মুমূর্ষু রোগীর জন্য ৬টি কুরআনী আয়াত | রোগ থেকে মুক্তির কোরআনী চিকিৎসা। সুস্থতার দোয়া

 

মুমূর্ষু রোগীর জন্য ৬টি কুরআনী আয়াত | শিফা ও রুহানী চিকিৎসা। সুস্থতার দোয়া

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

প্রিয় বন্ধুরা, মাত্র তিন দিন! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেনমাত্র তিনটি দিন এই নববী চিকিৎসাটি নিজে আমল করে দেখুন। বড় থেকে বড় রোগী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো চিরস্থায়ী রোগে ভুগছেন এবং সব জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোনো আরোগ্য লাভ হচ্ছে না, আল্লাহর রহমতে তিনিও অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠবেন, ইনশাআল্লাহ!

আল্লাহর কালামের ভেতর তিনি নিজেই শিফাবা নিরাময় লুকিয়ে রেখেছেন। যখন একজন মানুষ সব দিক থেকে হতাশ হয়ে যায়, চারপাশের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন আল্লাহর কালামের পথ উন্মুক্ত হয়। আজ আপনারা আল্লাহর কালামের সেই অসীম ক্ষমতা এবং পবিত্র কুরআন মাজিদের অলৌকিক শক্তি নিজের চোখে দেখতে পাবেন। রোগ আপনার বা আপনার প্রিয়জনের যাই হোক না কেন, কঠিন কিংবা অসাধ্যআজকের ভিডিওতে দেখানো বিশেষ ৬টি আয়াত পড়ে পানির ওপর দম করে পান করিয়ে দেখুন। আল্লাহর ফজল করমে প্রতিটি রোগ থেকে মুক্তি মিলবে, প্রতিটি কষ্ট থেকে শিফা অর্জিত হবে।

এটি এতটাই পরীক্ষিত এবং চমৎকার একটি আমল যে, যুগ যুগ ধরে লাখো মানুষ এর মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। এমন অনেক মানুষ, যারা ডাক্তারদের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন, এমনকি বড় বড় হাসপাতালের ডাক্তাররা পর্যন্ত জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন যে—"এই রোগীকে বাড়ি নিয়ে যান, উনার আর কোনো চিকিৎসা নেই, শুধু সেবা করুন"আল্লাহর কালামের এই আয়াতগুলোর বরকতে সেইসব লা-ইলাজবা অসাধ্য রোগীও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন!

তবে বন্ধুরা, এই অলৌকিক আমলটির সুফল পেতে হলে আপনাকে একটি বিশেষ বিন্যাস বা পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। ঠিক একটি শব্দ আগে-পিছে না করে এবং একটি সংখ্যারও কম-বেশি না করে যদি আপনি এটি নিয়মমতো করতে পারেন, তবে ইনশাআল্লাহ প্রথম দিন থেকেই এর বরকত নিজের চোখে দেখতে পাবেন। পবিত্র কুরআনের এমন কিছু মোজেজা বা অলৌকিক রহস্য আছে, যা দেখে আজকের আধুনিক বিজ্ঞান পর্যন্ত রীতিমতো হয়রান স্তব্ধ হয়ে গেছে!

প্রিয় বন্ধুরা আজকে মুজাররব ৬ আয়াতের আমলটি বলার আগে কয়েকটি পাওয়ারফুল নববী চিকিৎসা নববী দোয়া ও বুযুর্গানে দ্বীনের জীবনের সবশ্রেষ্ঠ রুহানি চিকিৎসার কথা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যা যে কোন সময় আমাদের নানা ধরনের অসুখ বিসুখে কাজে লাগবে, আমাদের সব সময় এই আমল ও দোয়া গুলি বাস্তব জীবনে লাগে তাই ভিডিওটি শেয়ার করে রেখে দিন। আর আপনি অসুস্থ হলে কমেন্টে আমিন লিখুন, এখানে লক্ষ লক্ষ দশক যখন আমিন লিখবেন তাদের মধ্যে কোন একজনের আমিন যদি আল্লাহ কবুল করেন তার উসিলায় আপনার আমিনও কবুল হয়ে যাবে।

আজকের এই একটি ভিডিও আপনার এবং আপনার পরিবারের সারাজীবনের জন্য অতি মূল্যবান একটি সম্পদ হয়ে থাকবে। কারণ, আজ আমি শুধু আমলই বলব না, বরং এর সাথে ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত বুযুর্গ ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)-এর জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য বাস্তব সত্য ঘটনা শোনাবো, যা শুনলে আপনার ঈমান বহুগুণ বেড়ে যাবে, রোগে শোকে হতাশ হলে সে হতাশা দুর হয়ে যাবে।

তাই একটি সেকেন্ডও মিস না করে, অত্যন্ত মনোযোগের সাথে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। কারণ আজকের এই মিনিটের তথ্য আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের সমাধান করে দিতে পারে। চলুন, মূল আমলে যাওয়া যাক...

