এই ৩টি কাজ যারা করবে, তাদের কখনো টাকার অভাব হবে না। এভাবে দোয়া চাইলে দোয়া অবশ্যই কবুল হবে
এই ৩টি কাজ যারা করবে, তাদের কখনো টাকার
অভাব হবে না। এভাবে দোয়া চাইলে দোয়া অবশ্যই কবুল হবে
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে
বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—তিনটি কাজ এমন, কসম করে বলছি সেই সত্তার, যাঁর কব্জায় আমার
প্রাণ রয়েছে। নবীজি (সা.) কসম খেয়ে বলছেন, এই তিনটি কাজের হাকিকত কী তা আপনারা শুনে যান।
সেই তিনটি কাজ কী কী? নবীজি (সা.) ইরশাদ
করেছেন—এই ৩ কাজ যে করে তার কাছে জীবনে টাকা পয়সার কমতি হয়না। সে ৩টি কাজ বা ৩টি দোয়া
জানার আগে আমাদের জানা দরকার সে দোয়া করার আদব কি?
দোয়ার কিছু আদব রয়েছে। সবগুলো তো বলছি না, তবে কিছু দোয়ার আদব আপনাদের বলছি—প্রথম আদব; দোয়া চাওয়ার সময় নিজের গুনাহ ভুলে যাও। ভুলে যাও যে তুমি গুনাহগার। দোয়া
করার সময় ভুলে যাও তুমি অপরাধী; কারণ যখন মানুষ নিজের গুনাহ স্মরণ করে,
তখন দোয়া করার সাহস হয় না। আর যখন আল্লাহর রহমত স্মরণ করে, তখন হৃদয়ে বড় বড় তামান্না বা আকাঙ্ক্ষা জাগতে শুরু করে। এই
জন্য যে, তুমি করিম (দয়ালু)। এই জন্যই বলা হয়েছে—‘কে বলেছে আমি সীমার বাইরে চাচ্ছি? আমি তো তেমনভাবে
চাচ্ছি, যেমন দাতা তিনি।’
দেখুন, আল্লাহর কাছে ছোট জিনিস চান বা বড়, তিনি কিছু মনে
করেন না। আল্লাহর রসূল (সা.) বলেন—‘আমার জুতোর ফিতে ছিঁড়ে গেলেও আমি আল্লাহর কাছে চাই।’ এখন কোনো বড় ধনীর
বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দিনে যদি কেউ বলে যে, ‘ভাই আমাকে একটি হাড় দিন’,
তবে সে বলবে, ‘আমি কি ঠাট্টা করার জন্য ছিলাম? আমার দস্তরখানে
হাজার হাজার মানুষ খাচ্ছে আর তুমি আমার কাছে হাড় চাচ্ছ!’ আচ্ছা ঠিক আছে, ‘পুরো খাবারটাই
আমাকে দিয়ে দাও’—তখন সে বলবে এটাও তো আরও বড় ঠাট্টা; পুরো খাবার তোমাকে দিলে অন্যকে কী খাওয়াব? এক ব্যক্তি এক
বাদশাহর কাছে গিয়ে বলল—‘আমাকে একটি সিকি (চার আনা) দাও।’ বাদশাহ বলল, ‘কমপক্ষে আমার
মর্যাদা তো দেখতে; আমি বাদশাহ, আর তুমি আমার কাছে চার আনা চাচ্ছ?’ সে বলল—‘আচ্ছা, পুরো রাজত্বই দিয়ে দিন।’
বাদশাহ বলল, ‘নিজের যোগ্যতার দিকে তো তাকাতে।’ কিন্তু আমার
আল্লাহর কাছে এমনটি নয়। আপনি চার আনা চান বা রাজত্ব, তিনি দান করেন। তাঁর ভাণ্ডারে কোনো কমতি নেই। কাকুতি-মিনতি
করে তাঁর কাছে চান। দোয়ার আদবগুলোর মধ্যে একটি হলো—দোয়া করার সময় নিজের গুনাহ ভুলে গিয়ে তাঁর করুণার দিকে নজর
রাখা। তাঁর দয়া ও দানসমূহ স্মরণ করুন।
দ্বিতীয় বড় জিনিস হলো—দোয়া করার সময় মন
যেন উপস্থিত থাকে। আমাদের অবস্থা তো এমন যে,
‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা’ পড়ছি, কিন্তু যদি
জিজ্ঞেস করি এটি কী, কখনো কি ভেবেছি? যে দোয়ায় মন উপস্থিত থাকে না, সেই দোয়া বাতিল, বরং সেটি দোয়াই নয়। অন্তত বান্দা যা চাচ্ছে, সেটা তো তার জানা
থাকা দরকার যে সে কী চাচ্ছে। এই তোতা পাখির মতো মুখস্থ দোয়া কবুল হয় না। যতক্ষণ দোয়ার
অর্থ বুঝবে না, এই দোয়া মন থেকে বের হবে কীভাবে? মন থেকে যে কথা বের হয় তা প্রভাব ফেলে; ডানা না থাকলেও
ওড়ার ক্ষমতা রাখে। দোয়ার সম্পর্ক মনের সাথে। মন থেকে দোয়া বের হতে হবে, অর্থই যদি জানা না
থাকে তবে মন হাজির হবে কীভাবে? এরপর বিনয়, কাকুতি-মিনতি এবং কান্নার মতো ভঙ্গি করুন। যদি কান্না না
আসে তবে কান্নার মতো ভঙ্গি করুন। সেই দোয়াই সফল যাতে অন্তত একটি ফোঁটা চোখের জল
পড়ে। মুখ বাঁকা হলে পরোয়া করবেন না, চেহারা কেমন লাগছে পরোয়া করবেন না। আরে মানুষকে কী দেখাবেন!
