বুখারীর ৩টি শ্রেষ্ঠ আমল। কঠিন বিপদে ফেঁসে গেলে আমলগুলি বুলেটের মত কাজ করে
বুখারীর ৩টি শ্রেষ্ঠ আমল। কঠিন বিপদে ফেঁসে গেলে আমলগুলি বুলেটের মত কাজ করে
প্রথমে একটি ঘটনা শুনাব, যে ঘটনাটি বুখারী
শরীফের হাদিসে মওজুদ আছে, যে ঘটনাটি আল্লাহর প্রিয় হাবিব
(দ) সাহাবায়ে কেরামকে শুনিয়েছেন, অত্যন্ত চমৎকার এই ঘটনাটি। এই ঘটনা থেকে আজ আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারব। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে
ওমর (রা) হতে বর্ণিত, আমি প্রিয় নবীজিকে
এরশাদ করতে শুনেছি, প্রিয় দর্শকবৃন্দ…
বহু আগের কথা। বনী ইসরাঈল
যুগের তিনজন ব্যক্তি পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। চলতে চলতে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এল,
শুরু
হলো মুষলধারে বৃষ্টি আর ঝড়। কোনো উপায় না দেখে তাঁরা পাহাড়ের একটি গুহার ভেতর
আশ্রয় নিলেন। তাঁরা ভাবলেন, ঝড় থামলে আবার রওনা
দেবেন। কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ের ওপর
থেকে একটি বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে পড়ল এবং গুহার একমাত্র প্রবেশপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে
দিল।
সে যুগে তো আর মোবাইল ফোন
ছিল না যে কাউকে কল করে সাহায্য চাইবেন,
বা
কোনো উদ্ধারকারী দল আসবে। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তাঁরা বুঝতে পারলেন, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করার আর কেউ
নেই।
তখন তাঁরা একে অপরকে বললেন, "আজ আমাদের বাঁচার একটাই উপায় আছে। আমরা প্রত্যেকে
নিজেদের জীবনে করা এমন কোনো ভালো কাজের (নেক আমল) কথা স্মরণ করি, যা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছিলাম এবং সেই কাজের
অসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করি। হয়তো আল্লাহ আমাদের ওপর দয়া করবেন।"
(প্রথম ব্যক্তির দোয়া:
পিতা-মাতার খেদমত) প্রথম ব্যক্তি
আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদতে কাঁদতে বললেন: "হে আল্লাহ! আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন। আমার অভ্যাস ছিল, আমি প্রতিদিন জঙ্গল থেকে বকরি চড়িয়ে ফিরে এসে প্রথমে দুধ
দোহন করতাম। এরপর সেই দুধ সবার আগে আমার বৃদ্ধ মা-বাবাকে পান করাতাম, তারপর আমার স্ত্রী-সন্তানদের দিতাম।
একদিন আমার ফিরতে অনেক রাত
হয়ে গেল। দুধ দোহন করে যখন আমি তাঁদের কাছে গেলাম, দেখলাম তাঁরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আমার বাচ্চারা ক্ষিধায় আমার পায়ের কাছে
কাঁদছিল। কিন্তু হে আল্লাহ! আমার মন সায় দিল না যে, আমার মা-বাবার আগে আমি আমার সন্তানদের মুখে দুধ তুলে দেব। আবার তাঁদের কাঁচা
ঘুম ভাঙাতেও আমার মায়া হলো।
তাই আমি দুধের পেয়ালা হাতে
নিয়ে তাঁদের শিয়রে সারা রাত দাঁড়িয়ে রইলাম। অপেক্ষা করছিলাম কখন তাঁরা জাগবেন।
শেষরাতে যখন ফজর হয়ে এল, তাঁরা জাগলেন এবং
আমি তাঁদের দুধ পান করালাম।
হে আমার রব! আমি যদি এই
কাজটি একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্যই করে থাকি, তবে এই পাথরের আড়াল থেকে আমাদের মুক্তি দাও।" (এরপর হঠাৎ পাথরটি
