জ্বীনের শিখানো গুপ্তধন লাভের ওজিফা। রিজিক ধন সম্পদ বৃদ্ধির আমল। জ্বীনের wazifa for Money

 জ্বীনের শিখানো গুপ্তধন লাভের ওজিফা। রিজিক ধন সম্পদ বৃদ্ধির আমল। জ্বীনের wazifa for Money  



এক জাহাজ সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হল, ঝড় তুফানে সব লন্ড ভন্ড হয়ে যাওয়ার উপক্রম, এমন সময় গায়েব থেকে আওয়াজ আসল, একটি কোরআনী দোয়া উচ্চারিত হল যার ফলে কল্পনাতিত ভাবে এমন কিছু ঘটে গেল যা দেখে দুনিয়ার মানুষ হয়রান

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, প্রিয় বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, আজ আমি জ্বীনদের থেকে পাওয়া ২টি ওজিফা বলব, যে ওজিফা করলে কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, কল্পনাতিত গায়েবী খাজানা ধন সম্পদ অর্জন হয়, রাতারাতি ধনী হওয়া যায়, ওজিফাটি করে যে দোয়া করা হয় সে দোয়া সাথে সাথে কবুল হয়, ২টি ওজিফাই পরীক্ষিত ওজিফা যারাই এই ২টি ওজিফা করেছেন তাই হাতে হাতে ফল পেয়েছেন

১ম ওজিফাটি হল যা সমুদ্রের জ্বীন থেকে প্রাপ্ত

ইতিহাসে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ঘটনা বর্ণিত আছে যে, একবার কিছু লোক সমুদ্রপথে জাহাজে ভ্রমণ করছিলেন। সেই সময় সমুদ্রের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর ঝড় বা তুফান শুরু হলো, যার ফলে সবাই বিপদে পড়লেন। এই সময় এক জ্বীনের আওয়াজ শোনা গেল। জ্বীনটি বললো যে সে যাত্রীদের বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ আমল বা 'ওয়াজিফা' বলে দেবে।

কিন্তু এর বিনিময়ে জ্বীনটি এক হাজার দিনার (অন্য বর্ণনায় দশ হাজার দিরহাম) দাবি করলো। জ্বীনটি বললো, এই অর্থ তার কাছে আনার দরকার নেই; বরং সেই অর্থ যেন সরাসরি সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

জাহাজের মধ্যে একজন ধনী ব্যক্তি (সেঠ) ছিলেন। তিনি অন্যদের বিরোধিতা সত্ত্বেও, এক হাজার দিনার নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিলেন। সেই সময় বাকি যাত্রীরা তাকে নির্বোধ বলে মন্তব্য করলো।

এর কিছুক্ষণ পরেই জাহাজে বড় ধরনের বিপর্যয় এলো। জাহাজটি টুকরো টুকরো হয়ে গেল। বহু লোক মারা গেল বা ডুবে গেল। কিন্তু সেই ধনী লোকটি (যিনি টাকা ফেলেছিলেন) অলৌকিকভাবে একটি তক্তার ওপর ভেসে রইলেন। সেই তক্তাটি ভাসতে ভাসতে এক সময় কিনারায় এসে লাগলো।

তিনি খাদ্য, পানীয় এবং আশ্রয়হীন অবস্থায় সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি এক জায়গায় অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রাসাদ বা মহল দেখতে পেলেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি সেই মহলের দরজা নক করলেন। দরজা খুলে একজন অপরূপ সুন্দরী যুবতী বেরিয়ে এলেন।

যুবকটি যখন নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে খাবার চাইলেন, তখন সেই যুবতী তাকে প্রচুর সুস্বাদু খাবার দিলেন। কিন্তু খাবার শেষে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যেতে বললেন। এর কারণ হিসেবে যুবতীটি জানালেন যে, তাকে এক অত্যাচারী জ্বীন তার কব্জায় রেখেছে। সেই জ্বীনই এসব ধনসম্পদ এবং খাবার সরবরাহ করে। যুবতীটি জানান, জ্বীনটি তাকে খুব জ্বালাতন করে, এবং তার আসার সময় হয়ে গেছে।

