সুরা লাহাবের তাফসির ও মহরের বিধান- দেন মহর না দেয়ার পরিণতি
সুরা লাহাবের তাফসির ও মহরের
বিধান- দেন মহর না দিলে কি হয়?
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক
সে নিজে,
مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا
كَسَبَ
কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন
করেছে।
سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ
সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ
এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে,
فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ
তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।
আজ আমরা পবিত্র কুরআনের ১১১ নম্বর
সূরা, সূরা লাহাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ
হয়েছে এবং এর মোট পাঁচটি আয়াত রয়েছে। এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে আবি
লাহাব শব্দের উপর ভিত্তি করে, আবার এর অপর নাম
সূরাতুল মাসাদ,
যা সূরার শেষ আয়াত 'ফী জীদ ও হা বলুম মিম মাসাদ'
থেকে এসেছে।
সূরার মূল বিষয়বস্তু
সূরা লাহাবের মূল বিষয়বস্তুকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়:
১. প্রথম অংশ (১-৩ আয়াত):
এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের চাচা আবু লাহাবের আলোচনা এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে
তার অভিশাপের জবাব রয়েছে।
২. দ্বিতীয় অংশ (৪-৫ আয়াত):
এতে আবু লাহাবের স্ত্রী এবং তার
কৃতকর্মের শাস্তির বর্ণনা রয়েছে।
সূরা নাযিলের প্রেক্ষাপট
সহীহ বুখারীর ৪৭৭০ নম্বর হাদীস অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা যখন সূরা শুয়ারা-এর ২১৪
নম্বর আয়াত নাযিল করলেন,
وَأَنذِرْ
عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
যেখানে নবীজিকে নিকটাত্মীয়দের জাহান্নামের ভয় দেখানোর
নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন প্রকাশ্যে দাওয়াতের নির্দেশনা আসে। এর আগে নবীজি গোপনে
দাওয়াত দিতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাফা পাহাড়ের উপর
উঠে বিভিন্ন গোত্রকে ডাকতে শুরু করেন: "হে বনী ফেহের,
হে বনী আদি,
হে কুরাইশের বিভিন্ন গোত্র!" তাঁর
আহ্বানে আবু লাহাবসহ কুরাইশের অনেকেই উপস্থিত হন। যারা আসতে পারেননি,
তারা অন্যকে পাঠিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।
সবাই উপস্থিত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করেন,
"আমি যদি তোমাদের
বলি যে এই পাহাড়ের পিছনে একদল শত্রু সেনা অপেক্ষা করছে যারা তোমাদের উপর অতর্কিত
হামলা চালাবে, তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে?"
সবাই একবাক্যে জবাব দিল,
"অবশ্যই! আমরা
আপনাকে জীবনে কখনো মিথ্যা বলতে শুনিনি। আপনার জীবনে যা বলেন,
সত্যই বলেন।
আজকেও আপনি সত্যই বলবেন। মিথ্যা কথা আপনার দ্বারা আশাই করা যায় না।"
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
"তাহলে শোনো! আমি
তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের ভয় দেখাচ্ছি। কঠিন আযাবের ভয় তোমাদেরকে
দেখাচ্ছি। আল্লাহকে এক আল্লাহ মানো। যদি না মানো, তাহলে কঠিন আযাব তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।"
এটা হলো বুখারীর বর্ণনা।
অন্য বর্ণনায় দালাইলুন নবুয়াতে এসেছে, নবীজি বললেন,
"হে বনু হাশিম
সম্প্রদায়, তোমরা নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু আব্দুল
মুত্তালিব সম্প্রদায়, তোমরা নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদে মানাফ,
হে বনু কাব ইবনে লুয়াই সম্প্রদায়,
তোমরা নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা
করো।" এবার নবী তাঁর প্রিয় চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে নাম ধরে
বললেন, "হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান আব্বাস, চাচা! আপনি নিজেকে আগুন থেকে রক্ষা করেন। আমি কিন্তু আল্লাহর কাছে আপনাকে কোনো উপকার করতে পারব না,
যদি নিজে নিজেকে আগুন থেকে না বাঁচান,
আল্লাহর উপর ঈমান যদি না নেন,
আমি কোনো উপকারে আসব না।" চাচাকে
বললেন। এবার নিজের মেয়ে ফাতিমাকে বললেন, "হে মুহাম্মদের সন্তান ফাতিমা,
নিজেকে আগুন থেকে বাঁচাও। আমি কিন্তু
কোনো কাজে আসব না তোমার, যদি তুমি নিজেকে সংশোধন করে না যাও,
আমি কিন্তু কাজে আসব।" নবীজি
নিকটাত্মীয়দের সতর্কবার্তা দিয়ে দিলেন।
আবু লাহাব মেজাজ খারাপ করে দাঁড়িয়ে গেল। আবু লাহাব দাঁড়িয়ে বলল,
"মুহাম্মদ! তোমার
পুরোটা দিন ধ্বংস হোক! তুমি কি এই কারণে আমাদেরকে একত্রিত করেছ?"
