যে আমলটি করলে দুনিয়া আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। Powerfull wazifa ইবাদতে মজা পাওয়ার উপায়
যে আমলটি করলে দুনিয়া আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। Powerfull wazifa ইবাদতে মজা পাওয়ার উপায়
যদি আপনার উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আজকের এই
ভিডিওটি শুধু আপনার জন্য। আজ আমি আপনাকে এমন এক গোপন আমল এবং সত্যের মুখোমুখি করব,
যা আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। শুধু ইবাদতের স্বাদই ফিরিয়ে দেবে
না, বরং স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই গোটা দুনিয়াকে আপনার
হাতের মুঠোয় এনে দেবেন!
কিন্তু আফসোসের বিষয় কী জানেন?
আজ অনেক মানুষ নামাজ পড়ে, কিন্তু নামাজে শান্তি পায় না। কুরআন পড়ে, কিন্তু চোখে পানি আসে না।
তাহাজ্জুদ পড়ে, কিন্তু হৃদয় নরম হয় না। সিজদা
করে, কিন্তু মনে হয় শুধু শরীর ঝুঁকছে—হৃদয়
ঝুঁকছে না! আপনার সাথেও কি এমন হয়? নামাজে দাঁড়িয়ে আছেন,
কিন্তু মাথায় ব্যবসার চিন্তা… মোবাইলের চিন্তা…
মানুষের চিন্তা… দুনিয়ার চিন্তা…
সিজদায় গিয়েও হৃদয় কাঁদে না! কেন এমন হচ্ছে? কেন ইবাদত আজ আমাদের কাছে বোঝা হয়ে গেছে?
কেন আগে মানুষ নামাজে কাঁদত, আর আজ আমরা নামাজ
শেষ হওয়ার অপেক্ষা করি? জানেন, এর কারণ
কী? কারণ আমাদের হৃদয় দুনিয়ায় ভরে গেছে, আর আল্লাহর ভালোবাসা হৃদয় থেকে কমে গেছে। আজকের এই আলোচনায় আমি এমন কিছু
গোপন রহস্য বলবো— যেগুলো মেনে চললে ইনশাআল্লাহ—
নামাজে স্বাদ পাবেন, কুরআন পড়লে হৃদয় কাঁদবে
দোয়া করলে চোখে পানি আসবে, মসজিদ ছাড়া ভালো লাগবে না, আর আল্লাহ
এমনভাবে সাহায্য করবেন—, যে দুনিয়াও আপনার হাতে ধরা দিতে
শুরু করবে!, আজকের আলোচনা শেষ পর্যন্ত শুনুন…
কারণ হয়তো এই একটি বয়ানই আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। কীভাবে?
জানতে হলে ভিডিওটি একদম শেষ পর্যন্ত না টেনে দেখতে থাকুন।
(ওয়ামা খালাকতুল
জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন)
সুরা যারিয়াত-৫৬
আল্লাহ যদিও বলেছেন আমি জ্নি ও মানুষকে এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি কিন্তু তাদেরকে মজবুর করেননি তাই দেখবেন বেশীরভাগ মানুষই এবাদত থেকে বিমুখ,
এবাদতের ব্যপারে তাকে স্বাধিনতা দিয়েছে,
যদি ফেরেশতার মত মাণুষকে এবাদতে বাধ্য করা হত তাহলে তাতে কোন রকম স্পেশালিটি থাকতনা। বাধ্য না করা সত্বেও যদি এবাদত করি তাতেই ফায়দা যেমন-
আমরা যদি নিজজঝাট ভাবে আল্লাহর এবাদত করি তাহলে মনের সকল পেরেশানি দুর হয়ে যাবে,
সকল অভাব দুর হয়ে যাবে যেমন
তিরমিযি শরীফের ২৪৬৬ নং হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِلاَّ تَفْعَلْ مَلأْتُ يَدَيْكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ "
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদাতের জন্য
যথাসাধ্য চেষ্টা কর, আমি
তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দিব এবং তোমার অভাব দূর করে দিব। তুমি তা না
করলে আমি তোমার দুইহাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দিব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করবো না।
এবাদতে মজা পাওয়ার জন্য ৩টি কাজ ছেড়ে দিবেন!