যুবকটি বললেন, যদি জ্বীন তাকে মেরেও ফেলে, তাতে তার কোনো দুঃখ নেই, কারণ যদি আল্লাহ তাকে মারতে চাইতেন, তাহলে তিনি সমুদ্রে ডুবে যেতেন।

কিছুক্ষণ পরেই গুরুগুরু শব্দে সেই জ্বীনটি সেখানে উপস্থিত হলো। জ্বীনটি অপরিচিত যুবকটিকে দেখে খুব রেগে গেল এবং যুবতীটিকেও মেরে ফেলার হুমকি দিল। এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে সেই ধনী যুবকটি, সমুদ্রের জ্বীনের কাছ থেকে পাওয়া সেই ওয়াজিফা বা আয়াতটি পাঠ করতে শুরু করলেন।

আয়াতটি পাঠ করার সাথে সাথেই জ্বীনটি তার নিজের আগুনে জ্বলে উঠলো এবং মারা গেল।

যুবতীটি এতে খুব খুশি হলেন এবং যুবকটিকে বললেন যে সে তার জীবন রক্ষা করেছে। সেই মহলে রাশি রাশি হীরা, জহরত, সোনা-চাঁদি এবং বহুমূল্য রত্ন ছিল। তারা দুজনেই সেই সব ধনসম্পদ নিলেন এবং সেখান থেকে চলে গেলেন। তারা কিনারায় একটি নৌকা পেলেন এবং বসরা শহরে পৌঁছালেন।

যুবতীটি ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়ে। তার মা-বাবা যখন মেয়েকে ফিরে পেলেন, তখন তারা আনন্দে অভিভূত হলেন। তারা দেখলেন যে এই যুবকটি এতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, নির্জনে এতো সুন্দরী যুবতীর সাথে থাকার পরেও তার সতীত্ব রক্ষা করেছে এবং তাকে স্পর্শ করেনি। যুবকের এই পবিত্রতা দেখে তারা খুশি হলেন এবং আনন্দের সাথে সেই যুবকের সাথেই তাদের মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলেন। যুবকটি গায়েবী ভাবে ১ হাজার দিনার ও জ্বিনের দেয়া দোয়াটি পড়ার বরকতে আল্লাহর রহমতে সম্ভ্রান্ত ঘরের সুন্দরী নারীকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেলেন, জ্বীনের মহল থেকে কুড়িয়ে নেয়া কোটি কোটি দিনার সম্পদ লাভ করলেন, এবং সাথে সাথে মেয়ের মা বাবার পক্ষ থেকেও অফুরন্ত ধন সম্পদ লাভ করলেন।

আপনিও যদি সকাল সন্ধ্যায় এই ওজিফাটি করেন তাহলে সব ধরনের বিপদ আপদ থেকে আল্লাহ রক্ষা করবেন এবং ধারনাতিত জায়গা থেকে আল্লাহ ধন সম্পদ দান করবেন।

জ্বীনের শেখানো দোয়াটি হল- সমুদ্রের জ্বীনটি বিপদ থেকে মুক্তির জন্য যে বিশেষ আমলটি শিখিয়েছিল, তা মূলত কুরআনের একটি আয়াত। এই আয়াতটি হলো সুরা তালাক-এর ২য় ও ৩য় আয়াত। দোয়াটি (আয়াতটি) হলো:

وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًۭا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ (3)

ওয়ামাই ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজআল্ লাহু মাখরাজা (২) ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহ্তাসিব। (৩)

(অর্থাৎ: "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (বিপদ থেকে) নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন (২), এবং তাকে এমনভাবে রিযিক দেন যা সে ধারণাও করতে পারে না (৩)")

