রজব মাসের চাঁদ উঠেছে! খাস ওজিফা করে অসংখ্য লোকের জিন্দেগী বদলে গেছে রজব মাসের ফজিলত ও আমল

 

রজব মাসের চাঁদ উঠেছে! খাস ওজিফা করে অসংখ্য লোকের জিন্দেগী বদলে গেছে

রজব মাসের ফজিলত ও আমল

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক, আজ রজবের চাঁদ দেখা গেছে, মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত ও বরকতময় মাস হলো 'রজব'এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং রহমতের মাস রমজানে প্রবেশের একটি তোরণ। আজ আমরা জানবো রজব মাসের অনন্য মহিমা, গুরুত্ব এবং এই মাসের বিশেষ কিছু আমল সম্পর্কে।

১. রজব মাসের অনন্য মহিমা ও তাৎপর্য

ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে যে চারটি মাসকে 'আশহুরুল হুরুম' বা সম্মানিত মাস বলা হয়েছে, রজব তার মধ্যে অন্যতম। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে:

  • আল্লাহর মাস: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন "রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস এবং রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।" অর্থাৎ, এই মাসটি সরাসরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ সময়।
  • দোয়া কবুলের বিশেষ রাত: বছরের পাঁচটি রাত এমন আছে, যাতে আল্লাহ বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। তার মধ্যে অন্যতম হলো রজব মাসের প্রথম রাততাই এই রাতে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ।

২. 'রজব' শব্দের চমৎকার এক ব্যাখ্যা

ওলামায়ে কেরাম 'রজব' (رجب) শব্দের তিনটি অক্ষরের একটি আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

  • 'রা' (ر): এতে আল্লাহর 'রহমত' (رحمة) বোঝানো হয়েছে।
  • 'জিম' (ج): এতে বান্দার 'জুর্ম' (جرم) বা অপরাধ বোঝানো হয়েছে।
  • 'বা' (ب): এতে আল্লাহর 'বির্‌' (بر) বা দয়া ও কল্যাণ বোঝানো হয়েছে। এর মূল তাৎপর্য হলো বান্দা যখন এই মাসে ইবাদতে মশগুল হয়, তখন তার অপরাধগুলো আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

৩. তওবা ও পবিত্রতার মাস

রজব হলো তওবা বা অনুশোচনার মাধ্যমে নিজেকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করার মাস। ইতিহাস থেকে জানা যায়, জাহেলিয়াতের যুগেও মানুষ এই মাসের সম্মান করতো এবং এর বরকতে অনেক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করতো। তাই আমাদের উচিত এই মাসে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।


৪. রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহ

এই বরকতময় মাসটি আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি? চলুন জেনে নিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল:

  • রাসূলের (সা.) বিশেষ দোয়া: রজব মাস শুরু হলেই নবীজী (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। আসুন আমরাও পড়ি 'আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবানা, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান' (অর্থাৎ: হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন)।
  • নফল রোজা: রজব মাসে রোজার সওয়াব অপরিসীম। বর্ণিত আছে
    • প্রথম দিনের রোজা তিন বছরের গুনাহের কাফফারা। সে হিসেবে আজ রাতে সেহরী খেয়ে আগামী কাল একটি রোজা রাখার চেষ্টা করবেন।
    • দ্বিতীয় দিনের রোজা দুই বছরের এবং তৃতীয় দিনের রোজা এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়।
    • এরপর প্রতিটি রোজার বিনিময়ে এক মাসের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।
  • ইস্তিগফার ও সদকা: যেহেতু এটি আল্লাহর মাস, তাই বেশি বেশি 'আস্তাগফিরুল্লাহ' এবং দরুদ শরীফ পাঠ করা উচিত। এছাড়া অভাবগ্রস্ত মানুষের কষ্ট দূর করলে আল্লাহ জান্নাতে বিশাল প্রাসাদ দান করবেন। মনে রাখবেন, সদকা বা দান-খয়রাত মানুষের হায়াত বাড়ায় এবং কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে।

৫. রমজানের প্রস্তুতির সেরা সময়

রজব মাস মূলত রমজানের বীজ বপনের সময়। আল্লামা সফুরী (রহ.) একটি চমৎকার উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন

"রজব হলো বীজ বপনের মাস, শাবান হলো তাতে পানি দেওয়ার মাস আর রমজান হলো ফসল কাটার মাস।"

চিন্তা করুন, একজন কৃষক যদি সঠিক সময়ে বীজ না বোনে, তবে সে কি ফসল কাটার আশা করতে পারে? ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তি রজব মাসে ইবাদতের বীজ বপন করবে না, তার জন্য রমজানের রহমত ও মাগফিরাতের ফসল কাটা কঠিন হয়ে যাবে।

(উপসংহার) প্রিয় দর্শক, আসুন আমরা এই পবিত্র রজব মাস থেকেই নিজেকে পরিবর্তন করি। নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং মসজিদের সাথে সম্পর্ক বাড়িয়ে নিজেকে রমজানের জন্য প্রস্তুত করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই মাসে বরকত দান করুন এবং সুস্থতার সাথে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.