অনেক পুরাতন রোগ থেকে মুক্তির ঘটনা: ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও আল্লাহর ওলি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)-এর কাছে একবার এক ব্যক্তি এসে আক্ষেপ করে বললেন, "হুজুর, গত বছর ধরে আমার হাঁটুতে একটি গভীর ক্ষত হয়ে আছে। কত ডাক্তার দেখালাম, কত ওষুধ খেলাম, কিন্তু রক্ত-পুঁজ পড়া কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না।"

আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) তাকে একটি চমৎকার আত্মিক পরামর্শ দিলেন। তিনি বললেন:

"তুমি এমন একটি এলাকায় যাও যেখানে মানুষের পানির খুব অভাব, সেখানে গিয়ে নিজের অর্থ দিয়ে একটি পানির কুয়া (টিউবওয়েল) খনন করে দাও। আমার প্রবল আশা, ওই কুয়া থেকে যখন পানি উঠতে শুরু করবে, আল্লাহ তোমার হাঁটুর রক্ত পড়াও বন্ধ করে দেবেন।"

লোকটি তাঁর কথা শুনে একটি পানির কুয়া তৈরি করে দিল। অলৌকিকভাবে কুয়াটি চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দীর্ঘ বছরের সেই পুরনো রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে গেল। (এটি বিখ্যাত গ্রন্থ 'সহিহ আত-তারগিব'- বর্ণিত হয়েছে)

আমাদের জন্য আমল: প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, "তোমরা সদকা (দান-সদকা) করার মাধ্যমে তোমাদের অসুস্থদের চিকিৎসা করো।" (সুনানে বায়হাকী) যেকোনো রোগের সময় গরিব-দুঃখীকে কিছু দান করে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাওয়া অত্যন্ত কার্যকরী একটি আমল।

পেটের রোগে চমৎকার নববী চিকিৎসা: সহিহ বুখারীতে বর্ণিত একটি বিখ্যাত ঘটনা। এক সাহাবী নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাইয়ের পেটে অসুখ (ডায়রিয়া) হয়েছে।" নবীজি (সা.) তাকে বললেন, "তাকে মধু খাওয়াও।"

সেই লোক তার ভাইকে মধু খাওয়ালেন, কিন্তু রোগ কমলো না। তিনি আবার এসে বললেন, "রোগ তো কমেনি!" নবীজি আবারও বললেন, "মধু খাওয়াও।" এভাবে তিনবার বলার পরও যখন রোগ কমলো না, তখন চতুর্থবারে নবীজি (সা.) একটি ঐতিহাসিক কথা বললেন: "আল্লাহর কথা সত্য, আর তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে! তাকে আবারও মধু খাওয়াও।"

লোকটি গিয়ে আবারও মধু খাওয়ালেন এবং অলৌকিকভাবে তার ভাই একেবারে সুস্থ হয়ে গেল।

শিক্ষণীয়: প্রথম দিকে মধু খাওয়ার কারণে পেটের ভেতরের দূষিত পদার্থগুলো বের হচ্ছিল, যা বাহ্যিকভাবে রোগ বাড়ার মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু নবীজির বিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে পূর্ণ ডোজ শেষ করতেই আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন।

প্রিয় দর্শক ৬ আয়াতের শক্তিশালী কোরানী চিকিৎসাটি কিছুক্ষন পরেই বিস্তারিত বণনা করব তার আগে সুরা ফাতেহার শক্তির অলৌকিক ঘটনাটি শুনাতে চাই

সুরা ফাতেহা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার ঘটনা: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক সফরে একদল সাহাবী এক আরব গোত্রের কাছে মেহমানদারী চাইলেন, কিন্তু তারা মেহমানদারী করতে রাজি হলো না। এর কিছুক্ষণ পর অলৌকিকভাবে সেই গোত্রের প্রধানকে একটি বিছা বা সাপে কামড়ালো। তারা অনেক চিকিৎসা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলো না।