রহমত বিন হারব বয়ান করেন আমি ৫০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর এবাদত করেছি কিন্তু যতদিন আমি ৩টি কাজ ছাড়িনি ততদিন আমি এবাদতে মজা অনুভব করিনি।
(১)(তারাকতু রিদান্নাস) আমি মানুষকে
খুশি করা ছেড়ে দিয়েছি তখন আল্লাহ আমার জবান দিয়ে হক কথা বলার শক্তি দিয়েছেন।
(২) (তারাকতু ছুহবাতাল
ফাসিকিন হাত্তা ওয়াজাদতু ছুহবাতাস ছোলিহিন)
আমি ফাসেকদের সংগ ছেড়েছি আল্লাহর তার বদলায় নেক বন্ধু দিয়ে দিলেন।
-নেক লোকের ছোহবত কতটা গুরুত্বপূর্ণ? একটা ঘটনা শুনলে বুঝতে পারবেন এক যুবক রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে
মুসলমান হয়ে বলল, "আমি
মুসলমান হলাম, কিন্তু আমাকে জিনা করার অনুমতি দিন!"
নবীজি (সা.) রাগ না করে তাকে কাছে টেনে বললেন, "কেউ যদি
তোমার মা, বোন, কন্যা বা স্ত্রীর সাথে
এই কাজ করতে চায়, তুমি কি মেনে নেবে?" যুবক তলোয়ার বের করে বলল, "আমি তার গর্দান ফেলে
দেব।" নবীজি (সা.) বোঝালেন, তুমি যার সাথে জিনা করতে
চাও, সেও তো কারও না কারও আপনজন। এই এক কথায় যুবক কেঁদে তওবা
করল এবং নবীজি তার বুকে হাত রেখে তিনটি দোয়া করলেন—তার গুনাহ মাফের জন্য, অন্তর পরিষ্কারের জন্য এবং লজ্জাস্থান
পবিত্র রাখার জন্য।
আপনারা যদি বড়
কোনো আল্লাহওয়ালার দেখা না-ও পান,
তবে নিজ এলাকার মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনের সামনে গিয়ে বসে থাকবেন।
#হাসান বসরি (রহ.) বলেন: "আলেমগণ যদি না থাকতেন,
তবে সাধারণ মানুষ চতুষ্পদ
জন্তুর মতো হয়ে যেত। কারণ আলেমরা শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে পশুর স্তর থেকে মানুষের
স্তরে উন্নীত করেন।"
#হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) বলেন "যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের সংস্পর্শ ত্যাগ করে এবং তাদের অবজ্ঞা করে,
সে মূলত নিজের আখেরাতকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।"
সাহাবীরা নবীর
সঙ্গ পাওয়ার জন্য পাগল ছিলেন- আর আমরা আলেম ওলামাদের থেকে দুরে দুরে পালিয়ে পালিয়ে
থাকি
বুখারী শরীফের ৭১৫৩ নং হাদিস-
একদা এক ব্যক্তি(সাহাবী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
কেয়ামত কবে হবে? নবীজী প্রশ্ন করলেন: কেয়ামতের জন্যে কী প্রস্তুতি নিয়েছ? সাহাবী বলেন:
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি, নবীজী বললেন:
তুমি যাকে ভালোবাস, তার সাথেই থাকবে! হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথায় আমরা এতটা আনন্দিত হয়েছি যে, ইসলাম
গ্রহণের পর অন্য কোন কারণে আর এতটা আনন্দিত হইনি। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি আল্লাহকে ভালোবাসি, ভালোবাসি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও হযরত আবু বকর এবং
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকেও। আমার আমল যদিও তাঁদের সমতূল্য নয় তবুও আমি আশাবাদী, আমি পরকালে তাঁদের সঙ্গেই থাকবো
