সারা রাতের ২৮টি দোয়া আমল ও ওজিফাসমুহ। রাতের ইবাদতের ফজিলত ও বরকত
রাতের ইবাদতের ফজিলত ও রাতের
২৮টি দোয়া আমল ও ওজিফাসমুহ
وَمِنَ اللَّيْلِ
فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ
مَقَامًا مَّحْمُودًا
রাতের একটি অংশে আপনি তাহাজ্জুদের নামায আদায় করুন, যা আপনার জন্য নফল। সম্ভবত আপনার পালনকর্তা আপনাকে একটি প্রশংসিত অবস্থানে উঠিয়ে দেবেন।
রাতের
বেলায় এবাদতের
দোয়া কবুলের,
আল্লাহকে রাজি
করার সবচেয়ে
উপযুক্ত সময়।
তাই আজ
আমি রাতের
বেলায় এবাদতের
নিয়ম, আল্লাহকে রাজি
করার নিয়ম,
দোয়া করার
মাসনুন তরিকা,
মহানবী (দ)
যে সব
দোয়া ও
আমল করতেন
তা আজকে
কোরআন ও
সুন্নাহর আলোকে
আলোচনা করব,
যাদের দোয়া
কবুল হয়না,
যারা বিপদে
আছেন,
যারা
অভাবে আছেন,
যারা সমস্যায়
আছেন প্রত্যেকের জন্যই
আজকের আলোচনার
মধ্যে সমাধান
আছে।
রাতের এবাদত সংক্রান্ত আয়াত
সুরা মুজাম্মিলে এরশাদ হচ্ছে
يَا أَيُّهَا
الْمُزَّمِّلُ
১. হে কাপড়ে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তি!
قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا
২. রাত জাগো নামাজে—অল্প কিছু বাদ দিয়ে।
نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا
৩. অর্ধেক রাত, অথবা তার চেয়ে কিছু কম।
أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
৪. অথবা তাতে কিছু বাড়াও এবং কুরআন ধীরে ধীরে পাঠ করো।
সূরা আস-সাজদাহ (৩২:১৬)
تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ
يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا ۚ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
তাদের পার্শ্ব বিশ্রামস্থল হতে দূরে থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে আহ্বান করে ভয় ও আশার সাথে এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।
তিরমিজির ২৬১৬ নং হাদিসের বণনা- নয়ন জুড়ানো পুরস্কার
মু’আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, (জানেন মুয়াজ কে? নবীজি বলেন কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের উলামায়ে কেরামের পতাকা মুয়াজ বিন জাবালের হাতে হবে) তিনি বলেন, আমি কোন এক ভ্রমণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন যেতে যেতে আমি তার নিকটবর্তী হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি আমল সম্পর্কে আমাকে জানিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম হতে দূরে রাখবে। তিনি বললেনঃ তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অতি সহজ যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা’আলা তা সহজ করে দেন।
তুমি আল্লাহ তা’আলার ইবাদাত করবে, কোন কিছুকে তার সাথে শরীক করবে না, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, রামাযানের রোযা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হাজ্জ করবে। তিনি আরো বললেনঃ আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে বলে দিব না? রোযা হলো ঢালস্বরূপ, দান-খাইরাত গুনাহসমূহ বিলীন করে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং কোন ব্যক্তির মধ্যরাতের নামায আদায় করা। তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ
تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ
يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا ۚ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
“তাদের দেহপাশ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তারা তাদের প্রভুকে ডাকে আশায় ও ভয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।
فَلَا
تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاء بِمَا كَانُوا
يَعْمَلُونَ
কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কি লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ " (সূরা আস-সিজদা ১৬, ১৭)
আবশ্যক: তাহলে আমরা যদি রাতে বিছানা থেকে পিঠ পৃথক করি, তাহাজ্জুদ পড়ি, ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকি আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে ব্যয় করি তাহলে আল্লাহ আমাদের জন্য নয়ন জুড়ানো পুরস্কার লুকিয়ে রেখেছেন আমাদের জন্য জান্নাত নিটকে হবে জাহান্নাম দুরে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য সহজ করে দিন আমিন
রাতের ইবাদত সম্পর্কে কোরআনের সূরা আল-ইসরা (১৭:৭٩) নং আয়াতে আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً
لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
রাতের একটি অংশে আপনি তাহাজ্জুদের নামায আদায় করুন, যা আপনার জন্য নফল। সম্ভবত আপনার পালনকর্তা আপনাকে একটি প্রশংসিত অবস্থানে উঠিয়ে দেবেন।
রাতের ইবাদতের ব্যপারে সূরা আদ-দাহর (৭৬:২৬) নং আয়াতে এরশাদ হচ্ছে
وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ
لَيْلًا طَوِيلًا
রাত্রির কিছু অংশে তাঁর জন্য সিজদা কর এবং দীর্ঘ রাত জুড়ে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা কর।
জানেন আল্লাহর কাছে পছন্দের নামাজ ও রোজা কোনগুলি?
