খাজানা লাভের কোরআনী ওজিফা। গায়েবী রিজিক বৃদ্ধির আমল। সমুদ্রের জ্বীনের দেয়া গোপন তাসবিহ

 

খাজানা লাভের কোরআনী ওজিফা। গায়েবী রিজিক বৃদ্ধির আমল। সমুদ্রের জ্বীনের দেয়া গোপন তাসবিহ



কুরানের একটি আয়াতের ওজিফার বরকতে হিরা মনি মুক্তা রাজত্ব ও রাজকন্যাকে হাসিল করার এক অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ঘটনা ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায়। সে শিক্ষণীয় ও সুসংবাদপূর্ণ ঘটনা ও সে মহা মূল্যবান কোরআনের আয়াতের ওজিফাটি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব মাত্র ১০০০ টাকা খরচ করে রাতারাতি কিভাবে একজন লোক অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন? আমরাও যদি সে কুরআনী ওজিফাটি ঠিক মত করতে পারি তাহলে আমাদেরকেও আল্লাহ তায়ালা কল্পনাতিত জায়গা থেকে ধন দৌলত দিয়ে মালামাল করে দিবেন। মুল আলোচনায় যাওয়ার আগে অনুরোধ আপনি যদি আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ঈমান রেখে থাকেন আল্লাহকে ভালোবেসে থাকেন তাহলে কমেন্টে একবার আল্লাহু আকবর লিখে নিজের নামটি লিখে দিন।

এবার আসুন সে ঘটনা ও কোরানী ওজিফাটি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক প্রথমে একজন মুস্তাজাবুদ দাওয়াত সাহাবীর অলৌকিক দোয়া কবুলের পিছনের রহস্য জানব তারপর রাতারাতি অঢেল সম্পদ, রাজত্ব ও রাজকন্যা লাভের সে ঐতিহাসিক ওজিফাটি জানব, ধৈর্য্য ধরে শেষ পর্যন্ত শুনবেন।

বন্ধুরা আল্লাহর অনেক বান্দা আছেন যাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। সাহাবীদের মধ্যে এ ধরনের একজন সাহাবী ছিলেন যার নাম হলো হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)।তাঁর দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ কারণ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য খাস দোয়া করেছিলেন। একদিন নবীজি (সা.) হযরত সা'দ (রা.)-এর জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ফরিয়াদ করেছিলেন: "হে আল্লাহ! সা'দ যখনই আপনার কাছে কোনো দোয়া করে, আপনি তার দোয়া কবুল করুন এবং তার তীরকে লক্ষ্যভেদী করে দিন।" এছাড়া তিনি সর্বদা উপার্জনের হালাল খাদ্যের প্রতি অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতেন, যা তাঁর দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতকালে হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) কুফার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি অত্যন্ত ন্যায়বিচারক ও আমানতদার শাসক ছিলেন। কিন্তু একদা কুফার কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রা.)-এর কাছে কিছু মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ পেশ করল।

হযরত ওমর (রা.) সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এক তদন্তকারী দল কুফায় পাঠালেন। তদন্তকারী দলটি কুফার প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে হযরত সা'দ (রা.) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগল। সকল মসজিদের মুসল্লিরাই এক বাক্যে হযরত সা'দ (রা.)-এর প্রশংসা ও সুশাসনের সাক্ষ্য দিলেন।

কিন্তু ঘটনাটি ঘটল 'বনু আবস' গোত্রের মসজিদে গিয়ে। সেখানে 'ওসামা ইবনে ক্বাতাদা' (যার উপনাম ছিল আবু সাদা) নামের এক হিংসুক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে চরম মিথ্যা অভিযোগ এনে বলল, "আপনারা যখন জিজ্ঞেস করছেনই, তখন শুনুন সা'দ আমাদের সাথে কোনো যুদ্ধে নিজে সরাসরি অংশ নেন না, গনিমতের মাল বণ্টন করার সময় সমতা বজায় রাখেন না এবং বিচার-ফয়সালার সময় ন্যায়বিচার করেন না!"

হযরত সা'দ (রা.) এই ভিত্তিহীন ও চরম মিথ্যা অপবাদ শুনে গভীরভাবে ব্যথিত হলেন। তিনি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দরদভরা কণ্ঠে বললেন:

"হে আল্লাহ! এই বান্দা যদি নিছক হিংসা, লোকদেখানো ভাব ও খ্যাতির লোভে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে থাকে, তবে আপনি তার জীবনের আয়ু দীর্ঘ করে দিন, তার দারিদ্র্য ও অভাব বাড়িয়ে দিন এবং তাকে নানা রকমের ফিতনা ও বিপদে জড়িয়ে দিন!"

