২৪ ঘন্টায় ক্রোরপতি! বড় বড় সমস্যা সমাধানের ১টি দরুদ ও ইসমে আজম
২৪ ঘন্টায় ক্রোরপতি! বড় বড় সমস্যা সমাধানের ১টি দরুদ ও ইসমে আজম
প্রতিদিন আল্লাহ তায়ালার শুধু একটি নাম—‘ইসমে আজম’— এবং ১টি দরুদ শরীফ
চলতে-ফিরতে যে ব্যক্তি পড়তে থাকবে, সে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মালিক
হতে পারে। যে ব্যক্তি কোটিপতি হতে চায়, সে যেন এই আমলটি করে, এই পবিত্র
নামটি ও দরুদ শরীফটি পড়ে। পড়ার নিয়মও খুব সহজ—শুধু চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে
এটি নিজের জবানে জারি রাখুন। আমি পদ্ধতিটি বলে দিচ্ছি, আপনি আমলটি
করুন। এই পবিত্র নাম,
এই ইসমে আজমটি আপনি পড়ুন, আমার রব
কোটিপতি বানিয়ে দেবেন,
১টি দরুদ শরীফ পড়ুন যত বড় কঠিন মুশকিল হউক আল্লাহ আসান করে দিবেন।
তবে এর আগে আপনাকে সকালে বা রাতে একটি আমল করতে
হবে। দুই সময়ের মধ্যে যেকোনো একটি সময় আপনাকে বেছে নিতে হবে, আর এটা
আপনার ইচ্ছা। বাকি সারাদিন চলতে-ফিরতে
শুধু আল্লাহর একটি পবিত্র নাম পড়তে হবে। এটাই হবে এর নিয়ম। আর যে ব্যক্তি এভাবে
পড়ে, সে
খুব বেশি বছর বা মাস নয়,
প্রথম দিনেই, প্রথম
দিনেই এই আমলের বরকত নিজের জাগ্রত চোখে দেখতে পায়।
এখন যে ব্যক্তি এই আমলের অলৌকিক দৃশ্য দেখতে চায়, এই আমলের
বরকত লাভ করতে চায়,
সে এই আমলটিকে এই নিয়ম অনুযায়ী করবে। প্রথমে এই কথাটি বুঝুন যে, সকাল বা
সন্ধ্যার মধ্যে এই দুই সময়ের যেকোনো একটিতে আপনাকে কোন আমলটি করতে হবে, সেটি আগে
বুঝে নিন। এরপর আমরা চলতে-ফিরতে যে পবিত্র নামটি আপনাকে পড়তে হবে, সে বিষয়ে
কথা বলব।
আমলটি অত্যন্ত সহজ, কিন্তু এতই
শক্তিশালী যে, একদিনের
আমলেই আপনার জীবন বদলে যায়,
আপনার পরিস্থিতি বদলে যায়, আপনার ভাগ্য বদলে যাবে, আপনার নসিব বদলে যাবে। করতে হবে কী? সর্বপ্রথম
কাজ হলো, আপনাকে
শুধু এবং শুধুমাত্র সাতবার আক্বা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের
পবিত্র সত্তার ওপর দরূদ শরিফ পড়তে হবে। তবে ‘তাআউজ’ ও ‘তাসমিয়াহ’ পড়ে এই আমল
শুরু করতে হবে। প্রথমে আপনি তাআউজ পড়বেন, অর্থাৎ ‘আউযুবিল্লাহি
মিনাশ শাইতানির রাজীম,
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।’ এটি পড়ার পর এবার আপনাকে সরাসরি
হুজুরের সত্তার ওপর ১টি দরূদ শরিফ পড়তে হবে। সে দরুদ শরীফ কোনটি তা পরে বলব তার
আগে এই দরুদ শরীফ পড়ার ফলে আপনার বড় বড় ১০টি ফায়দার কথা বুঝে নিন।
১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, যে
ব্যক্তি একবার দরূদ পাঠ করে, তাকে দশটি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
২) একটি হাদিসে তিনটি পুরস্কারের কথা উল্লেখ
আছে। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন
আগমনকারী (অর্থাৎ জিবরাইল) আমার কাছে এলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর
প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার উম্মতের মধ্যে কেউ যদি একবার
দরূদ পাঠ করে, তবে
তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।"
৩) তৃতীয় পুরস্কার, আল্লাহ
রাব্বুল ইজ্জত এই একবার দরূদ পড়ার কারণে তার মর্যাদাগুলো বুলন্দ (উন্নত) করে দেন
এবং আল্লাহ তার ওপর স্বীয় রহমত নাজিল করেন।
৪) চতুর্থ পুরস্কার, আব্দুর
রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, আমিও তাঁর পিছে পিছে গেলাম। তিনি
একটি খেজুর বাগানে ঢুকলেন এবং সিজদায় চলে গেলেন। এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে, আমি ভয়
পেতে লাগলাম। কিসের ভয়?