#আমরাও
গুনাহগার এখন আমরা যদি কোন একজন আল্লাহ ওয়ালাকে ভালোবাসি তার সংস্পর্শে থাকি তাহলে
কিয়ামতের কঠিন মাঠেও উনার সাথে থাকতে পারব।
হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) নবীর ছোহবতে থাকাকে বেশী
পছন্দ করতেন তাই তিনি ছিদ্দিক আকবর হয়েছেন। এখন নবীতো নাই তবে নবীর ওয়ারিশগন
আল্লাহওয়ালাগন আছেন তাদের সাথে বসতে হবে তাদের মজলিশে এটেন করতে হবে তাহলেই আমাদের
কাছে এবাদতেত মজা আসবে।
একদিন জিবরাইল (আ) নবীজির খেদমতে আতহারে
হাজির হলেন হুজুর (দ) দেখলেন জিবরাইল (আ) ২টি কম্বল জড়িয়ে আছেন। ২টি
কম্বল হল ১টি কম্বলকে ছিড়ে ১ টুকরা উপরের অংশে পরিধান করেছেন, ২য় অংশ নিচের অংশে পরিধান
করে রেখেছেন। আর সে কম্বলকে আটকানোর জন্য গাছের কাটা লাগিয়ে রেখেছেন।
যখন হুজুর (দ) জিবরাইলকে এই অবস্থায়
দেখলেন তখন প্রশ্ন কররেন (মা শানুকা এয়া জিবরিল) হে জিবরাইল তোমার এ কি
অবস্থা? জিবরাইল
জবাব দিল এয়া রাসুলাল্লাহ এটা শুধু আমার পোষাক নয় আজ আসমানের সকল মাখলুকের পোষাকই
এটা।
হুজুর আবার প্রশ্ন করলেন হে জিবরাইল ফেরেশতা ও হুর গেলমানের
পোষাকতো আলিশান পোষাক হয়, কিন্তু আজ এমন পোষাকের রহস্য কি?
তখন জিবরাইল আরজ করলেন (উনজুর ইলা সিদ্দিক) হুজুর আপনি একটু এই
দরবারের কোনে বসে থাকা আপনার আবু বকরের দিকে তাকিয়ে দেখুন। হুজুর তাকিয়ে দেখলেন
আবু বকর সিদ্দিক এক কোনায় বসে আছে কিন্তু আজ আবু বকরের গায়ে কম্বলের ২টি টুকরা আর
তাতে বোতামের জায়গায় গাছের কাঁটা লাগিয়ে রেখেছে।
হুজুর (দ) জিজ্ঞেস করলেন ও আবু বকর
আজ আপনি এটা কেমন পোষাক নিয়ে এসেছেন? আরজ করলেন এয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কাছে মাত্র ১ জোড়া
কাপড় আছে তা আজ ধুয়ে দিয়েছি, মৌসুমের কারনে কাপড় শুকায়নি, কিন্তু আপনার মজলিশে না এসে
আমি থাকতে পারিনা তাই আমার ঘরের এই কম্বলটি দুই টুকরা করেছি ১টি উপরে পরিধান করেছি
১টি নিচে পরিধান করেছি, এয়া রাসুলাল্লাহ রাস্তা দিয়ে আসার সময় আমি বোতামের জায়গায়
গাছের কাটা লাগিয়ে দিয়েছি।
জিবরাইল আরজ করল এয়া রাসুলাল্লাহ আবু বকর আপনার ভালবাসায়
মগ্ন হয়ে এই পোষক পরিধান করে যখন রওয়ানা হল তা দেখে আরশের মালিক মহান রবের খুব
পছন্দ হয়ে গেল তাই রাব্বুল আলামিন আসমানি সকল মাখলুককে আবু বকরের মত পোষাক পরিধান
করার হকুম দিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ
তাহলে এবাদতে মজা পেতে হলে বান্দাকে রাজি করা বাদ দিয়ে
আল্লাহকে রাজি করার নিয়ত করতে হবে।
অসৎ বন্ধুদের বাদ দিয়ে নেককার লোকের ছোহবত এখতিয়ার করতে
হবে। তারপর ৩ নং হল
(৩) (তারাকতু হালাওয়াতাদ
দ্দুনিয়া হাত্তা ওয়াজাদতু হালাওয়াতুল আখেরাহ)
দুনিয়ার মজা ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে আল্লাহ আপনাকে দুনিয়ার
মজা আখেরাতের মজা ২টাই দিয়ে দিবেন।
দুনিয়ার মজা কি?