সামান্য একটু সরে গেল, কিন্তু বের হওয়ার
মতো জায়গা হলো না)
(দ্বিতীয় ব্যক্তির দোয়া:
চারিত্রিক পবিত্রতা ও আল্লাহর ভয়) এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি দোয়া করতে শুরু করলেন: "হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল, যাকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসতাম। আমি তাকে পেতে চাইলাম, কিন্তু সে রাজি হলো না। কিছুদিন পর দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা
দিল। অভাবের তাড়নায় সে আমার কাছে সাহায্য চাইতে এল।
আমি তাকে ১২০ দিনার
(স্বর্ণমুদ্রা) দিলাম এই শর্তে যে, সে আমার সাথে
একান্তে মিলিত হবে। পেটের দায়ে সে রাজি হতে বাধ্য হলো। যখন আমি তার খুব কাছে চলে
গেলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে সে কেঁদে
উঠল এবং বলল— 'আল্লাহকে ভয় করো! অন্যায়ভাবে আমার সতীত্ব নষ্ট করো না।'
তার এই একটি কথায় আমার
অন্তরে তোমার ভয় ঢুকে গেল। আমি সাথে সাথে তাকে ছেড়ে দিলাম এবং তাকে দেওয়া
স্বর্ণমুদ্রাও ফেরত নিলাম না।
হে আল্লাহ! আমি যদি এই গুনাহ
থেকে একমাত্র তোমার ভয়েই বিরত থেকে থাকি,
তবে
আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো।" (পাথরটি আরও কিছুটা
সরে গেল, কিন্তু তবুও বের
হওয়ার মতো ফাঁকা হলো না)
(তৃতীয় ব্যক্তির দোয়া:
আমানতদারিতা ও সততা)
সবশেষে
তৃতীয় ব্যক্তি দোয়া করলেন: "হে আল্লাহ! আমি
একবার কিছু শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম। কাজ শেষে সবাইকে পারিশ্রমিক দিলাম, কিন্তু একজন শ্রমিক তার পাওনা না নিয়েই চলে গেল। আমি তার
সেই সামান্য পারিশ্রমিকটা খরচ না করে ব্যবসায় খাটালাম। এতে অনেক বরকত হলো এবং
অনেকগুলো গরু-ছাগল ও সম্পদের মালিক হলাম।
দীর্ঘদিন পর সেই শ্রমিক ফিরে
এসে বলল, 'হে আল্লাহর বান্দা! আমার সেই
মজুরিটা দিয়ে দাও।' আমি তখন বিশাল এক
পাল গবাদিপশুর দিকে ইশারা করে বললাম,
'এই যা
কিছু দেখছ—সব তোমার।' সে অবাক হয়ে বলল,
'আমার
সাথে কি ঠাট্টা করছ?' আমি বললাম, 'না, আমি ঠাট্টা করছি না।
তোমার সেই আমানত আজ বৃদ্ধি পেয়ে এই সম্পদে পরিণত হয়েছে।'
এরপর সে সব কিছু নিয়ে চলে
গেল, আমার জন্য কিছুই রেখে গেল
না। আমি তাকে বাধা দেইনি।
হে আল্লাহ! আমি যদি এই
আমানতদারিতা ও সততা একমাত্র তোমাকে খুশি করার জন্যই করে থাকি, তবে আজ আমাদের এই পাথরের কারাগার থেকে মুক্তি দাও।"
তাঁর দোয়া শেষ হওয়ার সাথে
সাথেই—বাকি পাথরটুকুও সরে
গেল। গুহার মুখ পুরোপুরি খুলে গেল। তাঁরা তিনজন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে করতে
গুহা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে এলো। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ২২৭২; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৭৪৩
এ হাদিসের চমৎকার ঘটনায় বুঝতে পারি- দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। বিপদে একমাত্র আল্লাহই রক্ষা করতে পারেন এবং ইখলাসের সাথে (একমাত্র আল্লাহর জন্য) করা ভালো কাজ আল্লাহর দরবারে বিফলে যায় না।
প্রিয় বন্ধুরা – আমি কোন নিজের
বানানো কিসসা কাহিনি শুনাচ্ছিনা, বরং আসাহহুল কিতাব বাদাল কুরআন