বুখারী
শরীফের ১১৩১
নং হাদিসের
বণনা: হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে
আমর ইবনে
আস (রা)
হতে বণিত,
তিনি বয়ান
করে রাসুলুল্লাহ
(দ) ফরমান
أَحَبُّ
الصَّلاَةِ إِلَى اللهِ صَلاَةُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم وَأَحَبُّ الصِّيَامِ
إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ
আল্লাহর
কাছে সবচেয়ে
পছন্দের নামাজ
ও পছন্দের
রোজা হল
দাউদ (আ)
এর নামাজ
ও রোজা,
দাইদ (আ)
অর্ধেক রাত
পযন্ত ঘুমাতেন-
এক তৃতীয়াংশ নামাজ
পড়তেন এবং
রাতের এক
ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন।
তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন সওমবিহীন অবস্থায় থাকতেন।
আবশ্যক: ধরুন এশারের পর থেকে ফজরের আযান পযন্ত ৬ ঘন্টার রাত তিনি ৩ ঘন্টা ঘুমাতেন তারপর অর্ধরাতে উঠে ২ ঘন্টা নামাজ পড়তেন আর শেষ ১ ঘন্টা আবার ঘুমাতেন।
মুহতারাম দোস্ত! ফরয নামাজের পর সবচেয়ে সেরা নামাজ হল রাতের নামাজ যেমন
আবু দাউদ এর ২৪২৯ নং হাদিসের বাণনা: আবু হুরায়রা (রা) হতে বণিত নবী করিম (দ) বলেন রমজানের পর সবচেয়ে আফযল রোজা মুহরমের রোজা, আর নামাজের মধ্যে সবচেয়ে আফযল নামাজ রাতের নামাজ।
আশ্চর্য্য জনক কথা হল- এই নামাজের জন্য আমার নবীর পা মোবারক ফুলে যেত: যেমন
বুখারীর ১১৩০ নং হাদিসের বণনা নবীজি রাতে এত বেশী এবাদত করতেন যে
حَتَّى
تَرِمُ قَدَمَاهُ أَوْ سَاقَاهُ،
তাঁর পা মোবারক পযন্ত ফুলে যেত।
" أَفَلاَ أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا "
আমি কি একজন শুকরিয়া আদায়কারী বান্দাহ হব না?
রাতে নামাজীর জন্য জান্নাতে কেমন গাছ ও ঘোড়া হবে জানলে অবাক হবেন- হাদিস
শরীফে আছে
জান্নাতে একটি গাছ হবে, যে গাছের শাখা থেকে নতুন নতুন কাপড় বের হবে, আর তার শিকড় থেকে ঘোড়া বের হবে, যে ঘোড়া গুলির আসন হবে স্বর্ণের তাদের লাগাম হবে মুতি ও এয়াকুতের হবে, যে ঘোড়া গুলির পাখা হবে আর সেগুলির এক একটি পদক্ষেপ হবে দৃষ্টির সিমানায়, জান্নাতিরা এই ঘোড়ার উপর বসবে,
আর এই পুরস্কার যারা পাবে তাদের ব্যপারে অন্যরা প্রশ্ন করবে হে আল্লাহ এই লোকগুলি এত বড় নিয়ামত সন্মান কিভাবে পেল?
