়াত
বলা হয় যার সকল দোয়া কবুল হয়। হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা) প্রিয় নবীজির কাছে প্রশ্ন করলেন,
এয়া রাসুলাল্লাহ আমি মুস্তাজাবুত দাওয়াত হতে চাই, তখন নবী করিম (দ) তাকে কোন লম্বা
লম্বা সিলেবাস বড় বড় ওজিফা ও আমল দেননি, বরং এক লাইনে নবীজি ফর্মূলা
বলে দিয়েছেন, বললেন (হে সাদ তোমার লোকমা
তোমার খাবার পবিত্র কর তাহলে তুমি মুস্তাজাবুদ দাওয়াত হয়ে যাবে)
আরেকটি বিষয়
হল আমরা দোয়ার মধ্যে মনোযোগি হইনা, মনে
রাখবেন আল্লাহ অমনোযোগির দোয়া শুনেন না। উদাহারণ স্বরুপ যখন
ইমাম সাহেব দোয়া করে তখন আমরা এদিক সেদিক তাকিয়ে থাকি, দোয়াতে কি বলছেন সেদিকে মনোনিবেশ করিনা, অমনোযোগি হয়ে আমিন আমিন বলতে থাকি, অথচ দোয়া হল আল্লাহর
সাথে কথা বলা, আর আপনি কথা বলছেন আল্লাহর সাথে আর মনযোগ হল অন্যদিকে। আপনি যদি আপনার ছাত্রকে বা আপনার সন্তানকে কোন কিছু বুঝান সে সময় সে যদি আপনার
কথার দিকে মনোনিবেশ না করে এদিক সেদিক তাকাতে থাকে আপনার কথার পাত্তাই না দেয় কেমন
লাগবে? ঠিক তেমনি রবের বারেগাহে হাত তুলে যদি ধ্যান
অন্য দিকে থাকে কিভাবে দোয়া কবুল হবে?
দোয়া কবুল না
হওয়ার আরো একটি কারন হল- বিশ্বাস না থাকা,
বান্দা বলে দোয়া করব কিন্তু আমি জানি আমার দোয়া কবুল হবেনা, এ ধরনের একটি ঘটনা আছে- একবার একটি গ্রামে বৃষ্টি হচ্ছিলনা,
গ্রামের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিল সবাই মিলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করবে,
গ্রামের সকল মানুষ একটি ময়দানে জমা হয়ে গেল, এসতেশকার
নামাজ পড়ে দোয়া করবে। গ্রামের একজন যুবক সে ময়দানে ছাতা
নিয়ে উপস্থিত হল, গ্রামের অন্যান্য যুবকরা
তার হাতে ছাতা দেখে হাসতে লাগল, তারা বলতে লাগল কয়েক মাস যাবৎ
বৃষ্টি বাদলের দেখা নাই আর তুমি ছাতা নিয়ে ঘুরছ? তখন সে যুবক
জবাব দিল আজতো আমরা সে মালিকের দরবারে দোয়া করতে এসেছি যিনি বৃষ্টি বষনের মালিক। যদি আজ তিনি বৃষ্টি নাজিল করেন তখন কি ভিজে ভিজে যাব? সেদিন সে নৌযোয়ানের এমন একিন এমন দৃঢ় বিশ্বাসের বরকতে আল্লাহ মুষলধারে
বৃষ্টিনাজিল করলেন। সকল গ্রামের লোক ভিজে ভিজে ঘরে
ফিরেছেন আর সে যুবক ছাতা মাথায় দিয়ে সহি সালামত ঘরে ফিরে গেল। সে জন্য দোয়া করতে
হবে একিনের সাথে।
আমার সমস্যা
পতিত হলে হতাশ হয়ে যাই, মনে মনে ধারনা করি এটা
এত বড় সমস্যা এই সমস্যা সমাধান হতেই পারেনা, অথচ এই সমস্যা আমার
জন্য আপনার জন্য বড় কিন্তু আল্লাহর কাছে বড় না, একটি যুক্তি দিয়ে
বুঝালে বুঝতে পারবেন, ধরুন ঘরের মধ্যে পিপড়া চলাচল করার রাস্তায়
আপনি একটি আপেল রেখে দিলেন, সে আপেলটি পিপড়ার জন্য অনেক বড় পাহাড়
সে সেটাকে তার রাস্তা থেকে সরাতে অপারগ তাই সে পিপড়া রাস্তা পরিবতন করবে, কিন্তু আপনি যদি সে আপেলটি পিপড়ার রাস্তা থেকে তুলে নেন তাহলে পিপড়ার রাস্তা