তখন তারা নিরুপায় হয়ে সাহাবীদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, "আপনাদের কাছে কি কোনো চিকিৎসা আছে?" সাহাবীরা বললেন, "হ্যাঁ আছে, তবে তোমরা যেহেতু আমাদের মেহমানদারী করোনি, তাই আমরা বিনিময়ে একপাল ছাগল নেব।" তারা রাজি হলো।

এরপর একজন সাহাবী (আবু সাঈদ খুদরী) গিয়ে গোত্রপ্রধানের ওপর শুধু সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিতে লাগলেন। অলৌকিকভাবে লোকটা সাথে সাথে এমনভাবে সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়াল, যেন সে কোনো বাঁধন থেকে মাত্র মুক্ত হলো! (সহিহ বুখারী)

প্রিয় বন্ধুরা ইসলামের ইতিহাসে যমযমের পানির দ্বারা রোগ মুক্তির একটি হৃদয়ছোয়া ঘটনাও আজ আপনাদের কাছে শেয়ার করতে চাই, আপনার ঘরে যদি জমজমের পানি থাকে তাহলে আপনি ভাগ্যবান।  

ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত পণ্ডিত ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) তাঁর 'যাদুল মাআদ' গ্রন্থে নিজের একটি বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

"একবার আমি মক্কায় অবস্থানকালে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। সেখানে কোনো ডাক্তার বা ওষুধ ছিল না। ব্যথায় আমি প্রায় নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। তখন আমি নিজেই নিজের চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি এক গ্লাস যমযম পানি নিতাম এবং তার ওপর বারবার সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিতাম। এরপর সেই পানি পান করতাম। আল্লাহর কসম! এতে আমি এত দ্রুত অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে যেতাম যে আমি নিজেই অবাক হয়ে যেতাম। পরবর্তীতে যখনই আমার কোনো শারীরিক কষ্ট হতো, আমি এই আমলটি করতাম এবং সুস্থ হয়ে যেতাম।"

প্রিয় ভাই ও বোনেরা ১টি সুখবর হলো নবীজির শেখানো সর্বরোগের ১টি দোয়া আছে প্রিয় নবীজি (সা.) তাঁর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তার গায়ে ডান হাত বুলিয়ে এই দোয়াটি পড়তেন:

«أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا»

উচ্চারণ: আজহিবিল বা'সা রাব্বান-না-সি, ওয়াশফি আন্তাশ-শা-ফী, লা- শিফা- ইল্লা- শিফা-উকা, শিফা-আন লা- ইউগাদিরু সাক্বামা।

অর্থ: "হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যকারী, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগকে অবশিষ্ট রাখে না।" (সহিহ বুখারী)আপনিও যে কোন রোগে এই নববী দোয়ার আমলটি শুধু একবার করবেন ইনশাআল্লাহ সে রোগ থেকে এমন ভাবে মুক্তি মিলবে যে তার ছিটেফোটাও বাকি থাকবেনা।

প্রিয় দর্শক শরীরের যে কোন প্রচন্ড ব্যথার জন্য অত্যন্ত পরিক্ষিত ১টি নববী দোয়া আছে শরীরের যেকোনো স্থানে (মাথা, পেট বা বুকে) ব্যথা হলে সেখানে ডান হাত রেখে প্রথমে বার 'বিসমিল্লাহ' বলবেন, তারপর নিচের দোয়াটি বার পড়বেন:

«أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ»

উচ্চারণ: আউযু বি'ইযযাতিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা- আজিদু ওয়া উহা-যিরু।

অর্থ: "আল্লাহর ইজ্জত কুদরতের উসিলায় আমি আমার অনুভূত আশঙ্কিত রোগ বা ব্যথা থেকে পানাহ চাচ্ছি।" (সহিহ মুসলিম)

কঠিন বা দীর্ঘস্থায়ী পুরাতন রোগ থেকে মুক্তির দোয়া: হযরত আইয়ুব (.) যখন ১৮ বছর কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে এই দোয়াটি করেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর রোগ অলৌকিকভাবে ভালো করে দিয়েছিলেন:

«رَبِّ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ»

