৪টাকায় ৪টি দোয়া ও কোরানের ৩৫টি সুরার মোজেজা
৪টাকায় ৪টি দোয়া ও কোরানের ৩৫টি সুরার মোজেজা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
আপনার কাছে যদি ৪ টাকা থাকে কিংবা
১টি রুটি থাকে তা যদি আপানি সদকা করেন তাতে কি মুজেজা হয় তা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার
করব, সাথে সাথে পবিত্র কুরআনের ৩৫টি মর্যাদাপূণ
সুরা ও আয়াত কোন সুরা পড়লে কি মুজেজা হয় তাও জানতে পারবেন। অভাব অনটন দুর করার
সুরা কোনটি, কঠিন সমস্যা, বিপদ দুর
করার সুরা কোনটি, ঘরে খায়র বরকতের সুরা কোনটি, সমস্ত ইচ্ছা পুরনের সুরা কোনটি, পালিয়ে যাওয়া বা
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি খুঁজে পাওয়ার সুরা কোনটি, মান সন্মান
বৃদ্দির সুরা কোনটি, ঋণ পরিশোধের সুরা কোনটি, সন্তান লাভের জন্য কোন সুরা পড়বেন, বদনজর, জন্ডিস, দরদ ব্যথা ও মৃত্যু যন্ত্রণা দূর করার সুরা
কোনগুলি তাও জানতে পারবেন। এভাবে আজকে অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু কোরআনী আমল জানতে
পারবেন খোদার কসম যা আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিবে। মুল আলোচনায় যাওয়ার আগে একটি
দরুদ শরীফের বরকতের ঘটনা বলি
হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ
(রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, একদা নবী পাক (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) তাঁর ঘর থেকে বের হয়ে একটি বাগানের দিকে তাশরীফ নিয়ে গেলেন। হযরত আব্দুর
রহমান (রাঃ) বলেন, "আমিও প্রিয় আকা (আলাইহিস সালাতু
ওয়াস সালাম)-এর পেছনে পেছনে যেতে লাগলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম যে, নবী পাক কেবলামুখী হয়ে সিজদায় চলে গেলেন। তিনি এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে,
আমার মনে এই ভয় জাগলো—আল্লাহ করিম কি সিজদারত
অবস্থাতেই নবী পাকের রূহে মোবারক কবজ করে নিলেন? আকা কি দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন?"
দীর্ঘ সিজদা শেষে নবী পাক (আলাইহিস
সালাতু ওয়াস সালাম) যখন মাথা মোবারক তুললেন, তখন তিনি
বুঝতে পারলেন যে পাশে কেউ আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কে?"
উত্তর দেওয়া হলো, "হুজুর, আমি আব্দুর রহমান।" জিজ্ঞেস করলেন, "কী
ব্যাপার?" আরজ করা হলো, "হুজুর,
আপনি এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে আমি তো ভেবেছিলাম, বরং আমার ভয় হচ্ছিল—সিজদাতেই আপনার রূহে মোবারক কবজ হয়ে
গেল কি না।"
নবী পাক (আলাইহিস সালাতু ওয়াস
সালাম) কত চমৎকার জবাব দিলেন! তিনি বললেন, "জিব্রাঈল
আমীন আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে এই সুসংবাদ দিয়েছেন যে, ‘হে
মাহবুব (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আল্লাহ তা'আলা ফরমিয়েছেন—যে ব্যক্তি
আপনার ওপর দরূদ পড়বে, আমি তার ওপর রহমত নাজিল করব;
আর যে আপনার ওপর সালাম পাঠাবে, আমি তার ওপর