তখন জবাব দেয়া হবে এরা রাতে যখন সকলে ঘুমিয়ে আরাম করত তারা জেগে জেগে নামাজ পড়ত। দিনে রোজা রাখত, যখন তোমরা খানা পিনায় মশগুল থাকতে। এরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত যখন তোমরা জিহাদ থেকে পলয়ন করতে।
জানলে অবাক হবেন? রাতে নামাজ না পড়লে সারাদিন অলসতায় কাটবে কারন
বুখারীর ১১৪২ নং হাদিসের বণনা
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঠ দেয়। প্রতি গিঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক।
فَإِنِ
اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ
عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ
অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পরে উযূ করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, অতঃপর সালাত আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়।
فَأَصْبَحَ
نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ
তখন তার প্রভাত হয়, উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলূষ ও আলস্য সহকারে।
===
নবীজি রাতে কি কি করতেন?
আমাদের নবীজিও উঠে অজু করতেন তারপর তাহাজ্জুদ পড়তেন, তারপর কিছুক্ষণ ঘুমাতেন তারপর উঠে অজু না করে বিতির পড়তেন, তারপর ফজরের আযান দিলে ২ রাকাত সুন্নত পড়ে আবার শুয়ে যেতেন আর নবীজির নাক ডেকে ঘুমাতেন। নবীজিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমার
" يَا عَائِشَةُ، إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ
قَلْبِي "
আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না। (বুখারী ১১৪১)
সেজন্য নবীজী নাক ডেকে ঘুমালেও অজু ভঙ্গ হতনা।, কিন্তু আমরা যদি হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে যাই, ঠেস দিয়ে ঘুমিয়ে যাই তাহলে আমাদের অজু ভেঙ্গে যাবে।
নবীজি রাতে কিভাবে কত রাকাত নামাজ পড়তেন?
আমার নবীর রাতের নামাজ ছিল খুব দীর্ঘ, সে ব্যপারে বুখারীর ১১৩৯ নং হাদিস
عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ ـ رضى
الله عنها ـ عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ. فَقَالَتْ
سَبْعٌ وَتِسْعٌ وَإِحْدَى عَشْرَةَ سِوَى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ.
মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) বাদে ৭ বা ৯ কিংবা ১১ রাক‘আত।
আমাদের নবীজি দীঘ ও অতীব সুন্দর করে তাহাজ্জুদ পড়তেন
বুখারীর ১১৪১ নং হাদিস- আয়শা (রা) বলেন নবীজি ১১ রাকাত পড়তেন তিনি ৪ রাকাত পড়তেন তারপর ৪ রাকাত তারপর ৩ রাকাত বিতির পড়তেন, বিতিরের আগে ঘুমাতেন, আয়শা বলেন নবীজি এত সুন্দর করে নামাজ পড়তেন
فَلاَ
تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ،
এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না।
নোট: বিভিন্ন হাদিসে নবীজির বিতির সহ তাহাজ্জুদ ৭ রাকাত, ৯ রাকাত, ১১ রাকাত, ১৩ রাকাত পাওয়া যায়, তাহলে ৩ রাকাত যদি বিতির বাদ যায় তা হলে তাহাজ্জুদ থাকে ৪,৬,৮,১০ রাকাত।
আমাদের করনীয়: আমরা রাত ১০ টায় ঘুমিয়ে যাব, তারপর রাত ১ টায় উঠে নামাজ পড়ব, লম্বা লম্বা সুরা দিয়ে পড়ব, ১০ রাকাত, ৮ রাকাত, ৬ রাকাত, না পারলে অন্তত ৪ রাকাত পড়ব, আর যদি প্রতিদিন তাহাজ্জুদের পর সম্ভব হয় বিতির পড়ব, তারপর ১ ঘন্টা ঘুমাব, তারপর আযান দিলে ঘরে সুন্নত পড়ে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ব। ইনশা আল্লাহ আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন।
রাতে তাহাজ্জুদ না পড়েও সারা রাত এবাদতের নেকি অজন করা যায়
সুনানে আবু দাউদ এর ৫৫৫ নং হাদিস এর বণনা: উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
" مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ
لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ
لَيْلَةٍ "
যে ব্যক্তি ’ইশার সালাত জামা’আতে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত ’ইবাদাতে কাটালো। আর যে ব্যক্তি ’ইশা ও ফজরের সালাত জামা’আতে আদায় করল, সে যেন সারা রাতই ’ইবাদাতে কাটালো
মাগরিব ও এশারের মধ্যের সময়ে ইবাদত এর ফজিলত সমুদ্রের ফেনা পরিমান গুনাহও মাফ হয়ে যাবে যেমন
মুজামুল আইসাত ১৮২৩ নং হাদীসের বণনা