ক্লিয়ার হয়ে যাবে, ঠিক তেমনি আমাদের চলার পথে যে সব বাধা আসবে
তা আমাদের জন্য পাহাড়ের মত বড় হতে পারে কিন্তু আল্লাহর কাছে তা দুর করা মোটেও কঠিন
নয়। (ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি শায়্যিন কাদির)
নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। তিনি যখন চান যেভাবে
চান সেকেন্ডের মধ্যেই প্রবলেম সলভ করতে পারেন। তাই আল্লাহর কাছে অন্তর
থেকে দোয়া করুন।
একজন ডাক্তার এর ঘটনা- ডাক্তারের নাম হল ডাক্তার আহমদ, তিনি একটি দেশের বড় বড় ডাক্তারদের একজন ছিলেন, হকুমত সিদ্ধান্ত নিল সে ডাক্তারকে রাষ্ট্রিয়ভাবে সবচেয়ে বড় পুরস্কারে ভুষিত করবে। সে উপলক্ষে অনেক বড় একটি সেমিনারের আয়োজন করা হল, ডাক্তার এসব আয়োজনের খবর শুনে খুবই খুশি হলেন। এবং সে প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণের জন্য তিনি একদিন আগে ফ্লাইট বুক করে নিলেন, ফ্লাইট আকাশে উড়ার পর বৈরী আবহাওয়ার কারনে ফ্লাইট যথাস্থানে না পৌঁছে পথে অন্য একটি এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করা হল। ডাক্তার সাহেব অনেক পেরেশান কারন তাকে যে কোন মূল্যে রাজধানীতে পৌঁছতে হবে কারন আগামীকাল এত বড় অনুষ্ঠান শুধু আমাকে এওয়ার্ড দেয়ার জন্য। কিন্তু এয়ারপোর্টের আমলারা খবর দিল আজকে এই ফ্লাইট যেতে পারবেনা। তখণ ডাক্তার সাহেব চেচামেচি শুরু করে দিলেন, কারন আগামী কাল রাষ্ট্রিয় ভাবে যে অনুষ্ঠান রাজধানীতে হবে তা একমাত্র আমাকে এওয়ার্ড দেয়ার জন্য যে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক অতিথিরা আসবেন এখন আমাকে যে কোন মূল্যে রাজধানী পৌঁছতে হবে, তখন এয়ারপোর্টের স্টাফরা পরামর্শ দিল, আপনি যদি রাজধানী রাতের মধ্যে পৌঁছতে চান তাহলে আপনি একটি কার ভাড়া করে বাই রোডে ৭/৮ ঘন্টার মধ্যে রাজধানী পৌঁছতে পারেন। ডাক্তার সাহেব তাদের পরামর্শ মোতাবেক একটি কার ভাড়া করলেন কিন্তু সারারাত প্রচন্ড বৃষ্টির কারনে, ইলেকট্রিসিটি না থাকার কারনে কার ড্রাইভার রাস্তা ভুল করে অন্য একটি গ্রাম্য রাস্তায় গাড়ি ঢুকিয়ে দিল। অনেক দুর যাওয়ার পর তারা একটি ঘরে চেরাগ জ্বলতে দেখল, তারা গাড়ি থেকে নেমে সে ঘরে গেল ঘরে একজন বুড়ি ছিল, তিনি ড্রাইভার ও ডাক্তার সাহেবকে কিছু খেতে দিলেন, ডাক্তার দেখলেন বুড়ির ঘরে একজন যুবক বিছানায় শুয়ে আছেন, ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন মা এই ছেলেটি কে? বুড়ি বলল বেটা সে আমার নাতি সে প্রচন্ড রোগে আক্রান্ত। আমি এলাকায় কয়েকজন ডাক্তারকে দেখিয়েছি, সকলে আমাকে পরামর্শ দিল এর চিকিৎসা শুধুমাত্র এই দেশে একজন ডাক্তার করতে পারেন যার নাম হল ডাক্তার আহমদ। সেদিন