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় সাহাবির সেই বদদোয়া হুবহু কবুল করে নিলেন।

কালের পরিক্রমায় সেই ওসামা ইবনে ক্বাতাদা এক চরম অভিশপ্ত ও করুণ জীবনের মুখোমুখি হলো। সে এত দীর্ঘ আয়ু পেল যে, বার্ধক্যে তার চোখের ভ্রু দুটো ঝুলে পড়ে দৃষ্টি ঢেকে যেত। একদিকে সে চরম দারিদ্র্যে জর্জরিত হয়ে ঘরে ঘরে ভিক্ষা করত, অন্যদিকে তার মস্তিষ্ক ও চরিত্র এত জঘন্য রূপ নিয়েছিল যে, রাস্তার কচি মেয়েদের দেখে সে নোংরা ইঙ্গিত ও ইভটিজিং করত।

লোকেরা যখন তাকে এই করুণ ও লজ্জাজনক অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করত, "হে বুড়ো! তোমার আজ এ কী পরিণতি হলো?"

তখন সে চরম অনুশোচনা নিয়ে আফসোস করে বলত, "আমি এক পরম অভিশপ্ত বৃদ্ধ! আমাকে সা'দের সেই বদদোয়া ধরে ফেলেছে!"

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নির্দোষ ও দ্বীনদার মানুষের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া থেকে হেফাজত করুন এবং হালাল রিজিক ও তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে দোয়া কবুলের যোগ্যতা অর্জন করার তাওফিক দান করুন। এবার চলুন কুরানের সে মূল্যবান ঘটনাবহুল ওজিফাটি জানা যাক

 

একবার এক নদীতে একটি নৌকায় চড়ে কিছু লোক সফর করছিলেন। মাঝপথে হঠাৎ অলৌকিক এক অদৃশ্যের কণ্ঠ ভেসে এলো। সেই কণ্ঠ বলল, "হে নৌকার যাত্রীরা! তোমাদের মধ্যে কেউ কি আছো, যে আমাকে এক হাজার দিনার দেবে? যদি দাও, তবে আমি তোমাকে এমন একটি অলৌকিক ওজিফা ও আমল শিখিয়ে দেব, যা তোমার জীবনের প্রতিটি কঠিন সংকট ও বিপদ দূর করে দেবে!"

এক হাজার দিনার ছিল অনেক বড় এক অঙ্কের অর্থ। এ কথা শুনে নৌকার সব যাত্রী একেবারে চুপ হয়ে গেল। কিন্তু সেই নৌকায় একজন অত্যন্ত ধনী ব্যবসায়ী বা শেঠ বসে ছিলেন। তিনি অন্তরের গভীর থেকে সেই অদৃশ্য আওয়াজ বিশ্বাস করলেন এবং উচ্চস্বরে বললেন, "হ্যাঁ, আমি আপনাকে এক হাজার দিনার দিতে প্রস্তুত! আসুন, টাকা নিয়ে নিন।"

অদৃশ্য কণ্ঠটি উত্তর দিল, "টাকা সরাসরি আমার হাতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তুমি এক হাজার দিনার নিয়ে এই নদীর পানিতে ফেলে দাও, তা আমার কাছে পৌঁছে যাবে।"

ব্যবসায়ী কোনো দ্বিধা না করে বললেন, "ঠিক আছে।" তিনি সঙ্গে সঙ্গে এক হাজার দিনার বের করে নদীতে ভাসিয়ে দিলেন।

নৌকার অন্য যাত্রীরা তা দেখে হাসাহাসি শুরু করল এবং বলতে লাগল, "আরে! দুনিয়াতে কি এর চেয়ে বড় বোকা আর কেউ আছে? অদৃশ্য এক আওয়াজ এলো, কার গলা তাও জানা নেই! না লোকটিকে দেখা যাচ্ছে, না গ্রহণকারীকে দেখা যাচ্ছে! সে বলল পানিতে ফেলে দাও, আর ইনি অমূল্য এক হাজার দিনার নদীতে ফেলে দিলেন!"