(নাউযুবিল্লাহ)।
এই যে সে বলল, "তোমার পুরোটা দিন ধ্বংস হোক,"
আল্লাহ ঠিক তার ভাষায় কুরআনের সূরা
নাযিল করে দিলেন:
তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব ওয়া তাব্ব
অর্থাৎ, "আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।"
(সূরা লাহাব,
আয়াত ১) এখানে হাত দ্বারা পুরো ব্যক্তি
আবু লাহাবকে বোঝানো হয়েছে। আরবরা অঙ্গ দ্বারা পুরো মানুষটাকে উদ্দেশ্য করত।
আবু লাহাবের পরিচয় (টকটকে লাল ছিল)
আবু লাহাব ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের দশ পুত্রের অন্যতম। নবীজির দাদা
আব্দুল মুত্তালিবের ১০ জন পুত্রের একজন পুত্রের নাম হলো আবু লাহাব। লাহাব মানে
হলো লেলিহান, লালিমাযুক্ত, অগ্নিবর্ণ। আবু লাহাব দেখতে সুন্দর,
লাল টকটকে ছিল। এজন্য তার নাম আবু লাহাব
বা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের বাবা।
তার মূল নাম হলো আব্দুল উজ্জা, অর্থাৎ উজ্জা দেবীর গোলাম। আল্লাহ
তায়ালা তার মূল নাম না বলে কেন আবু লাহাব বললেন? খুব মন দিয়ে বুঝবেন। তার মূল নামের
মধ্যে শিরিক আছে। তাই আল্লাহ ওই শিরকি নামটা এখানে না
বলে আল্লাহ আবু লাহাব বলেছেন। কারণ আব্দুল উজ্জা এটা হলো তাওহীদের বিপরীত বাক্য।
এজন্য আল্লাহ তাওহীদের বিপরীত বাক্যটা কুরআনে না বলে তার লকব আবু লাহাব
(অগ্নিস্ফুলিঙ্গের পিতা) এটা আল্লাহ বলেছেন।
নবীজির চাচাদেরকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি:
১. যারা ঈমান এনেছেন ও সহযোগিতা করেছেন: নবীর
চাচাদের মধ্যে কিছু চাচা এমন, যারা নবীরে বিশ্বাস করেছে, নবীর পক্ষ হয়ে লড়াই করেছে,
এবং ঈমানের উপর তাদের মৃত্যু হয়েছে।
যেমন হযরত হামজা ও হযরত আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।
২. যারা সহযোগিতা করেছেন কিন্তু ঈমান আনেননি: নবীর
চাচাদের মধ্যে কিছু চাচা, যারা নবীরে সহযোগিতা করেছে কিন্তু তাওহীদের উপর তারা ছিল না,
মৃত্যু হয়েছে তাদের শিরিকের উপরেই। যেমন খাজা
আবু তালেব। নবীজিরে খুব সহযোগিতা করছে,
ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে নাই।
৩. যারা নবুয়ত প্রকাশের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শত্রুতা
করেছেন: নবীর চাচাদের মধ্যে কিছু চাচা,
যারা নবুয়ত প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে
মৃত্যু অবধি নবীর শত্রুতা করেছে। যেমন আবু লাহাব।
নবুয়তের আগে আবু লাহাবের আচরণ
জন্মের সময় খুশি সুয়াইবা বাদীকে আযাদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের
প্রকাশের আগ পর্যন্ত আবু লাহাবের সাথে নবীজির সম্পর্ক খুব সুন্দর ছিল। নবী জন্মের
পরে আবু লাহাব খুশি হয়ে নিজে মানুষের কাছে গিয়ে সংবাদ দিয়েছে,
"আমার ভাই
আব্দুল্লাহর একটা ছেলে হয়েছে, তার বংশ রক্ষা হবে।" এইভাবে খুশিতে সবাইকে সংবাদ দিয়েছে।