শান্তি অবতীর্ণ করব।’ এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতেই আমি
এত দীর্ঘ সিজদা করেছি।"
একটু চিন্তা করে দেখুন, দরূদ ও সালাম পড়ব আমরা, রহমত ও শান্তি বর্ষিত হবে
আমাদের ওপর; অথচ তার শুকরিয়া আদায় করতে সিজদা করছেন স্বয়ং
নবী পাক (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)! এর অর্থ হলো, তাঁর
উম্মতের প্রতি তাঁর কত গভীর ভালোবাসা! তাই অনর্থক কথায় সময় নষ্ট না করে বেশি বেশি
দরূদ ও সালাম পাঠ করা উচিত এবং নবী (ﷺ)-এর সুন্নাতসমূহ অনুসরণ করা উচিত। (সাল্লু আলাল হাবীব, সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
প্রিয় বন্ধুরা, এক জালেম বাদশাহ
রাজ্যে নির্দেশ দিল যে, কেউ কোনো ফকির-মিসকিনকে দান করলে তার দুটি হাত
কেটে ফেলা হবে।
এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক এক নারীর
দরজায় এসে আকুতি জানালে নারীটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে দুই খণ্ড রুটি দান
করে। বাদশাহ জানতে পেরে সেই দয়ালু নারীর দুটি হাত কেটে দেয়।
কিছুদিন পর বাদশাহ রূপসী নারী বিয়ে
করতে চাইলে কাকতালীয়ভাবে ওই নারীর সাথেই তার বিয়ে হয় এবং সে রানী হয়। পরবর্তীতে
অন্যান্য সতীনদের হিংসার কারণে চক্রান্ত করে রানীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শিশু
সন্তানসহ বনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বনের নদীর পাশে পানি পান করতে গিয়ে তার কোলের
শিশুটি পানিতে পড়ে যায়।
নারীটি হাত না থাকায় কান্নাকাটি
করলে দুই সুপুরুষ যুবক এসে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া
করে নারীর হাত দুটিও ফিরিয়ে দেয়। যুবকেরা পরিচয় দিয়ে বলে, "আমরা
তোমার সেই দুটি রুটি, যা তুমি আল্লাহর ওয়াস্তে ভিক্ষুককে দান
করেছিলে।"
বন্ধুরা ৪ দিরহামের বিনিময়ে ৪টি
দোয়ার চিত্তাকর্ষক ঘটনা ও সদকার অসাধারণ বরকত গুলি বলার আগে পবিত্র কুরআনের ৩৫টি
অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সুরা ও আয়াত কোন সুরার কি ফজিলত তা বর্ণনা করছি
বিভিন্ন সূরা ও আয়াতের ফজিলত ও
ওজিফা
সূরা ফাতিহা (১০০ বার): যে
দোআই করা হোক না কেন, তা কবুল হয়।
সূরা বাকারা: তিলাওয়াত
করলে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।
আয়াতুল কুরসী: পাঠ
করলে অভাব-অনটন দূর হয়।
সূরা কাহফ: নিয়মিত
পাঠকারী দাজ্জালের ফেতনা থেকে হেফাজতে থাকে।
সূরা ইয়াসীন: প্রতি
শুক্রবারে পিতা-মাতার কবরের পাশে পাঠ করলে অক্ষরের সংখ্যা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়।
সূরা দুখান: কঠিন
সমস্যা ও বিপদ দূর হয়।
সূরা জাসিয়াহ: মুমূর্ষু
ব্যক্তির ওপর ফুঁক দিলে ঈমানের সাথে খাতামা (মৃত্যু) নসীব হয়।
সূরা হুজুরাত: পাঠ
করে ফুঁক দিয়ে পানি পান করলে ঘরে খায়ের ও বরকত হয়।
সূরা ক্বাফ: পাঠ
করলে বাগানের ফলমূল বৃদ্ধি পায়।
সূরা রহমান (১১ বার): পাঠ
করলে সমস্ত উদ্দেশ্য সফল হয়।
সূরা ওয়াকিআহ: যে