এই ওয়াজিফাটি সেই যুবকটি নিয়মিত পাঠ করতেন এবং পরবর্তীতে তাদের সন্তানেরাও এই আমল জারি রেখেছিলেন।

২য় ওজিফাটি আরো চমৎকার যা পড়ে আপনি আল্লাহর কাছে যা চাইবেন আল্লাহ আপনাকে তা সাথে সাথে দান করবেন, শুধু একবার এই আমলটি করে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন

হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ)তাকে বলা হতো সাইয়্যিদুত তাবিয়িন বা তাবেঈদের সর্দার। বসবাস করতেন মদীনায়

সেখানকার মুফতি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। তাকে বলা হতো ফকিহুল ফুকাহা, আলিমুল উলামা। ফকিহদের ফকিহ, আলেমদের আলেম। উমর ইবনে আবদুল আযিয যখন মদীনার গভর্নর হয়ে এলেন তখন তিনিও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের পরামর্শ ছাড়া কোনো ফয়সালা দিতেন না। অন্য আলেমরা উপস্থিত হতেন উমর ইবনে আবদুল আযিযের দরবারে, কিন্তু উমর ইবনে আবদুল আযিয স্বয়ং উপস্থিত হতেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে।

তিনি মদিনায় মসজিদে নববীতে দরস দিতেন, তৎকালিন খলিফাদের সাথে দুরত্ব বজায় রাখতেন, সরকারী কোন ভাতা গ্রহণ করতেন না, তিনি একজন অকুতভয় প্রকৃত আল্লাহওয়ালা আলেম ও ফকিহ ছিলেন, জামানার খলিফা ডাকলেও তিনি সরাসরি বলে দিতেন তার কাছে আমার কোন প্রয়োজ নাই , কিন্তু উনার খলুছিয়তের কারনে কেহ তার প্রতি চোখ রাঙ্গাতে পারতো না। 

হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ) বলেন একবার আমি মসজিদে একাকি শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ গায়েবী আওয়াজ আসল হে সাঈদ আপনি যদি একটি দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে কিছু চান আল্লাহ তা সাথে সাথে দিয়ে দিবেন

হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন সে সময় এ দোয়াটি আমাকে শুনানো হল (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা মালিকুন মুকতাদির মা তাশাউ মিন আমরিন এয়াকুন)

(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা মালিকুন মুকতাদির মা তাশাউ মিন আমরিন এয়াকুন)

হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ফরমান- এই দোয়াটি পড়ে আমি যে দোয়াই করেছি তা কবুল হয়েছে

আর যে সব মুফাসসিরিনে কেরাম তাদের নিজ নিজ তফসির গ্রন্থে এই ঘটনা লিখেছেন প্রত্যেকেই লিখেছেন  আমিও এই দোয়াটি পড়ার পর যে দোয়া করেছি আমার সে দোয়াই কবুল হয়েছে।
সুত্র: জিকরে মুতি ১খন্ড, ১০৮ পৃ

আসুন আপনিও এই দোয়াটির সাথে সাথে নিজের জন্য এভাবে দোয়া করুন

(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা মালিকুন মুকতাদির মা তাশাউ মিন আমরিন এয়াকুন) ফাছাইদনি ফিদ দারাইন, ওয়াকুনলি ওয়ালা তাকুন আলাইয়্যা, ওয়া আতিনি ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানা ওয়াকিনি আজাবান নার আপনিও যদি নিজের জন্য কিছু চাইতে হয় প্রথমে পড়বেন  (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা মালিকুন মুকতাদির মা তাশাউ মিন আমরিন এয়াকুন)

এরপর আরবীতে না পারলে নিজের ভাষায় নিজের সকল ফরিয়াদ সকল আরজি আল্লাহকে বলুন ইনশা আল্লাহ আপনার সকল ফরিয়াদ কবুল হবে

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.