আবু লাহাব সোমবার দিন নবীর জন্মে খুশি হয়ে সুয়াইবা দাসীকে
আজাদ করে দিয়েছে আর নিজে খুশি হয়ে চারিদিকে খবর ছড়াইয়া দিয়েছে। নবীর জন্মে
খুশি হওয়াতে আবু লাহাবকে সোমবারে আজাব কম দেওয়া হয়।
এ হলো আবু লাহাব। নবীজির জন্মে খুশি হয়েছিলেন, সবাইকে সংবাদ দিয়েছেন,
সুয়াইবা দাসীকে আজাদ করে দিয়েছেন।
আবু লাহাবের সাথে বেয়াইওয়ালা
আবু লাহাবের দুইজন ছেলে ছিল: উতবা
ও উতাইবা। এই দুই ছেলের সাথে নবীজি তাঁর দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন: রুকাইয়া ও উম্মে
কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা। তাহলে একদিক দিয়ে চাচা,
আরেক দিক দিয়ে বেয়াই। খুব আন্তরিক
সম্পর্ক ছিল।
নবুয়ত প্রকাশের পর আবু লাহাব যে সব নির্যাতন করে
১. কন্যাদের তালাক: আবু লাহাবের যে দুই সন্তান উতবা ও উতাইবা,
তাদের যে দুই স্ত্রী,
নবীর কন্যা রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুম,
জোর করে তাদের তালাক দেওয়াইছে। আবু
লাহাব জোর করে তালাক দেওয়াইছে। এতে নবীজিকে
একটা কষ্ট দিল।
নবীর ও নবীর কন্যাদের মহর কত ছিল জানেন
#অধিকাংশ স্ত্রী ও কন্যাদের মহরানা ছিল ৪০০ ও ৫০০ দিরহাম
# মহরানা ততটুকু ধরা উচিত যতটুকু দেয়ার সামর্থ্য আছে
# নবী করিম (দ) এরশাদ
করেন যারা মহর ধার্য্য করে না দেয়ার নিয়তে তারা কিয়ামতের দিন যিনাকারী হিসেবে
আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হবে।(মুজামুল কবিরের ৭৩০১)
# হযরত আলী ও ফাতেমার বিয়ে হয়েছিল একটি লৌহ বর্মের বিনিময়ে যার
মূল্য ছিল ৪০০ দিরহাম
# নবীর স্ত্রী উম্মে হাবিবার সাথে সবচেয়ে বেশী মহরানায় বিয়ে
হয়েছিল প্রায় ৪০০০ দিরহাম বা ১০৫২ তোলা রুপার বিনিময়ে,
প্রশ্ন: মহরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কত? এবং কখন মহর আদায় করতে
হয়?
মহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ
মহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারিত
আছে। ৩০ গ্রাম রুপা বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩/৪ হাজার টাকা দশ দিরহামের
সমপরিমাণ হয়। তাই এর থেকে কম মহর নির্ধারণ করা যাবে না। যদি এর চেয়ে কম মহর
নির্ধারণ করা হয়, তাহলে
সেটাকে ৩০ গ্রাম রুপা বা ১০ দিরহাম পর্যন্ত বাড়াতে হবে।
ইমাম মালেক এবং ইমাম আবু হানিফা বলেছেন,
মোহরানার সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারিত আছে
এবং তা হলো সেই পরিমাণ যার বিনিময়ে চোরের হাত কেটে দেওয়া হয়। তাদের যুক্তি হলো,
মোহরানার বিনিময়ে নারীর একটি অঙ্গ হালাল
হয়, সুতরাং
সেই পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত যার বিনিময়ে চোরের একটি অঙ্গ কেটে দেওয়া হয়।
মহর নির্ধারণ না হলে কত হবে?