অর্থ্যাৎ কুরআনের পর সবচেয়ে সহিহ কিতাব সহিহ বুখারীর হাদিস শুনাচ্ছি। এই চমৎকার হাদিসের ঘটনা
থেকে আমরা ৩টি বিষয় শিখতে পারি। যেমন প্রথম ব্যক্তি পিতা মাতার আদব রক্ষা করেছেন, আর আল্লাহর দরবারে
এই আমল এমনভাবে কবুল হয়েছে যে তাতে তার মসিবত দুর হয়ে গেল। সে জন্য যাদের পিতা মাতা
জীবিত আছে খোদার কসম এটা তাদের জন্য অনেক বড় নিয়ামত, এই নিয়ামতের কদর করবেন। মনে রাখবেন যারা মা বাবার
ফরমাবরদার তারা দুনিয়াতেও কামিয়াব আখেরাতেও কামিয়াব। এক হাদিসের মজমুন হল যার উপর
পিতা মাতা রাজি তার উপর তার খোদা রাজি। যার উপর তার পিতা মাতা নারাজ তার উপর তার খোদা নারাজ। যে সব যুবকদের মা বাবা
জীবিত আছেন তারা বড়ই ভাগ্যবান, তাদের জন্য জান্নাতের দুটি দরজা এখনো খোলা আছে,
তাই তাদের কদর করুন, তাদের দোয়া গ্রহণ করুন। খোদার কসম যার সাথে মা
বাবার দোয়া আছে তার সফলতার ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নাই।আর যার উপর মা বাবা নারাজ তার
ধ্বংস হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা।দুনিয়াতে অনেক গুনাহ আছে যার শাস্তি যার রেজাল্ট বান্দা মৃত্যুর
পর জানতে পারে,
তবে মা বাবার নাফরমানি সে গুনাহ যার শাস্তি বান্দাকে দুনিয়াতে দেখানো
হয়।অনেক
যুবক আছেন মসজিদের ইমামের কাছে দোয়ার দরখাস্ত করেন, তাদের জন্য আমার পরামশ হল এদিক সেদিক
দোয়ার দরখাস্ত করবেন না, যদি মা বাবা জীবিত থাকে তাদের পায়ের
কাছে বসে যাও, খোদা কি কসম মা বাবা যদি অন্তর থেকে দোয়া করেন
যত বড় মুসিবত হউক আল্লাহ দুর করে দিবেন। এক কসাইকে তার মা দোয়া দিয়েছেন
আর তার বরকতে সে কসাইকে আল্লাহ জান্নাতে হযরত মুসা (আ) এর সঙ্গি
বানিয়ে দিয়েছেন।সে জন্য খবরদার পিতা মাতার নাফরমানি করবেন না।
২য় শিক্ষা – আজকাল যে বেহায়ার
জামানা চলছে, শোসেল মিডিয়া আমাদের নৌজোয়ানদেরকে বেহায়া বানিয়ে
ছেড়ে দিচ্ছে, কিন্তু হাদিসের সে নৌজোয়ান একলা ছিল, সে নারীর উপর আশেক ছিল, কিন্তু যখন আল্লাহর নাম শুনল
সাথে সাথে সে মুহুর্তে গুনাহ থেকে ফিরে আসল। কিন্তু আজকাল আমাদের যুবকদের
কেমন অবস্থা, বাহিরে দেখতে নেককার মনে হয় কিন্ত একাকি নিজনে যখন মোবাইল হাতে থাকে তখন চোখের
গুনাহ থেকে ফিরে আসেনা, অথচ এই চোখের গুনাহ থেকেই এক সময় বড় গুনাহ
হয়ে যায়, আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যেখানে কেউ দেখছেনা সেখানে
এক আল্লাহ আমাকে দেখছেন।
৩য় শিক্ষা- ৩য় লোকটি একজন
দিন মজুরের বেতন এর আমানত এমন ভাবে রক্ষা করলেন সে আমানত দ্বারা যত সম্পদ অজন করেছেন
সততা ও আমানতদারির কারনে লক্ষ টাকার সম্পদ সে মজুরকে ফেরত দিতে একটুও পিচপা হননি। আর এখন চিত্র সম্পূণ
উল্টা, আমানতদারী সততা বলতে এখন আর কিছু
বাকী নাই। ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়না। ধোকা মিথ্যা ঠকবাজিতে দুনিয়া সয়লাব হয়ে গেছে। অথচ আলাহযরত ফরমান যদি
কেহ কারো মাত্র ৩ পয়সা মেরে দেয়, কিয়ামতের দিন এই ৩ পয়সার বদলায় তার ৭০০ বাজামায়াত
মকবুল নামাজের সাওয়াব দিয়ে দিতে হবে। সে জন্য ১ টাকা, ১ পয়সাও কারো নাহক ভাবে মেরে দেয়ার চিন্তাও
করবেন না। আজকে যদি জুলুম করে পেশি
শক্তির বলে কারো মাল জবরদখল করেন মনে রাখবেন আল্লাহ কাল মজলুমের সাথে থাকবেন।
কোন মন্তব্য নেই