এই ভেবে যে, তিনি
বুঝি মহান রবের কাছে চলে গেলেন। যখন তিনি তাঁর মোবারক মাথা উঠালেন, বললেন, "আব্দুর
রহমান! আব্দুর রহমান,
কেন পেরেশান হচ্ছ?"
তিনি বললেন,
"হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনাকে এত
দীর্ঘ সিজদা করতে দেখে আমি ভয়ে পেরেশান হয়ে গেছি।" তিনি বললেন, "আমার কাছে
জিবরাইল এসেছিলেন এবং তিনি এসে এই খবর দিলেন, 'হে আল্লাহর প্রিয় হাবিব! আমি কি
আপনাকে সুসংবাদ ও খুশির খবর দেব না?' আমি বললাম, 'কেন নয়, সুসংবাদটি
কী?' আল্লাহর
পক্ষ থেকে বার্তা এসেছে,
যে ব্যক্তি আপনার ওপর সালাত পড়বে, দরূদ পড়বে, আমি তার
ওপর রহমত নাজিল করব। আর যে আপনাকে সালাম জানাবে, আল্লাহ বলেন, 'হে আমার
হাবিব! আমি তার ওপর শান্তি অবতীর্ণ করব।' আমি এই সুসংবাদটি শুনেই আল্লাহর
শুকরিয়া আদায় করার জন্য সিজদা করেছি।"
৫) আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বর্ণনা করেন, পঞ্চম
পুরস্কার, "হে
আল্লাহর প্রিয় হাবিব! ভূপৃষ্ঠে কেউ যদি একবার আপনার ওপর দরূদ পাঠায়, সে তো কেবল
একবার জবান নাড়ালো,
কিন্তু আমি এবং আমার সমস্ত নূরানী ফেরেশতা দুটি কাজ করব— আমি দশবার
তার ওপর রহমত নাজিল করব এবং যত নূরানী সৃষ্টি (ফেরেশতা) আছে তারা দশবার তার ক্ষমার
জন্য দোয়া করবে।"
৬) ষষ্ঠ পুরস্কার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"যে ব্যক্তি একবার দরূদ পাঠায় (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
আলিহি), একবার
দরূদ পাঠকারী কতই না সৌভাগ্যবান! আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তার ওপর ৭০ বার রহমত নাজিল
করেন এবং কোটি কোটি সংখ্যক ফেরেশতা ৭০ বার সেই মুমিন বান্দার ক্ষমার জন্য দোয়া
করে।"
৭) সপ্তম পুরস্কার, দরূদ শরীফ
পড়ার ৭ম পুরস্কারটি অত্যন্ত চমৎকার এবং মর্যাদাপূর্ণ। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ
(রা.) থেকে এই বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। আপনি
যখনই ভালোবেসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরূদ পাঠ করেন, তখন আপনার
নামটি সরাসরি নবীজির কাছে আলোচনা করা হয়। এটি কীভাবে পৌঁছায় বা এর প্রকৃত রূপ কেমন—তা কেবল
মহান আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু আপনার দরূদ যে নবীজির দরবারে সসম্মানে পেশ করা হয়, এটি
নিশ্চিত! নবীজি
(সা.) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার ওপর যত বেশি দরূদ পাঠ করবে, সে
দুনিয়াতেও আমার কাছে থাকবে এবং কিয়ামতের কঠিন ময়দানেও সে-ই আমার সবচেয়ে কাছাকাছি
থাকবে।" অর্থাৎ,
বেশি বেশি দরূদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন নবীজির বিশেষ নৈকট্য বা ভিআইপি মর্যাদা
লাভ করবেন। আমরা যদি দরূদ নাও পড়ি, তাতে
নবীজির সম্মানের বিন্দুমাত্র কমতি হবে না। সাহাবীরা বর্ণনা করেন, প্রতিদিন
সকালে ৭০ হাজার ফেরেশতা এসে নিজেদের ডানা দিয়ে অত্যন্ত আদবের সাথে সন্ধ্যা পর্যন্ত
নবীজির রওজা মোবারক ঢেকে রাখেন। আর কিয়ামতের দিন যখন নবীজি (সা.) রওজা থেকে বের
হবেন, তখন
তিনি এই ৭০ হাজার ফেরেশতার এক বিশাল রাজকীয় প্রটোকল বা সম্মানজনক পাহারায় হাশরের
ময়দানে তাশরীফ আনবেন!