ব্যবসায়ী অত্যন্ত শান্তভাবে জবাব দিলেন, "ভাইসকল! এতে তোমাদের এত কষ্ট হচ্ছে কেন? আমি তো আমার নিজের কষ্টার্জিত টাকা ফেলেছি, তোমাদের তো আর ফেলিনি!"

আল্লাহ তাআলার কী অপূর্ব কুদরত! কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই নদীতে ভীষণ ঝড়-তুফান শুরু হলো। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে কে কোথায় ছিটকে গেল, কে ডুবে মারা গেলতার কোনো হিসেব রইল না।

কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ভাঙা নৌকার একটি মাত্র কাঠের তক্তা ভেসে রইল, যার ওপর সেই ব্যবসায়ী সওয়ার ছিলেন। ঢেউ ভাসাতে ভাসাতে সেই তক্তাটিকে এক অচেনা দ্বীপের তীরে এনে ভিড়িয়ে দিল। ব্যবসায়ী আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তীরের ওপর হাঁটতে শুরু করলেন। মনে মনে ভাবলেনকোথায় যাব, কূল-কিনারা তো কিছুই বুঝতে পারছি না! সঙ্গে নেই কোনো খাবার, নেই পানীয়, নেই কোনো রসদ।

হাঁটতে হাঁটতে বহু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ তিনি সামনে এক বিশাল ও অপূর্ব সুন্দর প্রাসাদ দেখতে পেলেন! নির্জন দ্বীপে এমন রাজপ্রাসাদ দেখে তিনি তাজ্জব হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, "অনাহারে মরে যাওয়ার চেয়ে প্রাসাদের দরজায় কড়া নাড়াই ভালো। এত বড় প্রাসাদ, অন্তত এক টুকরো রুটি তো মিলবেই!"

তিনি গিয়ে প্রাসাদের দরজায় আঘাত করতেই এক রূপসী নারী এসে দরজা খুলে দিল। আল্লাহ তাআলা তাকে অপূর্ব রূপ ও সৌন্দর্য দান করেছিলেন। তার হরিণচক্ষু আর দীর্ঘ কেশ দেখে ব্যবসায়ী যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।

মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, "আপনি কে? কোথা থেকে এসেছেন?" ব্যবসায়ী বললেন, "আমার কষ্টের কথা আর জিজ্ঞেস করো না। আমি এক অসহায় মুসাফির, ঝড়ে নৌকা ডুবে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে এসেছি। তোমার কাছে খাওয়ার মতো কিছু থাকলে আমাকে একটু দাও।"

মেয়েটি তাকে পরম আদরে ভেতরে নিয়ে গেল। সেখানে বিশাল এক টেবিলে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার ও ফলমূল সাজানো ছিল। মেয়েটিক বলল, "আপনার যত ইচ্ছা পেট ভরে খেয়ে নিন। কিন্তু খাওয়া শেষ হতেই যত দ্রুত সম্ভব এই প্রাসাদ ছেড়ে চলে যান!"

ব্যবসায়ী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কেন? কী হয়েছে?"

মেয়েটি করুণ সুরে বলল, "কারণ, এক অত্যাচারী ও শক্তিশালী জিন আমার প্রেমে আসক্ত হয়ে আমাকে এখানে বন্দি করে রেখেছে। এই প্রাসাদ আর যা কিছু দেখছেন, সবই তার তৈরি। সে প্রতিনিয়ত এসে আমাকে কষ্ট দেয়। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি যে, আমি নিজের ইজ্জত ও চরিত্র বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি। সে বিভিন্নভাবে আমাকে উত্ত্যক্ত করে, আর আমি কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে অনুনয় করিহে আল্লাহ! আমাকে জিনা থেকে রক্ষা করো! এখন সেই জিনের আসার সময় হয়ে গেছে। সে ভীষণ নির্দয়, আপনাকে দেখলেই মেরে ফেলবে! তাই আপনি এখনই পালিয়ে যান!"

ব্যবসায়ী দৃঢ়তার সাথে বললেন, "হে মহীয়সী নারী! শোনো, আল্লাহর হুকুম না থাকলে আমি তো নদীতেই ডুবে মরতাম। আল্লাহ যখন বাঁচিয়ে রেখেছেন, তখন সেই জিনও আমার ক্ষতি করতে পারবে না। আর সে যদি আমাকে মেরেই ফেলে, তাতে তোমার তো কোনো দোষ নেই! তুমি নিশ্চিন্তে থাকো।"

এরপর তিনি নিশ্চিন্ত মনে টেবিলের অপূর্ব পানীয় পান করলেন। কিছুক্ষণ পর চারপাশ কেঁপে উঠল, প্রচণ্ড গর্জন ও শোরগোল তুলে সেই বিষধর ও ভয়ানক জিন উপস্থিত হলো! সে দূর থেকে ব্যবসায়ীকে দেখেই গর্জে উঠে মেয়েটিকে বলল, "আমার অনুপস্থিতিতে আমার প্রাসাদে এই অচেনা পুরুষ কে?"