তিনি (আল্লাহ) দেখে নিন—এতেই আমাদের কামিয়াবি। দোয়া করার সময় কি শুটিং করতে হবে যে
আমি কেমন লাগছি? যেমনই লাগুক—কুদরতের কাছে যেন তা প্রিয় হয়। কান্নাকাটি করুন, বিনয় করুন।
দোয়ার মধ্যে বারবার বলা বা আবদার করা
অত্যন্ত পছন্দনীয়। অর্থাৎ একই কথা বারবার রিপিট করুন। অন্তত তিনবার বলুন, তারপর পাঁচবার বা সাতবার পর্যন্ত যান। অন্য কোথাও বারবার
অনুরোধ করলে মানুষ বলে—‘সামনে বল, বোর করিস না।’ কিন্তু এখানে বারবার চাইলে তিনি বড় পছন্দ করেন। কারণ বারবার
চাওয়ায় বিনয় বৃদ্ধি পায়। দোয়ায় এই দুটি জিনিস বিশেষভাবে করবেন—তিনবার বলবেন ‘ইয়া আরহামার
রাহিমীন’। কারণ হাদিসে পাকে এসেছে,
আল্লাহ একজন বিশেষ ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন; যে ব্যক্তি তিনবার
বলবে ‘ইয়া আরহামার রাহিমীন’, ফেরেশতা বলবে—‘হে আরহামার রাহিমীন বলার ব্যক্তি, এখন তুমি চাও, আল্লাহ নিজের দয়ায়
তোমার দোয়া কবুল করা নিজের ওপর ওয়াজিব করে নিয়েছেন।’ পাঁচবার ‘রব্বানা’ বলবেন, কারণ হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি পাঁচবার রব্বানা বলে চায়, আল্লাহ তার দোয়া
কবুল করেন।
এগুলো দোয়ার আদব। এরপর চেষ্টা করবেন দোয়া
যেন নির্জনে হয়। এটি বিশেষ গুণ। একাকী দোয়ার বড় প্রভাব আছে। আবার জনসমাবেশেও দোয়া
করবেন। জনসমাবেশে দোয়া করার কথা এজন্য বলা হয়েছে যে, যেখানে ৪০ জন মুমিন একত্রিত হয়, সেখানে আল্লাহর
একজন ওলি অবশ্যই থাকেন। ওলির উপস্থিতিতে দোয়া করবেন। আমরা মাজারে কেন যাই? কারণ আল্লাহর রহমত
ওলিদের কাছে থাকে। সেখানে গিয়ে দোয়া করেন যেন তাঁদের উসিলায় দোয়া কবুল হয়। ওলি
চেনা সহজ নয়। আপনারা ভাবেন হয়তো ছোট মজলিসে চিনে ফেলব—কীভাবে চিনবেন? যাদের আপনি ওলি
মনে করেন তারা হয়তো নন, আর যাদের মনে করেন না তারাই হয়তো ওলি। হাদিসে এসেছে—আল্লাহর ওলিদের
শান হলো এলোমেলো চুল, ছেঁড়া-পুরানো কাপড়; মাহফিলে এলে মানুষ তাড়িয়ে দেয়, অসুস্থ হলে দেখার
কেউ থাকে না, মারা গেলে জানাজায় শরিক হওয়ার কেউ থাকে না। কিন্তু তাদের শান এই যে, তারা কোনো বিষয়ে
কসম খেলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। এখন এই হাদিস শুনে প্রত্যেক পাগলকে ওলি ভেবে বসবেন
না। আবার ভালো পোশাকে ওলি হওয়া যায় না এমন ভাববেন না। আমার মুর্শিদ গওসে পাকের কথা
ভাবুন, তিনি তো প্রতিদিন নতুন পোশাক পরতেন। নবীজি বলেছেন ৪০ জনের মধ্যে একজন ওলি থাকে—এটাই বড় কথা।
আমাদের তো আম খাওয়া নিয়ে কাজ, গাছ গোনা নিয়ে নয়। যেখানেই বসুক, ফয়েজ পেলেই হলো।
বড় মজমায় দোয়া বেশি প্রভাবশালী হয়। সামাজিক দোয়া বা ইজতেমায় ওলিরা উপস্থিত হয়ে
কবুলিয়তের জামানত হয়ে যান। দীনি মাহফিলে যাবেন,
