কুরবানি সার্থক করতে ৭টি গোপন আমল করুন। ১টি ভুলে কুরবানি ব্যর্থ হয়ে যাবে।

 

কুরবানি সার্থক করতে ৭টি গোপন আমল করুন। ১টি ভুলে কুরবানি ব্যর্থ হয়ে যাবে।

"আসসালামু আলাইকুম। কুরবানি কেবল হাটে গিয়ে একটি পশু কিনে আনা আর জবেহ করার নাম নয়। আপনি কি জানেন, কুরবানির পশুটি যখন আপনার ঘরের দরজায় পা রাখে, ৭টি গোপন আমল আছে সেগুলি যদি করেন তখন থেকেই আপনার আমলনামায় এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়? পশুর শরীরের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি পাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি রাসূল (সা.) দিয়েছেন, তা অর্জন করতে হলে আপনাকে পশুটি ঘরে আনার পর এমন কিছু বিশেষ আমল ও নিয়ম মানতে হবে যা হয়তো আগে কখনো শোনেননি।

এমন কিছু ছোট কাজ আছে যা আপনার পশুটিকে মহান আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে কবুল করাবে, আপনার পাহাড়সম গুনাহ মাফ করে দেবে এবং খোদ আরশের মালিককে আপনার ওপর সন্তুষ্ট করে তুলবে। আবার আপনার অজান্তেই করা ছোট একটি ভুলের কারণে এই বিশাল ত্যাগ হয়তো পণ্ড হয়ে যেতে পারে। আপনি কি জানতে চান সেই গোপন আমলগুলো কী? আপনার কুরবানি কি আসলেই সার্থক হচ্ছে? আজকের এই দীর্ঘ ভিডিওতে আমি পশু কেনা থেকে শুরু করে জবেহ এবং বণ্টন পর্যন্ত এমন সব অজানা রহস্য ও নিয়ম শেয়ার করবো, যা আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং আল্লাহর অশেষ রহমত নিশ্চিত করবে। পুরো ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ আজকের প্রতিটি কথা আপনার পরকালের পাথেয় হতে পারে।"

২. কুরবানির ফজিলত, সওয়াব ও গুনাহ মাফের মহিমা: 

কুরবানির ফজিলত সম্পর্কে বলতে গেলে আমাদের প্রথমেই হৃদয়ে ত্যাগের মহিমা লালন করতে হবে। এটি কেবল পশু জবেহ নয়, বরং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার পরীক্ষা। হাদিস শরীফে এসেছে, কুরবানির দিনে মানুষের করা আমলগুলোর মধ্যে পশু জবেহ করার চেয়ে প্রিয় কোনো আমল আল্লাহর কাছে নেই। কিয়ামতের দিন এই পশুটি তার শিং, পশম এবং খুরসহ উপস্থিত হবে এবং আপনার সওয়াবের পাল্লাকে ভারী করবে। সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো, কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় এবং বান্দার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। যখন আপনি পশুর গলায় ছুরি চালাচ্ছেন, তখন আসলে আপনি আপনার ভেতরের পশুত্ব এবং অহংকারকে জবেহ করছেন। সাহাবায়ে কেরাম যখন রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, এই কুরবানি আমাদের জন্য কী সওয়াব বয়ে আনবে?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি।" একটু চিন্তা করে দেখুন, একটি গরুর শরীরে লক্ষ লক্ষ পশম থাকে, আর আল্লাহ আমাদের সেই পরিমাণ নেকি দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। তাই পশুটিকে অবহেলা করবেন না, কারণ এটি আপনার পরকালের পুলসিরাত পার হওয়ার সওয়ারি হবে। আপনার নিয়ত যদি খাঁটি হয়, তবে এই কুরবানির উসিলায় আল্লাহ আপনার রিজিক বাড়িয়ে দেবেন এবং আপনার জীবনে বরকত নাজিল করবেন।

কুরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। অনেকে ভাবেন, "১২ বছর ধরে কুরবানি দিচ্ছি, এবার না দিলে লোকে কী বলবে?" মনে রাখবেন, মানুষের কথায় বা মানুষের ভয়ে ইবাদত করা বা ছেড়ে দেওয়াদুটোই শিরকের পর্যায়ে পড়ে। প্রখ্যাত আলেম ফুজাইল ইবনে আয়ায (রহ.) বলেছেন, "মানুষের জন্য আমল করা যেমন রিয়া (লোকদেখানো), তেমনি মানুষের জন্য আমল ছেড়ে দেওয়াও ইখলাসের পরিপন্থী।" আপনার মনে যদি লোকদেখানো ইচ্ছা থাকে, তবে সেই কুরবানি কেবল গোশত খাওয়ার উৎসবে পরিণত হবে। তাই 'খুশি মনে' কোরবানি দিন। পশুর দাম নিয়ে বা ওজন নিয়ে বাহাদুরি নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটু বেশি খরচ করাও সওয়াবের কাজ।

আমাদের সমাজে একটি বড় ভুল ধারণা হলোপরিবারের কর্তা বা বাবা কুরবানি দিলে সবার পক্ষ থেকে হয়ে যায়। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। কুরবানি একটি ব্যক্তিগত ইবাদত। পরিবারের বড় ছেলে যদি উপার্জন করে এবং তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর আলাদা কুরবানি ওয়াজিব। এমনকি অবিবাহিত মেয়ের কাছে যদি নিজস্ব সম্পদ বা গয়না থাকে, তবে তাকেও আলাদা কুরবানি দিতে হবে। মনে রাখবেন, পরিবারের সবাই মিলে কুরবানি দেওয়া মানে কেবল গোশতের ব্যবস্থা করা, এটি শরয়ি কুরবানি নয় যদি না প্রত্যেকের ওয়াজিব আদায় হয়।

বর্তমান সময়ে অনেক মা-বোনের কাছে পর্যাপ্ত স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা জমা থাকে। ১০ই জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত যদি কোনো মহিলার কাছে এক ভরি স্বর্ণ এবং সামান্য কিছু নগদ টাকাও থাকে, তবে বর্তমান বাজারমূল্যে তা নিসাব (সাড়ে ৫২ তোলা রূপার দাম) ছাড়িয়ে যায়। এমতাবস্থায় ঐ মহিলার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। আমাদের অনেক মা-বোন কেবল অজ্ঞতার কারণে এই ইবাদত থেকে বঞ্চিত হন। যদি টাকা না থাকে, তবে গয়নার কিছু অংশ বিক্রি করে বা জমাকৃত টাকা দিয়ে হলেও কুরবানি দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কুরবানির পশুর রক্ত বা গোশত তাঁর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল আপনার হৃদয়ের তাকওয়াবা খোদাভীতি। আপনি কত বড় গরু কিনলেন বা বাজারে কত কাদা ভেঙে পশু পছন্দ করলেন, সেটা বড় কথা নয়; আপনার হৃদয় গুনাহমুক্ত কি না এবং আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসা কতটা গভীরআল্লাহ সেটাই দেখেন। সবাই দেখে পশুর শরীর, আর রব দেখেন আপনার কলিজা। তাই পশুটি কেনার সময় যেমন যত্ন নিচ্ছেন, নিজের কলিজা বা নিয়তটাকেও তেমন পবিত্র করুন।

সামর্থ্য থাকার পরও যারা কুরবানি দেয় না, তাদের ব্যাপারে নবীজি (সা.) অত্যন্ত কঠোর ধমক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "সামর্থ্য থাকার পরও যে কুরবানি করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।" এটি কোনো সামাজিক প্রথা নয় যে চাইলে বাদ দেওয়া যায়; এটি একটি আর্থিক ইবাদত। তাই কৃপণতা ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করার অভ্যাস গড়ুন।

৩. পশু ক্রয়ের সময় সাবধানতা ও সুস্থ পশুর বৈশিষ্ট্য: 