হযরত আম্মার বিন ইয়াসির (রা) মাগরিবের পর ৬ রাকাত নামাজ পড়তেন এবং বলতেন নবী করিম (দ) মাগরিবের পর ৬ রাকাত নামাজ পড়তেন এবং বলতেন যে মাগরিবের পর ৬ রাকাত পড়বে তার জীবনের সমস্ত মাফ হয়ে যাবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার বরাবর হয়।
রাতের দোয়া বেশী কবুল হয়
তিরমিজি শরীফের ৩৪৯৯ নং হাদিসের বণনা: আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে,
তিনি বলেন,
قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الدُّعَاءِ
أَسْمَعُ قَالَ " جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ
الْمَكْتُوبَاتِ "
নবীজিকে প্রশ্ন করা হল: হে আল্লাহর রাসূল! কোন সময়ের দুআ বেশি (শোনা) গ্রহণযোগ্য হয়? তিনি বললেনঃ শেষ রাতের মাঝ ভাগের এবং ফরয নামাযগুলোর পরবর্তী দুআ।
যেহেতু রাতের শেষ ভাগে দোয়া কবুল হয় তাই আমাদের উচিত শেষ রাতে উঠে দোয়া করা, এছাড়াও প্রতি ফরয নামাজের পরও দোয়া করা উচিত।
রাতে আল্লাহর ডাক
রাতে
আল্লাহ বান্দাকে ডেকে
ডেকে সব
দিয়ে দেন- বুখারী শরীফের ৬৩২১ নং হাদিসের বর্ণনা:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضي الله عنه ـ
আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه
وسلم قَالَ
রাসূলুল্লাহ ﷺ
বলেছেন—
يَتَنَزَّلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ
وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
প্রতিটি রাতে আমাদের প্রতিপালক, যিনি মহান ও বরকতময়, প্রথম আকাশে অবতরণ করেন,
حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ
যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে।
يَقُولُ
তিনি বলেন:
مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟
কে আমাকে ডাকে,
আমি তার ডাকে সাড়া দেব?
مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟
কে আমার কাছে কিছু চায়, আমি তাকে তা দান করব?
وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ
لَهُ؟
কে আমার কাছে ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করব?
ঘুমানোর আগে যে সব আমল করতে নবীজি উৎসাহিত করেছেন
১) হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত হওয়া: হযরত
সাদ ইবনে
আবি ওয়াক্কাস
(রা) এর ক্ষমার
আমল ও
জান্নাতি হওয়ার
সুসংবাদ- তা
শুনে আবদুল্লাহ ইবনে
আমর বিন
আস (রা)
তার ঘরে
মেহমান হলেন
কি আমল
করেন তা
দেখার জন্য কিন্তু সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের আমল ছিল তিনি রাতে সকলকে ক্ষমা করে দিতেন কারো প্রতি হিংসা বিদ্বেষ রাখতেন না আর এই আমল এর কারনে তাকে নবীজি জান্নাতের সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
২) তাসবিহে ফাতেমী: রাতের আরো ১টি গুরুত্বপূণ আমল হল তাসবিহে ফাতেমি, বুখারীর ৬৩১৮ নং হাদিস- হযরত আলী (রা) হতে বর্ণিত নবী করিম (দ) ফাতেমা (রা) কে সারাদিনের ক্লান্তি দুর করার জন্য তাসবিহে ফাতেমি দান করেন।
৩) ঈমানী মৃত্যুর দোয়া পড়া: বুখারীর ৬৩১৫ নং হাদিস- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপর নিদ্রা যেতেন এবং বলতেনঃ
" اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي
إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً
وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ
بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ.
হে আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায়।
নবীজি ফরমান যারা এই দোয়া পড়ে ঘুমাবে আর সে রাতেই যদি তার মৃত্যু হয় তাহলে তার মৃত্যু হবে ইসলামের উপর মৃত্যু।
৪)ঘুমের আগে আরো ১টি দোয়া: বুখারীর ৬৩১২ নং হাদিস হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রা) বলেন নবী করিম (দ) ঘুমানোর সময় এই দোয়া পড়তেন
"বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া"
হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই বাঁচি। আর তিনি জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ
"আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর"
যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। আর প্রত্যাবর্তন তাঁর পানেই।
ঘুমানোর আগের মাসনুন আমলসমূহ (সংক্ষেপে):
1.
ওযু করা
2.