একেবারেই কোনো মহর নির্ধারণ করা না হয়, তাহলে মহরে
মিসল (similar
dower) দিতে
হবে। মহরে মিসল হলো সেই পরিমাণ মহর, যা কনেদের বাবা-দাদার বংশের অন্য
মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্ধারিত হয়।
মহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ
মহরের সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণ নেই। এটি
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে। আমরা
মনে করি মহর বড় অংকের ধরলে মেয়ের বিবাহ টিকবে, সুরক্ষা হবে, মনে রাখবেন সুরক্ষা
আসে শিক্ষা, তরবিয়ত, ভালোবাসা
এবং একটি সুন্দর পরিবেশ থেকে। সে জন্য ছেলে মেয়েকে সুশিক্ষা
দিতে হবে, আদব কায়দা শিখাতে হবে, মহর বেশী ধরে যদি মেয়ে বিয়ে দেন আর মেয়েকে যদি
আদব কায়দা না শিখান তাহলে সুরক্ষা হবেনা।
মহর আদায়ের সময়
মহর আদায়ের সময়কাল দুই ধরনের হতে পারে:
১. মহরে মুয়াজ্জাল (তাৎক্ষণিক মহর): এটি এমন মহর যা স্ত্রী যখন চাইবে, তখন স্বামী
তা পরিশোধ করতে বাধ্য। স্ত্রী যখন খুশি তখন এটি দাবি করতে পারে। যদি স্বামী দিতে
অস্বীকার করে, তাহলে
স্ত্রী স্বামীকে তার কাছে আসা থেকে বিরত রাখতে পারে এবং সফরের জন্য মানা করতে
পারে। এমনকি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পরেও স্ত্রী এই মহর আদায় হওয়ার আগ
পর্যন্ত যেকোনো সময় তা দাবি করার অধিকার রাখে।
২. মহরে মুয়াজ্জাল (বিলম্বিত মহর): এটি এমন মহর যা একটি নির্দিষ্ট সময়
পর পরিশোধ করা হয়,
যেমন ২০ বছর বা ৩০ বছর পর। আমাদের সমাজে সাধারণত মৃত্যু বা তালাকের সময় এই
মহর পরিশোধ করার প্রচলন আছে। অর্থাৎ, স্বামী যখন তালাক দেবে বা মারা যাবে, তখন এই মহর
পরিশোধ করা হবে। স্বামীর মৃত্যুর পর মহর পরিশোধ না করা হলে, তার
উত্তরাধিকারীদের সম্পদ বন্টনের আগে স্ত্রীর প্রাপ্য মহর আগে তার হাতে দিতে হবে।
একইভাবে, যদি
স্ত্রী মারা যায়, তাহলে
তার মহর আগে স্বামীর সম্পদ থেকে নিয়ে তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করতে হবে।
সুতরাং, মহর বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা স্ত্রীর
অধিকার। এর আদায় ও পরিমাণ উভয়ই ইসলামী শরীয়তের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী
হওয়া উচিত।
মুয়াজ্জাল (তাৎক্ষণিক)معجّل মহর যেটাকে আমরা উসুল বলি তা সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা
প্রচলিত আছে যে,
এটি বিবাহের প্রথম রাতের আগেই স্ত্রীকে পরিশোধ
করতে হয়। এটি একটি ভুল ধারণা।
মুয়াজ্জাল তাৎক্ষনিক মহর-এর অর্থ
কেবল এতটুকুই যে, স্ত্রী
যখন ইচ্ছা তখনই এই মহরের দাবি করতে পারে। যদি স্বামী সেই মহর পরিশোধ না করে, তবে স্ত্রী
তাকে কাছে আসতে বাধা দিতে পারে এবং তাকে সফরে নিয়ে যেতে চাইলে তাতে অসম্মতি
জানাতে পারে। শরিয়ত স্ত্রীকে এই অধিকার দিয়েছে এবং এর জন্য সে মোটেও গুনাহগার
হবে না।
এই ধারণাটি ভুল যে, প্রথম
রাতের আগে মহর পরিশোধ না করলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা গুনাহ হবে বা এর কারণে
জন্মগ্রহণকারী সন্তানের উপর কোনো প্রভাব পড়বে।
স্ত্রী যদি খুশিতে মাফ করে দেয়
وَآتُواْ
النَّسَاء صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ
نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের
মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে
তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। [সুরা নিসা - ৪:৪]
কোন চাপাচাবি ছাড়া যদি স্ত্রী স্বইচ্ছায় মাফ করে দেয়
তাহলে আপনি বেঁচে গেলেন। কিন্তু যদি চাপ প্রয়োগ করে মাফ করানো হয় সেটা মাফ হবেনা, তাছাড়া মহর বেশী অংক ধরে তা পরিশোধ না করে মাফ চাওয়া এটার
চেয়ে লজ্জাজনক কাজ আর নাই।
ধমক দিয়ে মহর মাফ করে নেয়া কেমন
স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে যে, সে যদি মহর মাফ না করে, তবে তাকে
কখনো তার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে দেবে না—তাহলে এটি কি জোরপূর্বক (ইকরাহ)
চাপানো হলো? এবং
এর ফলে স্ত্রী যদি মহর মাফ করে দেয়, তাহলে কি শরীয়ত অনুযায়ী তা মাফ হয়ে
যাবে, নাকি
পরে স্ত্রী তা দাবি করার অধিকার রাখবে?