আপনার টিভি সিরিয়াল দেখতে মজা লাগে,
আপনার বাজারে গিয়ে দোকানে বসে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে,
আপনার ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে মজা লাগে,
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে ভালো লাগে,
মোবইলে গেইম খেলতে মজা লাগে,
রাত জেগে জেগে গল্প করতে মজা লাগে,
ফেসবুকে রিল দেখতে মজা লাগে এভাবে দুনিয়ার কি কি জিনিষ আপনার মজা লাগে যা আপনাকে মসজিদে যেতে দেরী করে দেয়,
নামাজে গেলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসতে টানে সে সব জিনিষের ১টা লিস্টি করবেন আর মাসে ১টি ১টি ছেড়ে দেয়ার চেস্টা করেন এভাবে যদি আপনার ১২টি দুনিয়ার মজাদার অভ্যাস থাকে ১ বছরে আপনি সবগুলি ছেড়ে দিতে সক্ষম হবেন তারপর দেখবেন আপনার আগে কেহ মসজিদে যেতে পারেনা,
আপনার পর মসজিদে কেহ থাকেনা।
# মালিক ইবনে দীনার (রহ.): বলেন-"দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো আল্লাহর ইবাদতের স্বাদ ও
আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।"
একদিন ফজরের নামাজের পর
হুজুর (দ) এক সাহাবীকে প্রশ্ন করলেন
(কাইফা
আসবাহতা) হুজুর (দ) এর আদত ছিল তিনি ফজর
নামাজের পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসতেন জিকির আযকার করতেন, সাহাবীদের হাল হাকিকত
জিজ্ঞেস করতেন, কে কি
স্বপ্ন দেখেছে তাও জিজ্ঞেস করতেন আর তার ব্যাখ্যাও করতেন।
এক সাহাবীকে একদিন যখন
প্রশ্ন করলেন তুমি আজ কিরকম সকাল করলে? সে অসাধারণ জবাব দিল। (আসবাহতু মুমিনুন হাক্কান
এয়া রাসুলাল্লাহ) হে
আল্লাহর রাসুল আমারতো আজ সত্যিকারের মুমিনের মত সকাল হয়েছে। তখন হুজুর (দ) এরশাদ করলেন প্রত্যেক
কিছুর একটি গুন থাকে যা দ্বারা মানুষ তাকে চিনতে পারে, এখন তুমি যে বলছ তোমার
সত্যিকারের মুমিনের মত সকাল হয়েছে তা কেমন একটু আমাকে বুঝিয়ে বল। তখন সাহাবী জবাব
দিল (কাআন্নি
আনজুরু ইলাল জান্নাহ) আমার মনে হচ্ছে যেন আমি জান্নাত দেখতে পাচ্ছি। (ওয়া কাআন্নি আনজুরু ইলান
নার) এবং
আমার মনে হচ্ছে যেন আমি জাহান্নামের আযাব দেখতে পাচ্ছি।
এই অবস্থা এই অনুভুতিটাই
হল শক্তিশালি ঈমানের নিদর্শন। কারো ঈমান যদি এই পর্যায়ে হয়ে যায় যে সে যেন জান্নাত
দেখতে পাচ্ছে, সে যেন
জাহান্নাম দেখতে পাচ্ছে, সে যেন নামাজে আল্লাহকে দেখতে পাচেছ সেটা হল এহসানে ইসলাম।
যদি কারো ভিতর এই অনুভুতিটি জাগ্রত হয়ে যায় তাহলে
আল্লাহ জন্য মেহনত, আল্লাহর জন্য চেষ্টা প্রচেষ্টা, আল্লাহর ভয়, আল্লাহর জন্য এবাদত, এই সব কিছুর মধ্যে