মিছওয়াক/দাঁত পরিষ্কার করা
3.
ডান কাত হয়ে শোয়া
4.
ডান হাত গালের নিচে রাখা
5.
ঘুমের দোআ পড়া
6.
আয়াতুল কুরসী পড়া
7.
সূরা ইখলাস, ফালাক,
নাস – ৩ বার পড়ে দম করা
8.
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (آمَنَ
الرَّسُولُ... থেকে)
9.
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ,
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ,
৩৪ বার আল্লাহু আকবর
10.
তাওবা-ইস্তিগফার করে ঘুমানো
সুরা মুলুক তেলাওয়াত করা
রাতে সুরা মুলুক তেলাওয়াত করলে কবর আযাব মাফ হবে, হাশরের মাঠে এই সুরা আপনার পক্ষে সুপারিশ করবে এবং আপনাকে যতক্ষণ জান্নাতে প্রবেশ না করাবে ততক্ষণ ক্ষান্ত হবেনা। সুবহানাল্লাহ তিরমিজির ২৮৯১ নং হাদিসের বণনা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله
عليه وسلم قَالَ " إِنَّ سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ ثَلاَثُونَ آيَةً شَفَعَتْ
لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ
الْمُلْكُ "
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনের মধ্যে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে যেটি কারো পক্ষে সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়। এ সূরাটি হল তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক।
৫) রাতে সব নামাজ দোয়া কবুল করানোর আমল
বুখারীর
১১৫৪ নং হাদিসের বণনা, নবীজি
বলেন রাতে
হঠাৎ চোখ
খুলে গেলে
দোয়া এই দোয়া পড়ে
لآ
إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللهِ وَلآ
إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ
ثُمَّ
قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي أَوْ دَعَا اسْتُجِيبَ لَهُ فَإِنْ تَوَضَّأَ
وَصَلَّى قُبِلَتْ صَلاَتُهُ
অতঃপর বলে, আল্লাহুম্মাগফিরলি’ বা (অন্য কোন) দু‘আ করে, তাঁর দু‘আ কবূল করা হয়। অতঃপর উযূ করে (সালাত আদায় করলে) তার সালাত কবূল করা হয়।
## সুতরাং রাতের বেলা যদি হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে যায়, মনে করুন এটা আপনার জন্য রহমত, আপনি সে রহমতের সময়কে কাজে লাগাবেন, সাথে সাথে পড়বেন
لآ
إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللهِ وَلآ
إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ
আল্লাহুম্মাগফিরলি তারপর দুহাত তুলে দোয়া করবেন যা দোয়া করবেন আমার নবীজির ওয়াদা সব দোয়া কবুল হবে। এরপর অজু করে এসে অন্তত ২ রাকাত নামাজ পড়বেন, আপনার নামাজ কবুল হবে।
তাহাজ্জুদে নবীজি যে দোয়া পড়তেন:
বুখারীর ৬৩১৭ নং হাদিসের বণনা: নবী করিম (দ) তাহাজ্জুদের নামাজে এই দোয়া পড়তেন
اللَّهُمَّ
لَكَ الْحَمْدُ
— হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য।
أَنْتَ
نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ
— আপনি আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং তন্মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর নূর।
وَلَكَ
الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ
— সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং তন্মধ্যে যা আছে সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।
وَلَكَ
الْحَمْدُ، أَنْتَ الْحَقُّ
— সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি হলেন সত্য।
وَوَعْدُكَ
حَقٌّ
— আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য।
وَقَوْلُكَ
حَقٌّ
— আপনার বাক্য সত্য।
وَلِقَاؤُكَ
حَقٌّ
— আপনার সাক্ষাৎ (কিয়ামতের দিন) সত্য।
وَالْجَنَّةُ
حَقٌّ
— জান্নাত সত্য।
وَالنَّارُ
حَقٌّ
— জাহান্নাম সত্য।
وَالسَّاعَةُ
حَقٌّ
— কিয়ামতের সময় সত্য।
وَالنَّبِيُّونَ
حَقٌّ
— নবীগণ সত্য।
وَمُحَمَّدٌ
حَقٌّ
— মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য।
اللَّهُمَّ
لَكَ أَسْلَمْتُ
— হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি।
وَعَلَيْكَ
تَوَكَّلْتُ
— আমি আপনারই উপর ভরসা করেছি।
وَبِكَ
آمَنْتُ
— আমি আপনাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।