উচ্চারণ: রাব্বী আন্নী মাস্সানিয়াদ্ দুর্রু ওয়া আন্তা আরহামুর রা-হিমীন।

অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা, আমি তো কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৩)আপনারও যদি কোন পুরাতন রোগ থাকে আজ থেকেই এই আয়াতটি বেশী বেশী পড়ুন, বিশেষ করে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর অন্তত ১ বার এই আয়াতটি পড়বেন। 

বন্ধুরা শারিরিক দূর্বলতা, মানসিক দুশ্চিন্তার জন্যও ১টি নববী আমল আছে কুরআন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) মানুষের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং দুরুদ শরীফ মানুষের দুশ্চিন্তা রোগব্যাধি দূর করে। যেকোনো অসুস্থতায় দিনে ১০০ বার বা তার বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ এবং দুরুদ শরীফ পড়া মানসিক প্রশান্তি দ্রুত রোগমুক্তির কারণ হয়।

এবার আসুন আমাদের আজকের সে ৬ আয়াতের কোরানী চিকিৎসার আমল। যার নিয়ম কানুন গুলি খুব মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে, তাহলে আপনার ঘরে যদি কোন মুমুর্ষ রোগী থাকে তার জন্য আমলটি সঠিক নিয়মে করতে পারবেন। 

বিখ্যাত বুযুর্গ ইমাম কুশায়রী (রহ.)-এর একটি সন্তান একবার এত মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, সে মৃত্যুর মুখে চলে যায়। ইমাম কুশায়রী সন্তানের এই কষ্ট দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

এক রাতে তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জিয়ারত লাভ করেন। স্বপ্নে তিনি নবীজিকে নিজের সন্তানের কষ্টের কথা জানান। তখন নবীজি (সা.) তাকে বললেন, "তুমি কি কুরআনের 'আয়াতে শিফা' (আরোগ্যের আয়াতসমূহ) সম্পর্কে জানো না? সেগুলো পড়ে ওর ওপর ফুঁ দাও।"

ঘুম থেকে উঠে ইমাম কুশায়রী (রহ.) পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরা থেকে আরোগ্য সংক্রান্ত ৬টি আয়াত খুঁজে বের করলেন। তিনি আয়াতগুলো একটি পাত্রে লিখে তা পানি দিয়ে ধুয়ে সন্তানকে পান করালেন। অলৌকিকভাবে ছেলেটি সাথে সাথে এমনভাবে সুস্থ হয়ে উঠল, যেন সে কখনো অসুস্থই ছিল না!

পাত্রে লেখার সময় নিচের এই ছয়টি আয়াত বা আয়াতাংশ লিখতে হবে:

·         ১ম আয়াত: وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ

·         উচ্চারণ: ওয়া ইয়াশফি সুদূরা ক্বাওমিম মু'মিনীন)সূরা তাওবা: ১৪

·         ২য় আয়াত: وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ

·         উচ্চারণ: ওয়া শিফাউল লিমা ফিস সুদূর)সূরা ইউনুস: ৫৭

·         ৩য় আয়াত: يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ

·         উচ্চারণ: ইয়াখরুযু مিম বুতূনিহা শরাবুম মুখতালিফুন আলওয়ানুহু ফীহি শিফাউল লিন্নাস)সূরা নাহল: ৬৯

·         ৪র্থ আয়াত: وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ

·         উচ্চারণ: ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআনি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলামু'মিনীন)সূরা ইসরা: ৮২

·         ৫ম আয়াত: وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

·         উচ্চারণ: ওয়া ইযা মারিদ্বতু ফাহুয়া ইয়াশফীন)সূরা শুআরা: ৮০

·         ৬ষ্ঠ আয়াত: قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ

·         উচ্চারণ: ক্বুল হুয়া লিল্লাযীনা আমানূ হুদাও ওয়া"সূরা ফুসসিলাত: ৪৪

কি ধরনের কালি এবং পাত্র ব্যবহার করবেন?