সৌন্দয্য চলে আসবে । আর এই কাইফিয়ত এই অবস্থা সৃষ্টি হবে গভির বিশ্বাসের দ্বারা।
সে জন্য নবী
(আ)
ফরমান
(আন তাবুদাল্লাহা কায়ান্নাকা তারাহু)
এমন ভাবে এবাদত কর যেন তুমি তাকে দেখতে পাচ্চ। (ফাইন লাম তাকুন তারাহু ফাইন্নাহু
এয়ারাক)
যদি তুমি দেখতে নাও পাও তাহলে চিন্তা করা তিনি তোমাকে দেখছেন।
তিরমিযি ২৩৯১ নং হাদীস ৭ শ্রেণীর লোক কেয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাবেন তাদের মধ্যে ২য় ও ৩য় প্রকারের লোক হল
(২) যে যুবক আল্লাহর এবাদতের
মধ্যে বড় হয়েছে
৩)যে ব্যক্তি মাসজিদ হতে বেরিয়ে গেলেও তার অন্তর মসজিদের
সাথে সম্পৃক্ত থাকে, যে
পর্যন্ত না সে আবার সেখানে ফিরে আসে, মসজিদে থেকে যাওয়ার পরও বারবার ঘড়ির দিকে তাকায়।
এবাদত করতে মন চায়না কি করবেন?
যে জিনিষ করতে মন চায়না সেটা বেশী বেশী করা আরম্ভ করে দিতে হবে। তাই অনিচ্ছা
সত্বেও ফরযের পাশাপাশি বেশী বেশী নফলও পড়তে হবে।
দেখুন যারা পান সিগারেট খায় প্রথম প্রথম পান সিগারেট খায় তেমন ভালো লাগেনা কিন্তু একসময় সে পান সিগারেট এর এমন প্রেমে পড়ে যায় পান সিগারেট ছাড়া থাকতেই পারেনা।
তেমনি নামাজও প্রথম প্রথম অনিচ্ছা হলে পড়তে পড়তে এমন একসময় আসবে নামাজ পড়া ছাড়া থাকা মশকিল হবে।
এখন সে
মহামূল্যবান হাদিসটি শুনে রাখুন যেখানে দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় আনার ফর্মূলা আছে-
আমরা অনেকেই ভাবি, শুধু
ইবাদত করলে দুনিয়ার কাজ চলব কী করে? সংসার চলব কীভাবে?
তিরমিযী শরীফের ২৪৬৬ নম্বর হাদিসটি বুঝলে আজ আপনার চোখ খুলে যাবে।
সে হাদিসটি আমি আগেও বলেছি হয়ত আপনারা প্রিয় নবীর সে দুনিয়া হাতের মুঠোয় নেয়ার
ফর্মূলাটি বুঝেন নি তাই হাদিসটি আবার বুঝিয়ে দিচ্ছি
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِلاَّ تَفْعَلْ مَلأْتُ يَدَيْكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ "
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ফরমান:
"হে আদম সন্তান! তুমি সমস্ত ব্যস্ততা
ছেড়ে আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করো। আমি তোমার অন্তরকে ধনে-ধান্যে
(ঐশ্বর্যে) পূর্ণ করে দেব এবং তোমার সব অভাব দূর করে দেব। আর তুমি যদি তা না করো,
তবে আমি তোমার দুই হাতকে দুনিয়ার কর্মব্যস্ততায় ডুবিয়ে দেব, কিন্তু তোমার অভাব-অনটন কখনোই শেষ করব না।"
সুবহানাল্লাহ! ফর্মুলাটা কত সহজ দেখছেন? আপনি আল্লাহর হয়ে যান, আল্লাহ দুনিয়াকে
আপনার গোলাম বানিয়ে দেবেন। দুনিয়া আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে!