وَإِلَيْكَ
أَنَبْتُ
— আমি আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি (তাওবা করে ফিরে এসেছি)।
وَبِكَ
خَاصَمْتُ
— আমি আপনার সাহায্যে যুক্তি উপস্থাপন করেছি (সত্যের জন্য বিতর্ক করেছি)।
وَإِلَيْكَ
حَاكَمْتُ
— আমি আপনার কাছেই বিচার চেয়েছি।
فَاغْفِرْ
لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ
— অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন যা আমি পূর্বে করেছি ও যা পরে করেছি।
وَمَا
أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ
— আর যা আমি গোপনে করেছি ও যা প্রকাশ্যে করেছি।
أَنْتَ
الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ
— আপনি অগ্রগামী করেন ও আপনি বিলম্ব ঘটান।
لاَ
إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
— আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।
তাহাজ্জুদের সময় ২য় দোয়া- ইবনে আব্বাসের কানে ধরার ঘটনা
বুখারী শরীফের ৬৩১৬ নং হাদিসের বণনা নবী করিম (দ)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মাইমূনাহ (রাঃ) এর ঘরে রাত্রি অতিবাহিত করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে তাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার জাগ্রত হয়ে পানির মশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করলেন যে, তাতে অধিক পানি লাগালেন না। অথচ পুরা ’উযূই করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছু বিলম্বে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক, আমি অযূ করলাম। তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।
সুতরাং আমি গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তাঁর তেরো রাক’আত সালাত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকাতেও লাগলেন। তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকাতেন। এরপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। তাঁর দু’আর মধ্যে এ দু’আও ছিলঃ
" اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا،
وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَفَوْقِي
نُورًا، وَتَحْتِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَخَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي
نُورًا "
’’হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করুন।’’
৩ রাতের ভিতর বড় বড় সমস্যা সমাধানের ওজিফা
আল্লামা শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) লিখেন ৪ রাকাত নামাজ তাহাজ্জুদের সময় পড়লে এরপর যে দোয়া করবেন তা কবুল হবে, যা চাইবেন তাই পাবেন।
নামাজের নিয়ম হল ৪ রাকাত নামাজ হাজতের নিয়তে পড়বে, নিয়ত করবে আমি হাজত পুরনের জন্য ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়ছি।
১ম রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়তে হবে (রাব্বি আন্নি মাসসানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিনি)
২য় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়বে (ওয়া উফাব্বিদু আমরি ইলাল্লাহ ইন্নাল্লাহা বাসিরুম বিল ইবাদ)
৩য় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়তে হবে (রাব্বি আন্নি মাসসানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিনি)
৪থ রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়তে হবে (হাসবুনাল্লাহু ওয়ানিমাল ওয়াকিল নেমাল মাওলা ওয়া নেমান নাসির)
এভাবে ৪ রাকাত নামাজ শেষ করে সালাম ফিরানোর পর পুনরায় সিজদায় গিয়ে ৩ বার দরুদ শরীফ পড়ার পর ১০০ বার পড়তে হবে (রাব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির) তারপর ৩ বার আবার দরুদ শরীফ পড়ে যে উদ্দেশ্যে যে প্রয়োজনে কিংবা যে সমস্যার সমাধানের জন্য এই নামাজ পড়েছেন সে বিষয়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় দোয়া করবেন।
ইনশাল্লাহ আপনার সে সমস্যা যত বড়ই হউক পাহাড়ের সমান সমস্যা হলেও ৩ রাতের ভিতর তা সমাধান হয়ে যাবে।