ব্যক্তি প্রতিদিন পাঠ করবে, সে কখনো অনাহারে/দারিদ্র্যে পড়বে
না।
সূরা মুলক: প্রতি
রাতে পাঠ করলে কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
সূরা মুযযাম্মিল (১১ বার): পাঠ
করলে প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়।
সূরা মুদ্দাসসির: পাঠ
করে দোয়া করলে কুরআন হিফজ করা সহজ হয়।
সূরা নাযিআত: পাঠ
করলে মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়।
সূরা দুহা: পাঠ
করলে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ফিরে আসে।
সূরা আলাম নাশরাহ: সম্পদে
পাঠ করে ফুঁক দিলে তাতে প্রচুর বরকত হয়।
সূরা তীন (৩ বার): পাঠ
করলে চরিত্র ও আখলাক সুন্দর হয়।
সূরা আলাক: গিঁট
বা জোড়ার ব্যথার চিকিৎসা হিসেবে কার্যকর।
সূরা ক্বদর: সকাল-সন্ধ্যা
পাঠ করলে আল্লাহ মান-সম্মান বৃদ্ধি করেন।
সূরা বাইয়িনাহ: শ্বেত
ও জন্ডিস রোগের চিকিৎসা।
সূরা আদিয়াত: মানুষ
বা পশুর কুদৃষ্টি (নজর) দূর করতে কার্যকর।
সূরা ক্বারিআহ: বিপদ-আপদ
থেকে সুরক্ষায় কার্যকর।
সূরা তাকাসুর (৩০০ বার): দ্রুত
ঋণ পরিশোধের জন্য কার্যকর ওজিফা।
সূরা আসর: পাঠ
করলে দুঃখ-কষ্ট দূর হয়।
সূরা হুমাজাহ ও সূরা ফিল: শত্রুর
অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য পড়া হয়।
সূরা কুরাইশ: জীবন
ও জানের নিরাপত্তার জন্য পরীক্ষিত।
সূরা মাউন: চরম
বিপদের সময় পাঠ করা অত্যন্ত উপকারী।
সূরা কাওসার: তিলাওয়াত
করলে সন্তানহীন ব্যক্তি সন্তান লাভ করে।
সূরা কাফিরুন: এক-
চতুর্থাংশ (১/৪) কুরআনের সমতুল্য।
সূরা জিলজাল: অর্ধেক
(১/২) কুরআনের সমতুল্য।
সূরা ইখলাস: এক-তৃতীয়াংশ
(১/৩) কুরআনের সমতুল্য।
সূরা ফালাক ও সূরা নাস: জিন, শয়তান ও
হিংসুকদের অনিষ্ট থেকে রক্ষায় কার্যকর।
কুরআনে আল্লাহ তা'আলা তাঁর
রাস্তায় খরচ করাকে ‘কর্জ
বা ঋণ’ (কর্জান
হাসানা) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সবকিছুই আল্লাহর দেওয়া, তবুও তিনি ‘কর্জ’ শব্দ
ব্যবহার করেছেন কারণ মানুষ জানে ঋণ দিলে তা ফেরত পাওয়া যায়। অর্থাৎ আল্লাহ নিশ্চিত
ওয়াদা করছেন যে,
তাঁর রাস্তায় যা দেওয়া হবে, তা বহুগুণ
বৃদ্ধি করে বান্দাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
হযরত আয়েশা সিদ্দিফা (রাযিয়াল্লাহু
তা'আলা
আনহা) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর
ঘরে একটি ছাগল জবেহ করার পর তার অধিকাংশ গোশত বণ্টন করে দেওয়া হলো। নবী পাক (ﷺ) এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আয়েশা, কী অবশিষ্ট
আছে?" আরজ
করা হলো,
"হুজুর, ছাগলের কাঁধের অংশ ছাড়া আর কিছুই
অবশিষ্ট নেই।" নবী পাক (ﷺ)
ইরশাদ করলেন,
"আয়েশা, কাঁধের অংশটি ছাড়া বাকি পুরোটাই
(পরকালের জন্য) থেকে গেছে।" অর্থাৎ যা আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়া হয়, সেটাই মূলত
পরকালের অ্যাকাউন্টে জমা থাকে।
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ ফরমায়েন, "হে