আপনারা দেখবেন অনেক লোক রাত দিন কাজ করে ঘরের সকলেই চাকরী
করে ইনকাম করে স্বামী স্ত্রী, পুত্র কন্যা সকলেই কাজ করে তবুও ঘরের অভাব দুর হয়,
সকলেই প্রচুর ব্যস্ত তবুও অভাব অনটন ছাড়ে না। কিন্তু সে যদি আল্লাহর এবাদতের সময়
হলে সকল ব্যস্ততাকে একপাশে রেখে নির্ঝঞ্জাটভাবে একাগ্রতার সাথে আল্লাহর এবাদতে
মগ্ন হতে পারে দেখবেন আল্লাহ কিভাবে পুরা দুনিয়া তার হাতের মুঠোয় এনে দেন।
আমরা দুনিয়া নিয়ে এতই মগ্ন হয়ে গেছি আখেরাত ভুলে গেছি তাই আমাদের কাছে এবাদত মজা লাগেনা-
আল্লাহ নবী এরশাদ করেন
(সাএয়াতি যামানুন
আলা উম্মাতি-
ইউহিব্বুনা হামসাও ওয়া এয়ানসাওনা খামসা)
আমার উম্মতের উপর এমন যামানা আসবে তারা ৫টি জিনিষকে ভালবাসকে ৫টি জিনিষকে ভুলে যাবে।
১)
(ইউহিব্বুনাদ দুনিয়া ওয়া এয়ানসাওনাল আখেরা)
দুনিয়াকে ভালবাসবে আখেরাত ভুলে যাবে
২)
(ইউহিব্বুনাল মাখলুক ওয়াএয়ানসাওনাল খালেক। মাখলুককে
মহব্বত করবে খালেককে ভুলে যাবে
৩)
(ইউহিব্বুনাল জুনুবা ওয়া এয়ানসাওনাত তাওবা)
গুনাহ করাকে পছন্দ করবে তওবা করা ভুলে যাবে
৪)
(ইউহিব্বুনাল কুসুরা ওয়া এয়ানসাওনাল মাকবারা)
মহল্লাকে মহব্বত করবে কবরকে ভুলে যাবে
৫)
(ইউহিব্বুনাল মালা ওয়া এয়ানসাওনাল হিসাব)
সম্পদ পছন্দ করবে হিসাব দিতে ভুলে যাবে।
আজ সে সময়টা আমরা পার করছি-
আমরা দুনিয়াকে এমন ভাবে ভালবাসছি আখেরাতকে বেমালুম ভুলে আছি,
মানুষকে খুশি করার কাজে ব্যস্ত তাতে আল্লাহ যদি নারাজ হয়ে যায় তাতে আমাদের কিছুই এসে যায়না। বিবির চাহিদা, পুত্র কন্যার চাহিদা পুরণ করতে গিয়ে সুদ ঘুষ হারাম গ্রহণ করতেও আমাদের একটুও খারাপ লাগেনা কারন আমরা সুদ খেলে ঘুষ খেলে আল্লাহ নারাজ হবে তাতে কোন পরোয়া নাই, আমার পকেটে পয়সা আসতেই হবে তা দিয়ে স্ত্রীর
ফরমায়েশ পুরণ করতে হবে। তাই আমাদের এবাদতে মন লাগেনা।
অতএব এবাদতে মজা পেতে হলে আমাদের কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে
১। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে
২। নেককারী লোকদেরকে বন্ধু বানাতে হবে, নেককারদের ছোহবতে থাকতে হবে
৩। সকল ব্যস্ততাকে
বাদ দিয়ে নামাজের সময় হলে নামাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতে হবে
৪। মানুষকে
রাজি না করে আল্লাহকে রাজি করার নিয়ত করতে হবে।
৫। দুনিয়ার
লোভ লালসা দুর করতে হবে
৬। হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে।হারাম খাওয়া হারাম দেখা হারাম চিন্তা করা থেকেও পাক সাফ হতে হবে।
৭। এমনভাবে
এবাদত করতে হবে যেন আপনি আল্লাহকে দেখছেন বা আল্লাহ আপনাকে দেখছেন
৮। এবাদত যেটা করবেন সেটাকে জীবনের শেষ এবাদত বলে মনে করবেন।