হুমকি ও মহরের মাফ
স্বামী যদি স্ত্রীকে এই বলে হুমকি দেয় যে, "আমি তোমাকে
তোমার বাবা-মায়ের সাথে কখনো দেখা করতে দেব না," এবং স্ত্রী যদি মনে করে যে স্বামী
সত্যিই তার হুমকি বাস্তবায়ন করবে, তাহলে এটি অবশ্যই এক প্রকার জোরপূর্বক
চাপ (ইকরাহ তাম) বলে গণ্য হবে।
এই পরিস্থিতিতে যদি স্ত্রী তার মহর মাফ করে দেয়, তবে শরীয়ত
অনুযায়ী সেই মহর
মাফ হবে না। স্ত্রী পরে
সেই মহর দাবি করার অধিকার রাখে।
সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক মহর মাফ
করিয়ে নেওয়া শরয়ীভাবে কার্যকর নয় এবং স্ত্রী যেকোনো সময় তা দাবি করার অধিকার
রাখে।
মহর পরিশোদের আগে যদি স্ত্রী মারা যায়
যদি স্ত্রী মারা যায়, তাহলে তার
মহর স্বামীর সম্পদ থেকে পরিশোধ করে স্ত্রীর ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি স্ত্রী ৫ লাখ টাকা সম্পদ রেখে মারা যায় এবং স্বামীর
কাছে স্ত্রীর ৫০ হাজার টাকা মহর পাওনা থাকে, তাহলে স্বামী সেই ৫০ হাজার টাকা স্ত্রীর
৫ লাখ টাকার সাথে যোগ করবে। এরপর মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্ত্রীর উত্তরাধিকার
হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই পুরো অর্থ শরীয়ত অনুযায়ী স্ত্রীর
ওয়ারিশদের
মধ্যে বন্টন করা হবে। এখানে স্বামীও স্ত্রীর ওয়ারিশ হিসেবে
তার প্রাপ্য অংশ পাবে।
মহর না দিয়ে যদি স্বামী মারা যায়
যদি স্বামী মারা যায়, তাহলে তার
মহর আগে তার সম্পদ থেকে স্ত্রীকে পরিশোধ করা হবে, এরপর বাকি সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে
বন্টন করা হবে।
মহর হিসেবে কি কি দেয়া যায়?
মহর হওয়ার যোগ্যতা সেই বস্তুরই আছে, যা
ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য। আরবিতে যাকে 'মাল' বলা হয়। যেমন: টাকা-পয়সা (মুদ্রা), প্রাণী, সোনা,
রূপা, জমি, প্লট,
দোকান – এসবই মহর হতে পারে।
***আমাদের আলোচনা চলছিল সুরা লাহাবের
আবু লাহাব নবীজির উপর নবুয়তের পর যে সব
নির্যাতন করছিল, তার মধ্যে ১টি বলেছি তার মেয়েদের তালাক দেয়া
২. আবতার বলে কষ্ট দেয়া: নবীজির পুত্র
সন্তান ছিল, তাহের তাইয়্যেব। এই তাহের তাইয়্যেব মারা যাওয়ার পর আবু লাহাব বলল,
"মুহাম্মদ হলো আবতার।" আবতার মানে 'লেজকাটা', 'নির্বংশ'। এগুলা বলে নবীজিকে কষ্ট দিত। আল্লাহ বলে দিলেন,
"আপনার শত্রু যে
আপনাকে নির্বংশ বলে সেই নির্বংশ। ওরে মানুষ ভালোভাবে স্মরণ করবে না,
আমি আল্লাহ সারা দুনিয়াতে আপনাকে
স্মরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।" এটা নবীজিকে বলছিল আবতার,
কে? আবু লাহাব। ওই যে সূরা কাউসার: ইন্না
শা-নিয়াকা হুয়াল আবতার - "আপনার শত্রু যে,
সেই নির্বংশ।"
৩. নবুয়ত প্রকাশের পরের ঘটনা: একটা বাজার আছে, নাম
জুল মাজাজ। এই জুল মাজাজ বাজারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উম্মতকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তোমরা বলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই,
তোমরা সফলকাম হয়ে যাবে।" আবু লাহাব
পিছনে পিছনে এসে সবাইকে ডাক দিয়ে বলতেছে, "ইয়া আইয়ুহান্নাস! ও মানুষ! তোমরা তার
অনুসরণ করবা না।" এগুলা বলতে বলতে পিছন থেকে এসে নবীজিকে পাথর মারছে। পাথরের
আঘাতে নবীর পা থেকে রক্ত ঝরছে।
৪. এটা নবুয়ত প্রকাশের পরের হজের মৌসুমের ঘটনা। নবীজি চুপে চুপে হাজীদের তাবুতে যেতেন,
গিয়ে তাওহীদের দাওয়াত দিতেন। আবু লাহাব
পিছনে পিছনে যেত। যাওয়ার পর হাজীদেরকে বলত, "ও লোক সকল, তোমরা হজ করতে আসছো। এই লোকটার কথায়
তোমরা কান দিবা না। সে হলো ধর্মত্যাগী,
মিথ্যাবাদী। তার কথায় তোমরা কান দিবা না।" নবীজিকে সে ধর্মত্যাগী,
মিথ্যাবাদী বলল। "তার কথায় কান
দিবা না, তোমরা
তার অনুসরণ করবা না।" এগুলা হাজীদেরকে আবু লাহাব বুঝাইছে।
এগুলা সব নবুয়ত প্রকাশের পরের অবস্থা। এখান থেকে কী শিখলাম?