একটি মাহফিলে যাওয়া ৭০টি গুনাহর মজলিসের কাফফারা হয়ে যায়।
তাই নির্জনে দোয়া করুন, জনসমাবেশেও দোয়া
করুন। দোয়া করে এমন বলবেন না—‘আল্লাহ চাইলে কবুল কর,
চাইলে বাতিল কর।’ এটি ভুল। এই বিশ্বাসে দোয়া করবেন যে তিনি ওয়াদা করেছেন—‘তোমরা আমার কাছে
চাও, আমি দেব’। আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না। এই বিশ্বাসে দোয়া করুন যে—‘আল্লাহ আপনি ওয়াদা
করেছেন, আপনি অবশ্যই কবুল করবেন।’ আল্লাহ বলেন—‘বান্দা আমার সাথে যেমন ধারণা করে, আমি তার সাথে তেমন
ফয়সালা করি।’
দোয়া কবুল হওয়ার একটি চিহ্ন হলো দোয়ার
আগে কিছু নেক আমল করা। যেমন—গোপনে সদকা দিন, দুই রাকাত নফল পড়ুন,
কিবলামুখী হয়ে বসুন,
বিনয়ের সাথে বসুন। আগে আল্লাহর প্রশংসা করুন, তারপর নবীজির ওপর
দরুদ পড়ুন, তারপর তওবা করে আল্লাহর দরবারে চান। আল্লাহর রহমতকে সীমাবদ্ধ করবেন না। ‘আমাকে দিন’ না বলে ‘আমাদের দিন’ বলুন। নবীজির দোয়া
ছিল ‘রব্বানা আতিনা’—হে আমাদের রব আমাদের দান করুন। সবাইকে শামিল করলে ফায়দা কী? আমি হয়তো পাওয়ার
যোগ্য নই, কিন্তু পুরো উম্মতের মধ্যে কেউ তো যোগ্য আছে। যখন তাকে দেওয়া হবে, আমি বঞ্চিত হব না
কারণ আমি সবার জন্য চেয়েছি।
আল্লাহ মুসা (আ.)-কে বললেন—‘মুসা, এমন জবান দিয়ে
দোয়া কর যা দিয়ে তুমি গুনাহ করোনি।’ তিনি বললেন—‘মওলা এমন জবান কোথায় পাব?’ আল্লাহ বললেন—‘অন্যকে দিয়ে দোয়া করাও। কারণ অন্যের জবান দিয়ে তো তুমি
গুনাহ করোনি।’ আপনার জবান আমার জন্য বেগুনাাহ, আমার জবান আপনার জন্য। অন্যের জন্য করা দোয়া আরাফাতের
ময়দানে হাজিদের দোয়ার মতো কবুল হয়। হাদিসে এসেছে—যখন তুমি অন্যের জন্য দোয়া করো, ফেরেশতারা বলে, ‘আগে তোকে দেওয়া
হবে তারপর তাকে।’ তাই অন্যের আড়ালে তার জন্য দোয়া করুন।
দরুদ হলো দোয়ার পাখা। দরুদ ছাড়া দোয়া
আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলে থাকে। আগে ও পরে দরুদ থাকলে আল্লাহ মাঝখানের দোয়া কবুল
করবেনই। দোয়া করার সময় পেটে এবং শরীরে যেন হালাল থাকে তা খেয়াল করুন এবং জায়গা যেন
পাক হয়। জুমার রাত ও জুমার দিনে দোয়া কবুল হয়। জুমার দিনে দুটি সময় বিশেষ—ইমাম যখন মিম্বরে
যান এবং সূর্যাস্তের ঠিক আগে। আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় শবে কদরের মতো কবুল
হয়। ফরজ নামাজের পর, দুই খুতবার মাঝে, দুই ঈদের রাতে, রজব মাসের প্রথম রাতে,
শবে কদরে, পুরো রমজান মাসে দোয়া কবুল হয়। রমজান হলো চাওয়ার সিজন।
কারও মৃত্যুর সময় ভালো কথা বলুন কারণ
ফেরেশতারা তখন ‘আমিন’ বলে। বৃষ্টির সময়, মোরগের ডাকের সময় দোয়া কবুল হয়। মোরগ রহমতের ফেরেশতা দেখে। মুস্তফা (সা.)-এর
সাথে ওফা বা আনুগত্যই হলো আসল ঈমান। মুসাফির,