৯। এবাদত করতে মন চাইলেও এবাদত চালিয়ে যেতে হবে, কারন মানুষের
জ্বর হলে তার কাছে খেতে মন চায়না,
বা তিতা ঔষধ খেতে চায়না তবুও খেতে হয়,
পরে যখন সুস্ত হয় তখন সব মজা লাগে,
তেমনি আমাদের গুনাহের কারনে আমাদের অন্তরে যে রোগ হয়েছে তাই এবাদত মজা লাগেনা তবুও যদি আমরা এবাদত করতে থাকি এক সময় এবাদতের জোড়ে সে গুনাহ যখন দুর হয়ে যাবে তখন এবাদতে মজা লাগা আরম্ভ হবে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আজ আমরা বুঝতে পারলাম—
ইবাদতে মজা না লাগার কারণ আল্লাহর ইবাদত কঠিন হওয়া নয়,
বরং আমাদের হৃদয় দুনিয়ার মোহে ভারী হয়ে যাওয়া।
যে হৃদয় সারাদিন মোবাইল, দুনিয়া, গুনাহ, মানুষকে
খুশি করা আর হারাম চিন্তায় ব্যস্ত থাকে—
সে হৃদয়ে নামাজের নূর কিভাবে প্রবেশ করবে?
মনে রাখবেন—
আল্লাহর ইবাদতের চেয়ে মধুর জিনিস পৃথিবীতে আর কিছু নেই।
যে ব্যক্তি একবার সত্যিকারের নামাজের স্বাদ পেয়ে যায়,
সে আর দুনিয়ার কোন মজায় শান্তি খুঁজে পায় না।
তাই আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—
আমি মানুষকে নয়, আল্লাহকে খুশি করবো।
আমি অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করবো।
আমি নেককারদের সোহবতে থাকবো।
আমি হারাম থেকে বাঁচবো।
মন না চাইলেও নামাজ ছাড়বো না।
কারণ নামাজ ছেড়ে দিলে হৃদয় আরো অন্ধকার হয়ে যাবে।
হয়তো আজ আপনার নামাজে মন বসে না,
হয়তো কুরআন পড়তে ভালো লাগে না,
হয়তো সিজদায় চোখে পানি আসে না—
তবুও ইবাদত ছাড়বেন না!
কারণ অসুস্থ মানুষের যেমন খাবারে স্বাদ লাগে না,
তবুও সে ওষুধ খেতে থাকে—
ঠিক তেমনি গুনাহে অসুস্থ হৃদয়েরও প্রথমে ইবাদতে স্বাদ লাগে না।
কিন্তু যদি বান্দা ধৈর্য ধরে আল্লাহর দরজায় পড়ে থাকে,
একদিন আল্লাহ সেই হৃদয় খুলে দেন।
আর যখন আল্লাহ কারো হৃদয় খুলে দেন—
তখন নামাজ হয়ে যায় চোখের শীতলতা,
কুরআন হয়ে যায় হৃদয়ের প্রশান্তি,
সিজদা হয়ে যায় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।
তখন দুনিয়ার চিন্তা কমে যায়,
অশান্তি দূর হয়ে যায়,
আর আল্লাহ এমনভাবে সাহায্য করেন—
যে সত্যিই মনে হয়, দুনিয়া হাতের মুঠোয় চলে
এসেছে।
তাই আজ থেকেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।
কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহকে পেয়ে যায়—
সে আর কিছু হারায় না।
আর যে আল্লাহকে হারিয়ে ফেলে—
সে সবকিছু পেয়েও আসলে কিছুই পায় না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খাঁটি ঈমান, ইবাদতের স্বাদ, নেককারদের সোহবত এবং শেষ
নিঃশ্বাস পর্যন্ত নামাজের উপর অটল থাকার তৌফিক দান করুন।
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
কোন মন্তব্য নেই