নবুয়ত প্রকাশের আগে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো, প্রকাশের পরে সম্পর্ক হয়ে গেল খারাপ।
এখন মনে করেন, কোনো আলেম আপনার সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল,
মাশাল্লাহ সব ঠিক আছে। হঠাৎ একদিন উনি
সুদের ওয়াজ করল মসজিদের মধ্যে, আর আপনি সুদ খান। এখন আপনি রাগ করলেন,
"এটা কোনো কথা!
আপনি ছয় বছর ধরে সুদের ওয়াজ করেন নাই, আজকে করলেন।" এই যে সুদের ওয়াজটা
শোনার পরে হুজুরের সাথে আপনার শত্রুতা শুরু হয়ে গেল। তাহলে সুদের ওয়াজের আগ
পর্যন্ত হুজুর ভালো ছিল, ওয়াজের পরে হুজুর হয়ে গেল খারাপ। স্বভাবটা আবু লাহাবের।
আবু লাহাবের নবীজির সাথে নবুয়ত প্রকাশের আগের সম্পর্ক ছিল একটা,
নবুয়ত প্রকাশ পাওয়ার পরে সম্পর্ক
আরেকটা। এই জাতীয় স্বভাবের মানুষ আমাদের মাঝেও দেখা যায়। এই স্বভাবের মুসলমান যারা
হবে, এরা
হবে মুসলিম রূপী মুনাফিক মার্কা শয়তান। আল্লাহ তাদের থেকে আমাদেরকে হেফাজত করেন।
আবু লাহাবের করুণ পরিণতি
এই গেল তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব ওয়া তাব্ব। সে নিজেও ধ্বংস। পরের আয়াতে আমরা যাই:
মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাসাব
অর্থাৎ, "তার ধন-সম্পদ ও যা সে অর্জন করেছিল,
তা তার কোনো
কাজে আসেনি, উপকারে আসেনি।" (সূরা লাহাব,
আয়াত ২)
বদর যুদ্ধে কাফেররা শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করার সাতদিন পর আবু লাহাবের গলার
মধ্যে গুটি বসন্ত দেখা
দেয়। গুটি বসন্তকে আদাসাও বলা হয়। এই রোগটা অনেকটা প্লেগ রোগের মতো। গলার
মধ্যে শুরু হলো। বদর যুদ্ধের কয়দিন পর? সাতদিন। বদরে কাফেররা শোচনীয় পরাজয় বরণ
করছে। এই ঘটনা শোনার সাতদিন পর আবু লাহাবের গলায় গুটি বসন্ত রোগ হয়।
এই রোগ হওয়ার পর কিছুদিন পর আবু লাহাব মারা গেছে। খুব মন দিয়ে বুঝুন এই
জায়গাটা। মারা যাওয়ার পর আরবরা এই রোগটাকে খুব ভয় পেত। তারা এটাকে মনে করত এটা
ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগ আমার গায়েও আসতে পারে। আবু লাহাবের সন্তানরা আবু লাহাবকে
ছেড়ে পালিয়ে গেল। যেটা করোনাভাইরাসের সময় আমরা দেখেছি,
কোটিপতি বাবাকে হুজুরদের সামনে রেখে
সন্তান পালিয়ে গেছে। ঠিক। করোনার সময় সন্তান বাপ রেখে পালিয়েছে। এই যে দেখেন,
আবু লাহাবের ছেলেরা বাবার লাশ রেখে দূরে
চলে গেছে। তিন দিন পর্যন্ত লাশ কেউ ধরে না। পচা গন্ধ ছোঁটার পর এরপর সন্তানেরা
আসছে। একজনের সহায়তায় এই লাশ নিয়ে গেছে মক্কার একটা উঁচু ভূমিতে। সেখানে নিয়ে
যাওয়ার পর গর্ত করেছে। গর্ত করে তাও হাত দিয়ে গর্তের মধ্যে ফালায়নি,
লাঠি দিয়ে ধাক্কিয়ে লাশটা কবরের মধ্যে
ফালায় দিয়েছে। জালেমদের পরিণতি এমনই হয়।
এই হলো আবু লাহাবের মৃত্যুর করুণ পরিণতি। এজন্য আল্লাহ বললেন,
"আবু লাহাব যা
কামাই করেছে, আবু লাহাবের ধন-সম্পদ তার কোনো কাজে আসলো না। মরার পর তার সম্পদ,
তার সন্তান তার কোনো কাজে আসেনি।"
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