থেকে আমি প্রতিদিন দোয়া করি যেন আল্লাহ আমার এই নাতিকে ডাক্তার আহমদ এর কাছে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারি। একথা শুনে ডাক্তার আহমদ চোখের পানি ছেড়ে দিলেন। ডাক্তার বলল মা আমার ফ্লাইট খারাপ হওয়া, ছোট এয়ারপোর্টে অবতরন করা, আমার কারের রাস্তা ভুল হওয়া, এবং আপনার দরজার সামনে এসে দাঁড়ানো, এই সব কিছু আপনার দোয়ার ফল। আমিই হলাম ডাক্তার আহমদ। আল্লাহ আমাকে আপনার ঘরে নিয়ে এসেছেন, আমি আপনার এই নাতির চিকিৎসা করব। এটাই হল দোয়ার ফল।
আরেকটি বিষয়
খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো কখনো কারো বদদোয়া নিবেন না- মানুষের বড় নিঃশ্বাস আপনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এক বাজারে এক গরিব মাছ ব্যবসায়ী মাছ নিয়ে এসেছেণ, এমন সময় একজন পুলিশ অফিসার সে গরিবের তাজা তাজা মাছ গুলি জোর করে
নিয়ে যেতে লাগলেন, গরিব লোকটি মাছের মূল্য চাইলে সে পুলিশ অফিসার
তাকে উল্টা ধমক দিয়ে মাছ গুলি নিয়ে চলে গেল, সে গরিব অনেক কাঁদল
আর আল্লাহর দরবারে বিচার দিয়ে দিল, সে মাছ গুলি ছিল জীবিত তার
মধ্যে এমন মাছ ছিল যার কাঁটা ছিল বিষাক্ত, সে বিষাক্ত মাছের কাটা
পুলিশ অফিসারের হাতের একটি আংগুলে লাগল, আস্তে আস্তে সে আংগুল
প্রচন্ড ব্যথা শুরু হলে সে দ্রুত একজন ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার বললেন আপনার আংগুলে বিষক্রিয়া হচ্ছ দ্রুত আপনার এই আংগুল কাটতে হবে
নাহল ইনফেকশন দ্রুত হাতে ছড়িয়ে পরবে, তার আংগুল কাটা গেল,
কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার হাতের তালুও লাল হয়ে ব্যথঅ আরম্ভ হয়ে গেল,
সে আবার ডাক্তারের কাছে গেল ডাক্তার দেরী না করে তার হাতের তালু কেটে
ফেলল নাহয় পুরা হাত কাটতে হবে, কিন্তু রাতে সে ইনফেকশন পুরা হাতে
ছড়িয়ে পরল, সে পুলিশের একজন বিচক্ষণ বন্ধু ছিল, সে তাকে প্রশ্ন করল আজকে তুমি কি কারো উপর যুলুম করেছ, সে বলল না তবে একজন গরিব মাছ ওয়াল থেকে মাছ নিয়ে এসেছি তার মাছের দাম দিই নাই,
সে বন্ধু পুলিশকে নিয়ে খোঁজ নিয়ে নিয়ে সে মাছ ওয়ালার ঘরে চলে গেল তার
মাছের ডাবল মূল্য দিল আর নিজের অপরাধের জন্য তার কাছে ক্ষমা চাইল, সাথে সাথে আল্লাহর কুদরতে তার হাতের ব্যথা দুর হয়ে গেল, তখন পুলিশের বন্ধুটি মাছ ওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি আমার
বন্ধুকে কি বদদোয়া করেছ? সে বলল আমি বদদোয়া করিনি শুধু বলেছি
হে আল্লাহ আমি অসহায় এ লোক শক্তিশালী সে আমার উপর যে জুলুম করেছে তুমি তার বদলা গ্রহণ
করিও। আল আমান আল হাফিজ
সে জন্য কারো
উপর জুলুম থেকে বেঁচে থাকবেন, কারো বদদোয়া নিবেন
না। কাউকে অন্যায় ভাবে আঘাত করবেন না, কারো সাথে কোন অন্যায় আচরন করবেন না।
কোন মন্তব্য নেই