৮) অষ্টম পুরস্কার, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন
করলেন, "ইয়া
রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি কতটুকু দরূদ পড়ব? আমি যদি
আমার দোয়ার একাংশ দরূদ পড়ি এবং দোয়াও করি?" তিনি বললেন, "যদি আরও
বেশি পড়ো, তবে
আরও ভালো, এটাও
ভালো।" সাহাবী বললেন,
"অর্ধেক দরূদ পড়লে?" নবীজি বললেন, "তুমি যা
চাও, বেশি
করলে আরও উত্তম।" সাহাবী বললেন, "যদি দুই-তৃতীয়াংশ দরূদ পড়ি, তবে আপনি
কী বলবেন?" তিনি
বললেন, "হে
আমার সাহাবী, আরও
পড়ে নিলে আরও ভালো।" সাহাবী বললেন, "আমি যদি কেবল দরূদই পড়তে থাকি?" তখন তিনি
বললেন, "তাহলে
দুটি সুসংবাদ নিয়ে নাও,
যখন তুমি দরূদই পড়তে থাকবে, তখন জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্টও দূর হয়ে যাবে এবং জীবনে কৃত
সমস্ত গুনাহও আল্লাহ মাফ করে দেবেন।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠকারী প্রত্যেক দুঃখ
থেকে মুক্ত হয়ে যায়। তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
৯) নবম পুরস্কার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার জন্য অসীলা প্রার্থনা করে যেমন আযানের পর
বলি (ওয়াবায়াসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাজি ওয়াআত্তা) (এই দোয়া যা আমরা পড়ি), কিয়ামতের
দিন আমি মুহাম্মদ তার সুপারিশ করব।"
১০) দশম পুরস্কার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছাকাছি সেই ব্যক্তি থাকবে, যে
দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি দরূদ পাঠ করত।" আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের তাঁর
হাবিবের উপর বেশী বেশী দরুদ ও সালাম পেশ
করার তৌফিক দান করুন আমিন।
আজকের ওজিফার সময় যে দরুদ শরীফটি পড়বেন সেটার
অভুতপূর্ব কিছু ফজিলত আছে এই দরূদটি মূলত
যেকোনো মুসিবত থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির চাবি। এর প্রধান উপকারিতাগুলো হলো: যেকোনো
প্রাকৃতিক দুর্যোগ,
মহামারি বা কঠিন বিপদ থেকে আল্লাহ এই দরূদের উসিলায় রক্ষা করেন।এটি নিয়মিত পাঠ
করলে দুনিয়া ও আখেরাতের যেকোনো নেক উদ্দেশ্য আল্লাহ পূরণ করে দেন।এই দরূদের
মাধ্যমে বান্দার আত্মিক পরিচ্ছন্নতা লাভ হয় এবং আল্লাহর দরবারে মর্যাদা বহুগুণ
বেড়ে যায়। দুশ্চিন্তা,
বিষণ্ণতা ও ঋণগ্রস্ততা দূর করতে এই দরূদ চমৎকার কাজ করে
এই দরুদের একটি বিখ্যাত অলৌকিক ঘটনা আছে- ঘটনাটি
হলো- একবার শায়খ মুসা আল-যরীর একটি বড় জাহাজে করে সমুদ্রভ্রমণে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ
সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো। ঝড় এতটাই তীব্র ছিল যে, জাহাজের
মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলো এবং বিশাল বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটি ডুবুডুবু
অবস্থা ধারণ করল।
জাহাজের ক্যাপ্টেন ও সমস্ত আরোহী নিশ্চিত
মৃত্যুর কথা ভেবে কান্নাকাটি শুরু করলেন এবং আল্লাহর কাছে শেষ আকুতি জানাতে
লাগলেন। শায়খ মুসা বলেন,
"চারদিকের এই হাহাকারের মধ্যে আমার চোখ কিছুটা লেগে এলো।
তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমি স্বপ্নে স্বয়ং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জিয়ারত
লাভ করলাম।"
নবীজি (সা.) স্বপ্নে শায়খ মুসাকে অত্যন্ত কোমল
সুরে বললেন: "তুমি