মেয়েটি ভয়ে ভয়ে বলল, "আমি জানি না সে কে।"

জিনটি হুংকার দিয়ে বলল, "ঠিক আছে! এই লোকটার ঘাড় তো আমি মটকাবই, সাথে আজ তোকেও ছাড়ব না! আগে তোকে ভোগ করব, তারপর তোকে শেষ করব!"

ব্যবসায়ী বললেন, "ঠিক সেই মুহূর্তে আমার মনে পড়ে গেল সেই অদৃশ্য বুজুর্গের কথা! যিনি নদীতে টাকা ফেলার বিনিময়ে আমাকে বিপদের সময় পড়ার জন্য এক মোবারক ওজিফা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। আমি কোনো ভয় না পেয়ে মনে মনে পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত তেলাওয়াত করতে শুরু করলাম"

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ﴿٢﴾ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا ﴿٣﴾

(অর্থ: আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বিপদ থেকে নিষ্কৃতির পথ বের করে দেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর কাজ পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। সূরা আত-ত্বলাক: ২-৩)

"আমি একধ্যানে এই আয়াত তেলাওয়াত করতেই থাকলাম, করতেই থাকলাম... আর অলৌকিকভাবে সেই ওজিফার বরকতে জিনের গায়ে দাউদাউ করে আগুন ধরে গেল! চোখের সামনে সেই শক্তিশালী জিন নিজের আগুনে নিজেই জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে গেল!"

দৃশ্যটি দেখে মেয়েটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল, "আপনি আমার জীবন ও ইজ্জত বাঁচিয়েছেন! এখন আর দেরি করবেন না, প্রাসাদে যত ধন-রত্ন ও মূল্যবান অলংকার আছে, সব গুটিয়ে নিন। এই জিন মরেছে ঠিকই, কিন্তু তার অন্য কোনো ভাই এসে পড়লে বিপদ হবে!"

ব্যবসায়ী বললেন, "আমরা দ্রুত প্রচুর হিরে, মানিক ও বহুমূল্য মুক্তো বস্তাবন্দি করে রওনা হলামযার মূল্য আমি কল্পনাও করতে পারতাম না!"

হাঁটতে হাঁটতে তারা নদীর তীরে পৌঁছাতেই একটি নৌকা দেখতে পেল। মেয়েটি নৌকার মাঝিদের ডেকে বলল, "আমি অমুক সম্মানিত ব্যক্তির কন্যা।" এ কথা শুনে মাঝিরা অত্যন্ত আদবের সাথে তাদের নৌকায় তুলে নিল এবং নিরাপদে লোকালয়ে পৌঁছে দিল।

মেয়েটির বাবা-মা যখন বহু দিন পর হারানো মেয়েকে ফিরে পেলেন, তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন! তারা পুরো ঘটনা শোনার পর ব্যবসায়ী হাত দুটি ধরে বললেন, "হে যুবক! তুমি শুধু আমাদের মেয়ের প্রাণ বাঁচাওনি, এই নির্জন প্রাসাদে পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তুমি তার দিকে দৃষ্টি দাওনি। এটি তোমার উন্নত চরিত্র ও পরহেজগারির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আমাদের রূপসী কন্যাকে তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি!"

ব্যবসায়ী অসীম কৃতজ্ঞতায় আল্লাহর দরবারে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন, "আহা! আমি তো মাত্র এক হাজার দিনার নদীতে ফেলেছিলাম, আর আল্লাহ তাআলা আমাকে অঢেল ধন-সম্পদ ও জীবনসঙ্গিনী দান করে কোটিপতি বানিয়ে দিলেন! আর এই সব কিছুর মূলে ছিল কেবল পবিত্র কোরআনের সেই একটি মোবারক আয়াতের বরকত!"

সত্যিই, যারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা অলৌকিক উপায়ে তাদের জীবনের সমস্ত অন্ধকার দূর করে সফলতার আলোয় ভরিয়ে দেন।

 

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.