যেহেতু এই লেখাটি ধুয়ে রোগীকে পান করানো হবে, তাই স্বাস্থ্যসম্মত এবং শতভাগ ভক্ষনীয় (Edible) উপাদান ব্যবহার করতে হবে।

কালি: এর জন্য সবচেয়ে উত্তম এবং ঐতিহ্যবাহী উপাদান হলো জাফরান (Saffron) এবং গোলাপ জল (Rose Water) সামান্য গোলাপ জলের মধ্যে খাঁটি জাফরানের কয়েকটি দানা ভিজিয়ে রাখলে চমৎকার একটি হালকা লাল বা সুবর্ণ রঙের সুগন্ধি কালি তৈরি হয়। এটি শরীরের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ উপকারি।

কলম: লেখার জন্য নতুন বা একদম পরিষ্কার কাঠের কাঠি, বাঁশের কেল্লা (খাগের কলম) অথবা পরিষ্কার টুথপিক বা কটন বাড ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাত্র: একদম খাঁটি সাদা চিনা মাটির (Ceramic/Porcelain) প্লেট বা বাটি অথবা কাঁচের পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখবেন, পাত্রের ভেতরের অংশে যেন কোনো ধরনের প্রিন্ট, রঙ বা নকশা না থাকে।

. লিখন রোগীকে পান করানোর বিস্তারিত নিয়ম

পবিত্রতা: যিনি লিখবেন, তাঁকে অবশ্যই পাক-পবিত্র হয়ে ওজু করে নিতে হবে।

লিখন পদ্ধতি: ওজু অবস্থায় বিসমিল্লাহ পড়ে জাফরানের কালি দিয়ে চিনা মাটির প্লেটের ভেতরের অংশে উপরের ৬টি আয়াত সুন্দর করে লিখে নিন। আরবি লেখার নিয়ম জানা না থাকলে কোনো আলেম বা হস্তাক্ষর ভালো এমন কারো সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। লেখা শেষ হলে কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে দিন যাতে কালিটা শুকিয়ে যায়।

পানি দিয়ে ধোয়া: লেখা শুকিয়ে যাওয়ার পর প্লেটের ওপর সামান্য যমযমের পানি অথবা সাধারণ পরিষ্কার খাওয়ার পানি ঢালুন। এরপর পরিষ্কার হাত দিয়ে আলতো করে ঘষে লেখাগুলো পানির সাথে মিশিয়ে দিন। জাফরানের কালি পানিতে সম্পূর্ণ গলে যাবে এবং পানিটি হালকা রঙিন হয়ে উঠবে।

পান করানোর নিয়ম: এই পানিটুকু একটি গ্লাসে নিয়ে রোগীকে 'বিসমিল্লাহ' বলে ডান হাতে তিন ঢোকে পান করতে দিন। পান করার সময় রোগী মনে মনে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে রোগমুক্তির নিয়ত করবেন।

সময়কাল: সাধারণত বুযুর্গগণ এই আমলটি টানা দিন, দিন বা দিন (বিজোড় সংখ্যায়) সকাল-সন্ধ্যা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

একটি সহজ বিকল্প পদ্ধতি (যদি লেখা সম্ভব না হয়) যদি কোনো কারণে জাফরান কালি জোগাড় করা বা প্লেটে লেখা কঠিন মনে হয়, তবে এর একটি সহজ সুন্নাত কার্যকরী বিকল্প রয়েছে:

আপনি নিজে অথবা পরিবারের যেকোনো পরহেজগার মানুষ ওজু অবস্থায় এক গ্লাস খাওয়ার পানি সামনে নিয়ে এই ৬টি আয়াতে শিফা বার পাঠ করবেন। প্রতিবার পড়ার পর পানির গ্লাসে ফুঁ (দম) দেবেন। এরপর সেই পানি রোগীকে সকাল-বিকাল পান করাবেন।

মনে রাখবেন ইসলামে ওষুধ খাওয়া সুন্নাত, আর দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ইবাদত। ওলি-বুযুর্গদের এই আমলগুলোর মূল চাবিকাঠি হলো "দৃঢ় বিশ্বাস" আল্লাহ অবশ্যই সুস্থতা দেবেনএই বিশ্বাস নিয়ে আমল করলে ইনশাআল্লাহ যেকোনো কঠিন রোগেও অলৌকিক উপকার পাওয়া যায়। আমার আজকের এই নুরানি কোরানী নববী আমলগুলি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই একটি লাইক দিবেন, আর আপনার আপনজনদের মাঝে যারা অসুস্থ আছেন তাদের কাছে ভিডিওটি শেয়ার করে দিবেন। আপনার একটি শেয়ারে হতে পারে কোন একজনের জীবন বেঁচেও যেতে পারে। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুন আমিন।

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.