অসুস্থ এবং মা-বাবার দোয়া কবুল হয়। ওমর (রা.) শিশুদের বলতেন
আমার জন্য দোয়া কর। অন্যের জন্য দোয়া করার সময় নিজেকেও শামিল করুন—‘আল্লাহ আপনার ও
আমার মুরাদ পূর্ণ করুন।’ দোয়া কবুল হলে অহংকার করবেন না। বলবেন না ‘আমার দোয়ায় হয়েছে’। এটি মুশরিকদের
আলামত। বলবেন—‘আল্লাহর করুণায় হয়েছে।’
বদদোয়া থেকে বাঁচুন। দোয়া জীবন গড়ে দেয়, বদদোয়া সব নষ্ট
করে দেয়। বিশেষ করে নামাজের পর এবং রাতের নির্জনে দোয়া করুন। উম্মতের জন্য দোয়া
করুন। ঈমানের সাথে মৃত্যুর দোয়া করুন। কথা বলার মাঝে কোনো ভুল হলে আল্লাহ ক্ষমা
করুন। আস্তাগফিরুল্লাহ।
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে
বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—তিনটি কাজ এমন যার কসম করে বলছি সেই সত্তার, যাঁর কব্জায় আমার
প্রাণ রয়েছে। নবীজি (সা.) কসম খেয়ে বলছেন, এই তিনটি কাজের হাকিকত কী তা আপনারা শুনুন।
সেই তিনটি কাজ কী কী? নবীজি (সা.) ইরশাদ
করেছেন—সদকা বা দান করলে সম্পদ কমে না। অর্থাৎ এই কথার ওপর হুজুর (সা.) কসম খাচ্ছেন
যে, সদকা করলে সম্পদ কমে না। আপনারা ভাবেন যে মাল চলে গেল, আসলে মাল গেল না
বরং মাল আসল। এখানে একটি সূক্ষ্ম কথা বলি—যখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেখানে একপাশে ঈমান আর
অন্যপাশে বিবেক বা বুদ্ধি (আকল) থাকে, তবে ঈমানের ওপর ফয়সালা করবেন, বুদ্ধির ওপর নয়। ধরুন আপনার কাছে ১০ হাজার টাকা আছে আর একজন
অভাবী লোক এল। তাকে ৮ হাজার টাকা দেওয়া দরকার। আপনার বুদ্ধি বলবে যে ৮ হাজার কমে
যাবে, কিন্তু তখন বুদ্ধির কথা ছেড়ে ঈমানের ওপর আমল করুন। নবীজি (সা.) বলছেন, সদকা করলে সম্পদ
কমে না।
দ্বিতীয় জিনিস—যে ব্যক্তি কাউকে
ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার ওপর জুলুম
করে, গালি দেয় বা অপমান করার চেষ্টা করে আর আপনি তাকে উপেক্ষা করে ক্ষমা করে দেন এই
ভেবে যে, ‘সে তো আমার মুসলমান ভাই’, তবে আমার আাকা (সা.) কসম খেয়ে বলছেন—এমন ব্যক্তির
ইজ্জত আল্লাহ কিয়ামতের দিন বাড়িয়ে দেবেন। আর যাঁর ইজ্জত আল্লাহ কিয়ামতে বাড়াবেন, তাঁর ইজ্জত
দুনিয়াতেও বাড়িয়ে দেবেন। হুজুর (সা.) ইরশাদ করেছেন—তোমরা ক্ষমা করে দাও,
আল্লাহ তোমাদের সম্মান দান করবেন।
আর তৃতীয় কথা—যে ব্যক্তি নিজের
জন্য ভিক্ষাবৃত্তির দরজা খোলে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য দারিদ্র্যের দরজা খুলে দেন। অনেক
সাহায্যপ্রার্থীকে দেখবেন যখন-তখন হাত পাতছেন,
আল্লাহ আমাদের এমন মুসিবত থেকে বাঁচান। এখানে একটি হাদিস বলি;
এক সাহাবী নবীজি (সা.)-এর দরবারে হাজির হয়ে আরজ করলেন—ইয়া রাসূলুল্লাহ
(সা.), আমার যা কিছু আছে সব আল্লাহর নামে কুরবান বা দান করে দিতে চাই। নবীজি (সা.)