পশু কেনার সময় আমাদের অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে, কারণ একটি ত্রুটিযুক্ত পশু আপনার কুরবানিকে বাতিল করে দিতে পারে। শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী, পশুটি হতে হবে রিষ্টপুষ্ট এবং দৃশ্যমান বড় কোনো রোগ থেকে মুক্ত। প্রথমেই বয়সের দিকে খেয়াল রাখুন; গরু বা মহিষের ক্ষেত্রে অন্তত ২ বছর এবং ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার ক্ষেত্রে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে। যদি ছাগলের বয়স ১ বছরের একদিন কমও হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে না (তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ৬ মাস বয়সে দেখতে ১ বছরের মতো লাগে, তবে ভিন্ন কথা)। এরপর পশুর শারীরিক খুঁতগুলো খুব ভালো করে পরীক্ষা করুন। যে পশুর দৃষ্টিশক্তি নেই বা একটি চোখ অন্ধ, যে পশু লেংড়া অর্থাৎ জবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না, কিংবা যে পশুর কান বা লেজের এক-তৃতীয়াংশের বেশি কাটাসেই পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবে না। যদি দেখেন পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে উপড়ে গেছে, তবে সেটিও কেনা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনি আল্লাহর রাস্তায় আপনার সবচেয়ে প্রিয় এবং সুন্দর জিনিসটি উৎসর্গ করছেন, তাই বাজারের সবচেয়ে দুর্বল বা অসুস্থ পশুটি বেছে নেওয়া মোটেও সমীচীন নয়। পশুটি কেনার সময় তার দাঁত দেখে বয়স নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এটিও নিশ্চিত হোন যে পশুটি স্বাভাবিকভাবে ঘাস বা খাবার খাচ্ছে কি না।

৪. পশু ঘরে আনার পর যত্ন, আমল ও নিষিদ্ধ কাজসমূহ: 

কুরবানির পশুটি যখন আপনি ঘরে নিয়ে এলেন, তখন থেকে সে আপনার মেহমান এবং মহান আল্লাহর আমানত। এই সময় কিছু কাজ আপনার জন্য সওয়াবের কারণ হবে, আবার কিছু কাজ করলে আপনার গুনাহ হতে পারে। পশুটিকে পরম মমতায় খাওয়ানো এবং তার শরীর পরিষ্কার রাখা অনেক সওয়াবের কাজ। মনে রাখবেন, পশুকে কষ্ট দেওয়া বা অকারণে মারধর করা কঠোর গুনাহের কাজ। অনেকে পশুকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বা ভারী কিছু বহন করানএটি একদমই করবেন না। কুরবানির পশুর পিঠে চড়া, তাকে দিয়ে হাল চাষ করা বা মাল বহন করা শরীয়তে নিষিদ্ধ। এমনকি পশুর দুধ পান করাও আপনার জন্য জায়েয নয়যদি দুধ দোহানো হয়, তবে তা গরীব-মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে। পশুর যত্ন নিতে গিয়ে আপনি যদি তাকে মহব্বত করেন, তবে সেই মায়া বা দয়ার বিনিময়ে আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করবেন। পশুকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সে আরাম পায় এবং মশা-মাছি তাকে কষ্ট না দেয়। পশুর প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস এবং আপনার নেওয়া প্রতিটি যত্নের হিসাব আল্লাহর কাছে রয়েছে। এই কয়েক দিন পশুটির সেবা করাকে নিজের জন্য সৌভাগ্য মনে করুন।

৫. আকস্মিক সমস্যা: হারিয়ে যাওয়া, অসুস্থ হওয়া বা মারা গেলে করণীয়: 

কুরবানির আগে পশু হারিয়ে গেলে বা মারা গেলে অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়েন। এখানে ধনী এবং গরীবের জন্য নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। আপনি যদি সম্পদশালী হন এবং আপনার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে পশু হারিয়ে গেলে বা মারা গেলে আপনাকে অবশ্যই পুনরায় অন্য একটি পশু কিনে কুরবানি দিতে হবে। এতে অবহেলা করলে আপনি ওয়াজিব তরক করার গুনাহগার হবেন। অন্যদিকে, যদি কোনো গরীব মানুষ অতি কষ্টে টাকা জমিয়ে কুরবানির জন্য পশু কেনেন এবং সেটি চুরি হয়ে যায় বা মারা যায়, তবে তার ওপর পুনরায় অন্য পশু কেনা বাধ্যতামূলক নয়; তবে তিনি যদি আবার কিনতে পারেন, তবে তা অনেক সওয়াবের কাজ। যদি পশু কেনার পর সেটি অসুস্থ বা লেংড়া হয়ে যায়, তবে ধনী ব্যক্তির উচিত সেটি বদলে একটি সুস্থ পশু কুরবানি দেওয়া। আর যদি হারানো পশুটি কুরবানির পরে ফিরে পাওয়া যায় এবং ইতিমধ্যে অন্য পশু জবেহ করা হয়ে থাকে, তবে ধনী ব্যক্তির ওপর সেটি আর জবেহ করা জরুরি নয়, কিন্তু গরীব ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেটিও জবেহ করা উত্তম বলে গণ্য করা হয়। এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা মুমিনের পরিচয়।