জাহাজের আরোহীদের বলো, তারা যেন এই দরূদটি (দরূদে তুনাজ্জিনা) এক হাজার
বার পাঠ করা শুরু করে।"
শায়খ মুসা আল-যরীর (রহ.) সাথে সাথে জেগে উঠলেন
এবং জাহাজের সবাইকে নবীজি (সা.)-এর নির্দেশিত এই দরূদটির কথা জানালেন। মৃত্যুর
মুখে দাঁড়িয়ে সমস্ত আরোহী অত্যন্ত ইখলাস ও কাতর অন্তরে দরূদটি পড়তে শুরু করলেন।
শায়খ মুসা বলেন, "আমরা সবাই
মিলে যখন দরূদটি মাত্র ৩১৩ বার পড়ে শেষ করেছি, ঠিক তখনই
অলৌকিকভাবে সমুদ্রের সেই ভয়ংকর ঝড় একদম থেমে গেল! আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল এবং
জাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদে ডুবে যাওয়া থেকে বেঁচে গেল।"
এই ঘটনার পর থেকেই এই দরূদটির নাম হয়ে যায় 'দরূদে
তুনাজ্জিনা' বা
'মুক্তির
দরূদ'। যুগের
পর যুগ ধরে বড় বড় ওলি-বুজুর্গগণ যেকোনো কঠিন সংকটে এই দরূদের আমল করে আল্লাহর
সাহায্য লাভ করেছেন।
আমলের সহজ নিয়ম
সাধারণ অবস্থায়: প্রতিদিন ফজর বা এশার নামাজের পর ৩ বার, ৭ বার বা ১১ বার এই দরূদটি পড়ার অভ্যাস করা অত্যন্ত
কল্যাণকর।
বিশেষ প্রয়োজনে: আপনার যদি
বড় কোনো সমস্যা বা মনের তীব্র কোনো ইচ্ছা থাকে, তবে রাতের বেলা ওজু করে নির্জনে বসে
এই দরূদটি ৩১৩
বার পড়ে
আল্লাহর কাছে হাত তুলে কান্না করে দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর রহমতে
সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
দরূদে তুনাজ্জিনা (উচ্চারণ ও অর্থ)
"আল্লাহুম্মা
সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন সালাতান তুনাজ্জিনা বিহা মিন জামিয়িল আহওয়ালি
ওয়াল আফাত, ওয়া
তাকদি লানা বিহা জামিয়াল হাজাত, ওয়া তুতাহহিরুনা বিহা মিন জামিয়িস সাইয়্যিআত, ওয়া
তারফাউনা বিহা ইনদাকা আ’লাদ্
দারাজাত, ওয়া
তুবাল্লিগুনা বিহা আকসাল গায়াত মিন জামিয়িল খাইরাতি ফিল হায়াতি ওয়া বা’দাল
মামাত।"
বাংলা অর্থ:"হে আল্লাহ! আমাদের নেতা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এমন
দরূদ নাজিল করুন, যার বরকতে আপনি
আমাদের সমস্ত ভয়-ভীতি ও বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন; আমাদের সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করবেন; আমাদের সমস্ত পাপ থেকে পবিত্র করবেন; আপনার দরবারে আমাদের উচ্চ মর্যাদা দান করবেন এবং আমাদের জীবনের ও মৃত্যুর পরের
সমস্ত কল্যাণময় আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমানায় পৌঁছে দেবেন।"
এবার আল্লাহর নামের ওজিফাটির ফজিলত এবং সে
ওজিফাটি কিভাবে করবেন তা বুঝে নিন। ওজিফাটি করলে অভাব ও দারিদ্র্য দূর হবে।
ধন-সম্পদে কল্পনাতীত বরকত ও প্রাচুর্য আসবে। এই আমলের
পর যেকোনো নেক হাজত (যেমন- বিয়ে, ভিসা, চাকরি, বাড়ি বা যেকোনো সমস্যা) আল্লাহর কাছে চাইলে তা দ্রুত পূরণ
হয়। সমাজে, পরিবারে বা
কর্মস্থলে হারানো সম্মান ফিরে পাওয়া যায়। মানুষ আপনার প্রতি সদয় হবে এবং সম্মান
করবে।
আমল করার সহজ নিয়ম হল মূল আমলটি দিনে একবার করতে হবে (সকালে বা সন্ধ্যায় যেকোনো
একটি নির্দিষ্ট সময়ে)। এই আমলটি অবশ্যই ওজু অবস্থায় করতে
হবে।
১. শুরুতে: একবার 'আউযুবিল্লাহ'
ও 'বিসমিল্লাহ'
পড়ে দরুদে তুনাজ্জিনা ৭
বার পড়ুন। দরুদে তুনাজ্জিনা আমি আগেই উল্লেখ করেছি ২. অন্তর
দিয়ে জিকির: এরপর চোখ বন্ধ করে ১ থেকে ৩ মিনিট মুখে কোনো শব্দ না করে
নীরবে শুধু অন্তর দিয়ে 'আল্লাহ,
আল্লাহ'
স্মরণ করুন।
৩.