শাহ অলিউল্লাহ (রহঃ) তিনি কোন ছোট খাটো মুহাদ্দিস নয় তিনি এমন একজন বড় মাপের মুহাদ্দিস যার মাধ্যমে এই উপমহাদেশে এলমে হাদিসের নেয়ামত মানুষ লাভ করেছেন।
তিনি এই নামাজের এত উপকারের কারন হিসেবে বননা করেন যখন হযরত আইয়্যুব (আঃ) দোয়া করেছিলেন (রাব্বি আন্নি মাসসানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিনি) তখন আল্লাহ তায়ালা জবাব দেন হযরত আইয্যূব (আঃ) এর দোয়া শুনে নিয়েছি। তেমনি ভাবে উহুদ যুদ্ধে সাহাবাগন পড়েছেন (হাসবুনাল্লাহু ওয়ানিমাল ওয়াকিল) আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়াও কবুল করেছেন। আবার যখন হযরত নুহ (আঃ) দোয়া করেছিলেন (রাব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির) তখনও আল্লাহ সে দোয়া কবুল করেন। সুতরাং এই কুরআনি দোয়া এমন যার পর দোয়া কবুল হওয়ার কথা পবিত্র কুরআনেই বিদ্যমান আছে, সে জন্য এই আমল করলে যত বড় মসিবত হউকনা কেন যত বড় বিপদ হউক না কেন যত বড় সমস্যাই হউক সবকিছুই আল্লাহর রহমতে সমাধান হয়ে যায়।
এই নামাজ তাহাজ্জুদের সময় পড়া উত্তম অথবা এশারের পর যে কোন সময় পড়া যায়।
# সুরা ওয়াকেয়া – আবদুল্লাহ বিন মাসউদ ও উসমান (রা) এর ঘটনা
রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতি রাতের সূরা ওয়াকেয়া পড়বে, সে কখনো অভাবগ্রস্ত হবে না।" (ইমাম বায়হাকি, শু'আবুল ঈমান
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)–এর ঘটনা: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) ছিলেন কুরআনের একজন প্রধান সাহাবী। একদিন তিনি অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। তখন উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) তাকে দেখতে গেলেন এবং তাকে কিছু অর্থ সাহায্য দিতে চাইলেন।তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন:“আমি এটা চাই না। ”উসমান (রাঃ) ললেন:
“তুমি তো দরিদ্র, এটা গ্রহণ করে নাও।”তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বললেন: “আমি তো শুনেছি, যে ব্যক্তি সূরা ওয়াকেয়া নিয়মিত পড়ে, সে কখনো দরিদ্র হবে না। আর আমি এ সূরাটি নিয়মিত পড়ি।”
একনজরে রাতের বেলায় করনীয় আমল সমুহ
রাতের বেলায় করণীয় আমলগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা।
২. রাতের বেলায় ইবাদত করা।
৩. কুরআন ধীরে ধীরে পাঠ করা।
৪. ভয় ও আশার সাথে পালনকর্তাকে আহ্বান করা।
৬. মধ্যরাতের নামাজ আদায় করা।
৭. এশারের সালাত জামা’আতে আদায় করা।
৮. ইশা ও ফজরের সালাত জামা’আতে আদায় করা।
৯. মাগরিব ও এশারের মধ্যবর্তী সময়ে ইবাদত করা (৬ রাকাত নামাজ)।
১০. শেষ রাতের মাঝ ভাগে এবং ফরয নামাযগুলোর পরবর্তী দুআ করা।
১১. ঘুমানোর আগে হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত হওয়া।
১২. তাসবিহে ফাতেমী পড়া (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবর)।
১৩. ঈমানী মৃত্যুর দোয়া পড়া।
১৪. ঘুমের আগে "বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া" দোয়া পড়া।
১৫. ঘুম থেকে জেগে "আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর" দোয়া পড়া।
১৬. ঘুমানোর আগে ওযু করা।
১৭. ঘুমানোর আগে মিছওয়াক/দাঁত পরিষ্কার করা।
১৮. ডান কাত হয়ে শোয়া।
১৯. ডান হাত গালের নিচে রাখা।
২০. আয়াতুল কুরসী পড়া।
২১. সূরা ইখলাস, ফালাক,
নাস – ৩ বার পড়ে দম করা।
২২. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া।
২৩. তাওবা-ইস্তিগফার করে ঘুমানো।
২৪. রাতে সূরা মুলুক তেলাওয়াত করা।
২৫. রাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে নির্দিষ্ট দোয়া (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু...) ও দুআ করা।
২৬. তাহাজ্জুদে নির্দিষ্ট দোয়াগুলো পড়া।
২৭. ৪ রাকাত হাজতের নামাজ পড়া (নির্দিষ্ট সূরা ও তাসবীহ সহ)। সিজদায় গিয়ে নির্দিষ্ট তাসবীহ ও দরুদ শরীফ পড়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় দোয়া করা।
২৮. প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পড়া।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেককে রাতের আঁধারের এসব ইবাদত করার
তৌফিক দান করুন আমিন
কোন মন্তব্য নেই