নিষেধ করলেন। তিনি বললেন—সব কিছু আল্লাহর নামে বিলিয়ে দিয়ে নিজের সন্তানদের ভিক্ষুক
বানিয়ে যেও না। কারণ সন্তানদের জন্য ইজ্জতের সাথে রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করে
যাওয়া বা তাদের জন্য কিছু রেখে মরে যাওয়া অনেক ভালো তোমার সন্তান দ্বারে দ্বারে
ভিক্ষা করার চেয়ে। এই হাদিসের আলোতে নবীজি (সা.) শিক্ষা দিচ্ছেন যে, সব বিলিয়ে দেওয়ার
চিন্তা না করে নিজের সন্তানদের কথাও ভাবো। কারণ তাদের দায়িত্ব আল্লাহ তোমার ওপর
রেখেছেন। যদি কিছু রেখে যাও তবে তাদের দ্বারে দ্বারে হোঁচট খেতে হবে না।
ভিক্ষাবৃত্তি হুজুর (সা.) মোটেও পছন্দ করতেন না। তিনি বলতেন—সবচেয়ে উত্তম হাত
হলো উপরের হাত, অর্থাৎ দাতা হাত।
মানুষের কষ্ট দূর করার যেমন সওয়াব আছে, তেমনি পশুপাখির
কষ্ট দূর করাতেও সওয়াব আছে। আমি একটি কাহিনী শোনাই। সেই যুগে যখন বলপেন বা ফাউন্টেন পেন ছিল না, মানুষ কাঠের কলম
কালিতে ডুবিয়ে লিখত। এক বুজুর্গ ব্যক্তি তাঁর কাঠের কলম কালিতে ডুবিয়ে বের করলেন, তখন এক তৃষ্ণার্ত
মাছি এসে কলমের ডগায় বসল এবং কালি চুষতে শুরু করল। ওই বুজুর্গ কলমটি সেভাবেই ধরে
রাখলেন যতক্ষণ না মাছিটি কালি চুষে উড়ে গেল। তিনি মারা যাওয়ার পর কেউ তাঁকে
স্বপ্নে জান্নাতে ঘুরে বেড়াতে দেখলেন। জিজ্ঞাসা করলেন—হযরত, কোন আমলের কারণে
আপনি মুক্তি পেলেন? তিনি উত্তর দিলেন—একটি তৃষ্ণার্ত মাছির ওপর আমি দয়া করেছিলাম, তাই আমার মালিক
আমার ওপর দয়া করেছেন। একটি মাছির ওপর দয়া করার যদি এই পুরস্কার হয়, তবে একজন
মুসলমানের ওপর দয়া করলে কত বড় সওয়াব হবে!
তাই তিনটি কথা মনে রাখুন। প্রথমত, কোনো মুসলমানের
দোষ খুঁজে বেড়াবেন না। জানাজানি হয়ে গেলে পর্দা দিন এবং মুসলমানের সাহায্যে কোনো
ত্রুটি করবেন না। মনে রাখবেন, নিজের মুখ বা হাত দিয়ে কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেবেন না। যে
ব্যক্তি তার হাত ও মুখ দিয়ে কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেয় না, সে-ই উত্তম
মুসলমান। এর মানে এই নয় যে অমুসলিমদের ওপর জুলুম করা যাবে। বরং আমাদের ধর্ম শিক্ষা
দেয় যে পশুপাখির ওপরও জুলুম করা যাবে না। আমাদের উচিত নিজেদের হাত ও জবান দিয়ে
কোনো মুসলমানের মান-সম্মান নিয়ে খেলা করা থেকে বিরত থাকা।
কোন মন্তব্য নেই