আবার দরূদ: চোখ
খুলে পুনরায় ৭ বার দরূদে তুনাজ্জিনা পড়ুন। ৪. সূরা
ফাতেহা পাঠ: এরপর সূরা ফাতেহা ৪১ বার
পড়ুন। (খেয়াল রাখবেন,
প্রতিবার সূরা ফাতেহা পড়ার শুরুতেই 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'
পড়তে হবে)।
৫.
ইসমে আজম পাঠ: সূরা
ফাতেহা পড়া শেষ হলে আল্লাহর পবিত্র নাম ইসমে আজম
"ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম" ৪১ বার এবং
"ইয়া রাফিউ" ২১ বার পড়ুন। ৬.
সবশেষে
"ইয়া আরহামার রাহিমিন" পড়ে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে নিজের
যেকোনো নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করুন।
সারা দিনের আমল মূল আমলটি নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার পর,
সারাদিন যখনই সময় পাবেন (ওজু সহ বা ওজু
ছাড়া যেকোনো অবস্থায়) আল্লাহর নামগুলি
পড়বেন—
"ইয়া ফাত্তাহু ইয়া আল্লাহ " (হে
উন্মোচনকারী) জীবিকা বা উপার্জনের সমস্ত বন্ধ
রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য এই নাম উপযুক্ত।
পড়ার নিয়ম: প্রতিদিন
সকালে কাজ বা ব্যবসা শুরু করার আগে ‘ইয়া ফাত্তাহু’ পাঠ করলে
কাজে বরকত আসে।
" ইয়া বাসিতু ইয়া
আল্লাহ"(হে রিজিক প্রশস্তকারী) আল্লাহ
যার জন্য ইচ্ছা রিজিক সংকুচিত করেন, আর যার জন্য ইচ্ছা রিজিক বাড়িয়ে
দেন। ব্যবসার মন্দা ভাব দূর করতে এবং আয়ের রাস্তা বড় করতে এই নাম অত্যন্ত কার্যকর।
পড়ার নিয়ম: চাশতের
নামাজের পর (কিংবা প্রতিদিন সকালে) হাত তুলে ‘ইয়া বাসিতু’ পাঠ করে
নিজের মুখে হাত মুছলে রিজিকের সংকীর্ণতা দূর হয়।
ইয়া গানিয়্যু ইয়া আল্লাহ ( হে পরম ধনী) ইয়া মুগনি ইয়া আল্লাহ ( হে অভাব মুক্তকারী) যিনি তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে দরিদ্র ও
অসহায় বান্দাকে ধনী ও অভাবমুক্ত বানিয়ে দেন।
পড়ার নিয়ম: আল-গানিয়্য
ও আল-মুগনি নাম দুটি একসাথে মিলিয়ে ‘ইয়া গানিয়্যু ইয়া মুগনি’ হিসেবে
জিকির করা বুজুর্গদের পরীক্ষিত একটি আমল।
ইয়া রাজ্জাকু ইয়া আল্লাহ ( হে
রিজিকদাতা) রিজিক বৃদ্ধির জন্য এটি সবচেয়ে
প্রধান ও উপযুক্ত নাম। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ কাউকে রিজিক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা বা যেকোনো নামাজের পর ‘ইয়া
রাজ্জাকু’ জিকির করলে
আল্লাহ অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন এবং অভাব দূর করেন।
ইয়া ওয়াহহাবু ইয়া আল্লাহ ( হে
মহাদানকারী) হযরত সুলাইমান (আ.) এই নাম ধরে দোয়া
করেছিলেন এবং আল্লাহ তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাজত্ব ও সম্পদ দিয়েছিলেন।
সেজদায় গিয়ে বা দোয়ার মধ্যে ‘ইয়া
ওয়াহহাবু’ বেশি বেশি পাঠ করলে সম্পদ লাভ সহজ হয়।
—এই নামগুলো সারাদিন বেশি বেশি পড়তে থাকবেন। এতে রিজিক ও সফলতার বন্ধ দরজাগুলো
খুলে যাবে, এবং বড় বড় কঠিন থেকে কঠিন বিপদগুলি কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।
কোন মন্তব্য নেই