সায়াসলা না-রান যা-তা লাহাব
অর্থাৎ, "অচিরেই সে প্রবেশ করবে এমন
আগুনে, যা লেলিহান অগ্নিশিখাযুক্ত।" (সূরা লাহাব, আয়াত ৩)
অচিরেই সে প্রবেশ করবে আগুনে, যে আগুন লেলিহান অগ্নিশিখাযুক্ত আগুন। এ আগুনে সে প্রবেশ
করবে। এটা হলো এক থেকে তিন নম্বর আয়াত। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আবু লাহাবকে,
যিনি আমাদের নবীরে অভিশাপ দিয়েছিলেন,
সে অভিশাপের জবাব আল্লাহ দিয়েছেন।
আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল পরিণতি
চার ও পাঁচ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন:
ওয়ামরাতুহু হাম্মালাতাল হাতাব
ফী জিদিহা হাবলুম মিম মাসাদ
অর্থাৎ, "তার স্ত্রীও আগুনে প্রবেশ করবে,
যে ইন্ধন
বহনকারী। তার গলায় থাকবে পাকানো রশি।" (সূরা লাহাব,
আয়াত ৪-৫)
হাম্মালাতাল হাতাব মানে ইন্ধন বহনকারী স্ত্রী। জ্বালানি
বহনকারী আবু লাহাবের স্ত্রীও আগুনে প্রবেশ করবে।
উম্মে জামিল ছিলেন আবু সুফিয়ানের বোন। তার আরেক নাম আওরা।(টেরা) কেউ কেউ বলেছেন,
তার চোখ ছিল একটি টেরা। এই টেরা হওয়ার
কারণে আর টেরাকে আরবিতে বলা হয় আওরা, এজন্য তাকে আওরা বলা হয়। এটা হলো একটি
ব্যাখ্যা।
হাম্মালাতাল হাতাব (সংসার ভঙ্গকারীনি) আবু লাহাবের স্ত্রী এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সংসার ভাঙার কাজ করত আর সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করত। এই জাতীয় মানুষ এখনো
সমাজে পাওয়া যায়। তার কাজ ছিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সংসার ভাঙা। আর আরবরা
যে সংসার ভাঙতো, তাকে বলত হাম্মালাতুল হাতাব।
কৃপণতার কারনে কাঠ বহন করত: আরেকটা ব্যাখ্যা: আবু লাহাবের স্ত্রী ধনী মানুষ ছিল,
এরপরও কৃপণতা করত। খুব কৃপণ ছিল। ধনী
হওয়ার পরেও কৃপণ ছিল। সে নিজে কী করত? গলার মধ্যে রশি পাকিয়ে এই রশি দিয়ে
বেঁধে কাঠ সংগ্রহ করে নিয়ে এসে এটা দিয়ে রান্না করত। কোনো খাদেম সেবিকা রাখত না,
কারণ টাকা দেওয়া লাগবে। এজন্য সে নিজেই
কিপটামি আর কৃপণতা করে এগুলা নিজে বহন করে নিয়ে আসত।
এখানে আমরা দুইটা শিখলাম। একটা হলো সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী,
এজন্য তাকে বলা হয়েছে হাম্মালাতাল
হাতাব। আরেকটা হলো কৃপণ হওয়ার কারণে সে লাকড়ি সংগ্রহ করত। গলায় রশি পেঁচিয়ে এই
রশি দিয়ে সে লাকড়ি বহন করে নিয়ে আসত। আর লাকড়ি বহনকারিনীকে বলা হয়
হাম্মালাতাল হাতাব।
আরেকটা ব্যাখ্যা আছে,
কিয়ামতের ময়দানেও যখন জাহান্নামে যাবে,
তার গলার মধ্যে এরকম পাকানো মোটা দড়ি
পেঁচিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এজন্য বলছে:
ফী জিদিহা
হাবলুম মিম মাসাদ। (নাউযুবিল্লাহ)।
সুরা নাজিল হলে লাহাবের স্ত্রী পাথর নিয়ে নবীকে মারতে আসে
এই সূরা যখন নাযিল হয়েছে, আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল দৌড়ে আসলো পাথর নিয়ে।
(নাউযুবিল্লাহ)। এই পাথর নিয়ে আসে নবীজিকে মেরে ফেলবে। নবীজি বসা,