বনি আদম! তোমার সম্পদ আমার কাছে জমা রাখো; তা পুড়বে না, ডুববে না, কমবে না।
আমি সেই দিন তোমাকে ফিরিয়ে দেব যেদিন তোমার একটি নেকীর খুব প্রয়োজন হবে।" তাই
জীবনে বেঁচে থাকতেই সদকায়ে জারিয়ার কাজ করা উচিত। অথবা মৃত্যুর পূর্বে অন্তত ৩০%
সম্পদ দ্বীনি কাজে (মসজিদ, মাদ্রাসা বা জনকল্যাণে) ব্যয় করার ওসিয়ত করে
যাওয়া উচিত,
যাতে মৃত্যুর পরও পরকালের অ্যাকাউন্টে সওয়াব জমা হতে থাকে।
হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে
এক ধোপা মানুষকে খুব কষ্ট দিত। ঈসা (আঃ) তার ধ্বংসের জন্য দোয়া করেছিলেন। একদিন
সেই ধোপা এক ভিক্ষুককে ৩টি রুটি দান করে। ভিক্ষুকটি তার জন্য আসমানী ও দুনিয়াবী
বিপদ থেকে রক্ষার দোয়া করে। ঐ দিন ঈসা (আঃ)-এর দোয়ার কারণে ধোপার কাপড়ের বোঁচকায়
এক বিষধর সাপ প্রবেশ করেছিল তাকে দংশন করার জন্য। কিন্তু তার রুটি দানের দোয়ার
বরকতে ফেরেশতা সাপের মুখে লোহার লাগাম লাগিয়ে দেয়। ধোপা বেঁচে যায় এবং এই অলৌকিক
ঘটনা দেখে তওবা করে ভালো মানুষ হয়ে যায়।
হযরত দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে
এক যুবকের রূহ কবজ করার জন্য আজরাঈল (আঃ) এসেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যুবকের আয়ু আর
মাত্র ৩ দিন বাকি। কিন্তু ৩ দিন পার হওয়ার পরও যুবকটিকে জীবিত দেখে হযরত দাঊদ (আঃ)
কারণ জিজ্ঞেস করলে জানা যায়—যুবকটি এক ফকিরকে ২০ দিরহাম
দান করেছিল এবং ফকির তার দীর্ঘায়ুর দোয়া করেছিল। আল্লাহ সেই দোয়ায় প্রতিটি দিরহামের
বিনিময়ে তার আয়ু ১ বছর করে মোট ২০ বছর বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
হযরত হাবীব আজমী (র.)-এর ঘরে এক
ভিক্ষুক আসলে তাঁর স্ত্রী ছানা আটা রেখে প্রতিবেশীর ঘর থেকে আগুন আনতে গিয়েছিলেন।
হযরত হাবীব আজমী (র.) সেই ছানা আটাই ভিক্ষুককে দিয়ে দেন। স্ত্রী ফিরে এসে রাগ করলে
কিছুক্ষণ পরই আল্লাহর কুদরতে দরজায় এক ব্যক্তি বড় থালে গরম রুটি ও সুস্বাদু সালন
(তরকারি) নিয়ে হাজির হয়।
সমাজে যারা প্রকৃত সাদা মনের মানুষ
(সফেদ পোশ),
তারা কখনো মুখ ফুটে সাহায্য চায় না। তাদের খুঁজে বের করে
গোপনে সাহায্য করা উচিত।
সব সমস্যার সমাধান কেবল টাকা নয়।
টাকা না থাকলেও মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, ভালো
পরামর্শ দেওয়া,
অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া ও বিপদে মানসিক সাহস দেওয়াও এক
বিরাট সদকা।
আলা হযরত (র.) চমৎকার বলেছেন—"শরবত
না দিতে পারো, মিষ্টি ভাষায় তো কথা বলো।" কারণ
ভালো কথা ও সহানুভূতি মানুষের ক্ষতে মলমের মতো কাজ করে, আর কটু কথা
জখমে লবণের মতো বিঁধে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, হযরত মনসুর বিন আম্মার (র.) এক মাহফিলে
এক অভাবীর জন্য ৪ দিরহাম চাইলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি ৪ দিরহাম দেবে আমি তার জন্য
৪টি দোয়া করব।
এক দরিদ্র গোলাম নিজের কাছে থাকা ৪ দিরহাম দিয়ে দিল এবং ৪টি দোয়ার আরজ করল:
1.