৬. ভাগে কুরবানি, অংশীদার নির্বাচন ও সঠিক নিয়ত: 

আমাদের দেশে ভাগে বা শরিকানায় কুরবানি করার প্রচলন অনেক বেশি। গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ ৭ জন শরিক হতে পারেন। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অংশীদারদের নিয়ত। যদি সাতজনের মধ্যে একজনের নিয়তেও লোক দেখানো ভাব থাকে বা কেবল গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তবে বাকি ছয়জনের কুরবানিও আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। তাই শরিক নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখুন তারা যেন ধর্মপ্রাণ হন এবং তাদের উপার্জনের উৎস যেন হালাল হয়। সূদ বা ঘুষের টাকা মিশে গেলে পুরো কুরবানির বরকত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ভাগের ক্ষেত্রে ওজন বা মাপের চেয়ে অন্তরের স্বচ্ছতা বেশি জরুরি। গোশত বণ্টনের সময়ও দাঁড়িপাল্লায় নিখুঁতভাবে মেপে সমান ভাগে ভাগ করা ওয়াজিব, যাতে কারো মনে কোনো খটকা না থাকে। অংশীদারদের মধ্যে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ত্যাগের মনোভাব থাকতে হবে।

৭. জবেহ করার সঠিক পদ্ধতি ও আদব: 

জবেহ করার সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিটি কাজের মধ্যে দয়া প্রদর্শন করতে। পশুকে জবেহ করার আগে ছুরি খুব ভালো করে ধার দিয়ে নিন যাতে পশুর কষ্ট কম হয়, তবে খেয়াল রাখবেন পশুর সামনে যেন ছুরি ধার দেওয়া না হয়এটি পশুকে ভয় দেখানো এবং গুনাহের কাজ। এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবেহ করাও অনুচিত। জবেহ করার সময় পশুকে কিবলামুখী করে শোয়ান এবং 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' বলে জবেহ করুন। জবেহ করার পর পশুটি পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগে বা প্রাণ বের হওয়ার আগে তার চামড়া ছাড়ানো, পা কাটা বা ঘাড় মটকানো শুরু করবেন না। এটি পশুকে চরম অমানবিক কষ্ট দেওয়া এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি করলে গুনাহ হবে। কসাইকে মজুরি দেওয়ার সময় কখনোই পশুর গোশত বা চামড়া দিয়ে মজুরি মেটাবেন না। কসাইয়ের পারিশ্রমিক আপনাকে আলাদা নগদ টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে হবে, তবে চাইলে তাকে হাদিয়া হিসেবে আলাদা গোশত দিতে পারেন।

৮. উপসংহার: 

প্রিয় দর্শক, আজকের এই দীর্ঘ আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে কুরবানি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। পশু কেনা থেকে শুরু করে তার যত্ন নেওয়া এবং সঠিক পদ্ধতিতে জবেহ করার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর রহমত অর্জন করতে পারি। আমাদের পশুটি যেন আমাদের অহংকারকে চূর্ণ করে এবং তাকওয়া বাড়িয়ে দেয়। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার পশুর রক্ত বা গোশত চান না, তিনি কেবল আপনার অন্তরের তাকওয়া দেখেন। আশা করি, এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার কুরবানি কেবল সার্থকই হবে না, বরং এটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং আখেরাতে নাজাতের উসিলা হবে। ভিডিওটি যদি আপনার উপকারে আসে, তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করে এই সঠিক তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন। আল্লাহ আমাদের সবার কুরবানি কবুল করুন এবং এর উসিলায় আমাদের গুনাহ মাফ করে দিন। আমীন।

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.