আবু বকর সিদ্দিক পাশে দাঁড়ানো। আল্লাহর
কী কুদরত, উম্মে
জামিল আল্লাহর রাসূলকে দেখতে পায় না। নবীজি বসা, পাশে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু
তাআলা আনহু। আবু বকর সিদ্দিককে দেখা যায়, নবীকে সে দেখতে পাচ্ছে না। এটা কোনো কোনো
তাফসীরকারক লিখেছেন। তো নবীরে না দেখে এবার আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তাআলা
আনহুকে বলতে লাগল উম্মে জামিল, "আবু বকর, তোমার সাথীকে জানিয়ে দিও,
সে কবি ছিল।" তখন তিনটা ছন্দ বলল:
مُذَمَّمًا قَلَيْنَا، وَدِينَهُ
قَلَيْنَا
وَأَمْرَهُ عَصَيْنَا
এর অর্থ হলো:
- "মুযাম্মামকে (নিন্দিত ব্যক্তিকে)
আমরা ঘৃণা করি, এবং তার দ্বীনকে আমরা ঘৃণা
করি।" "আর তার নির্দেশ আমরা অমান্য
করি।"
(নাউযুবিল্লাহ)। আবু লাহাবের স্ত্রী কবি ছিল। সে নগদ কবিতা বানিয়ে বলে ফেলতে
পারত। তো নবীজিকে আসছে পাথর মারার জন্য। এসে যখন পায় না,
আবু বকর সিদ্দিককে বলতেছে,
"আবু বকর,
জানিয়ে দিও তোমার সাথীকে কী?"
এখান থেকে আমাদের শিক্ষা হলো: যখন দাওয়াতি কাজ
করবেন, মানুষকে হকের দিকে আহ্বান করবেন কিছু মানুষ থাকবে যারা আপনারে আমাকে
মুখের উপর অপমান করতে পারে, মিথ্যাবাদী বলতে পারে,
তাহলে মিথ্যাবাদী বলতে পারে। সূরা আ'নয়ামের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সান্ত্বনা
দিয়েছিলেন,
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ فَصَبَرُوا
"নবী! আপনার পূর্বে রাসূলদেরকেও
মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে, কষ্ট দেওয়া হয়েছে, তারা ধৈর্য ধারণ করেছে।"
এখান থেকে শিক্ষণীয়: দাওয়াতের কথা বললে, মানুষ কটু কথা বলতে পারে,
এটা সহ্য করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ্য করেছেন।
২. হকের বিরোধিতা যারা করবে, আজ হোক কাল হোক তাদের ধ্বংস হবে। ধ্বংস হবে। এজন্য হকের
বিরোধিতা করার কোনো সুযোগ নাই।
৩. হকের বিরোধিতাকারীদেরকে যারা সাপোর্ট করবে, তারাও ধ্বংস হবে।
তাহলে: ১. দাওয়াত দিতে হবে। ২. বাধা
আসবে, সহ্য করতে হবে। আর যারা বাধা দিবে তারা ধ্বংস হবে। ৩. দাওয়াতের
বাধা যারা দিবে, তাদের সমর্থন যে করবে, সেও ধ্বংস হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সূরা লাহাবের এই শিক্ষাটা যেন আমরা নিয়ে আমাদের
মধ্যে আনতে পারি। নিজেরা হকের উপর অবিচল থেকে মানুষকে হকের দিকে দাওয়াত দিতে পারি।
আমাদের অনুকূলে হোক প্রতিকূলে হোক, সর্ব অবস্থায় যেন হকের কাজ আমরা করতে
পারি। আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দান করেন।
আর স্ত্রীর মোহরানা যেন আমরা অল্প অল্প করে হলেও পরিশোধ করে ফেলি। সে তৌফিক
দান করুন আমিন।
#মেয়েকে বিয়ে দেয়ার সময় এত বেশী মহর ধরবেন না যা মেয়ের জামাই পরিশোধ করতে
পারবেনা, যদি মেয়ের জামাই পরিশোধ না করে কিয়ামতের দিন সে জিনাকারী হিসেবে উত্থিত
হবে
# মহর যা নির্ধারণ হবে তা স্ত্রীর কাছে মাফ করিয়ে নিব এমন লজ্জাজনক চিন্তা যেন
আমরা না করি।
কোন মন্তব্য নেই