আমি যেন গোলামি থেকে মুক্তি পাই।
2.
আমার এই ৪ দিরহামের প্রতিদান যেন পাই।
3.
আল্লাহ যেন আমাকে ও আমার মনিবকে তওবার তাওফিক দেন।
4.
আল্লাহ যেন আমাকে, আমার মনিবকে,
আপনাকে এবং
মাহফিলের সকলকে ক্ষমা করে দেন।
গোলাম বাড়ি ফিরলে মনিব দেরি হওয়ার কারণ শুনে দোয়ার কথা জানতে পারে। মনিব
তাৎক্ষণিকভাবে:
গোলামকে আজাদ করে দেয় (১ম দোয়া সফল)।
তাকে ৪ দিরহামের বদলে ৪,০০০ দিরহাম দান করে (২য় দোয়া সফল)।
নিজের অতীত গুনাহ থেকে তওবা করে (৩য় দোয়া সফল)।
৪র্থ দোয়ার ব্যাপারে মনিব বলল, "ক্ষমা করা তো আল্লাহর কাজ।" সেই
রাতে মনিব স্বপ্নে শুনতে পেল—আল্লাহ তা'আলা বলছেন,
"তোমার সাধ্যে যা
ছিল তা তুমি করেছ; আর আমি আরহামুর রাহিমীন,
তাই আমি তোমাকে,
তোমার গোলামকে,
মনসুর বিন
আম্মারকে এবং মাহফিলের সকল উপস্থিতিকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"
মানুষ যখন আল্লাহর ওয়াস্তে কারও
সাহায্য করে বা এমন কোনো কাজ করে যার ফলে কারও অন্তর থেকে দোয়া বের হয়, তখন সেই
দোয়ার বরকতে জটিল কাজ সহজ হয়ে যায় এবং বড় বড় বিপদ কেটে যায়। সদকা রোগব্যাধি দূর
করে, মন্দের
৭০টি দরজা বন্ধ করে এবং আসমানী গজব ও বিপদকে আটকে দেয়।
আমরা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হয়তো
কোনো বড় বিপদ (যেমন: দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা পারিবারিক অসুস্থতা)
আসার কথা ছিল। যখন মানুষ সদকা দেয়, তখন সেই সদকা ওপর থেকে আসা বিপদকে
আটকে দেয়। তাই সদকা দেওয়ার পর টাকার অঙ্কে সরাসরি ১০ গুণ পাওয়ার হিসাব না করে এটি
ভাবা উচিত যে,
সদকার বরকতে কত বড় বিপদ থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করতে
হবে। দান করে কখনো খোঁটা দেওয়া বা এহসান জাঁতানো যাবে না (যেমন: 'আমি তোকে
টাকা দিয়েছিলাম',
'তোর ব্যবসা আমি দাঁড় করিয়েছি' ইত্যাদি)।
খোঁটা দিলে সদকার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—সদকাকারী
পুরুষ ও নারীদের জন্য রয়েছে বহুগুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্রতিদান এবং সম্মানজনক
পুরস্কার।
আসুন, আমরা
আল্লাহর রাস্তায় মুক্তহস্তে দান করি, মানুষের মানসিক ও শারীরিক কষ্টে
পাশে দাঁড়াই এবং কোমল ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ দিয়ে অন্যের দুঃখ-কষ্ট দূর করার চেষ্টা
করি।
কোন মন্তব্য নেই