শুধু ২টি লং লবনে রেখে আয়াত ও আল্লাহর নাম পড়ুন। রিজিকের দরজা খোলা ভাগ্য পরিবর্তনে কোরআনের পয়গাম।
শুধু ২টি লং লবনে রেখে আয়াত ও আল্লাহর নাম পড়ুন।
রিজিকের দরজা খোলা ভাগ্য পরিবর্তনে কোরআনের
পয়গাম।
আজ আমি আপনার জন্য দুটি লবঙ্গ ও লবণের ওপর 'ইয়া গানী' এবং সূরা
কাওসারের এমন এক অত্যন্ত শক্তিশালী ওজিফা নিয়ে এসেছি, যা পাঠ
করার সাথে সাথেই আপনার ঘর থেকে দারিদ্র্য, অভাব-অনটন এবং ঝামেলা সবসময়ের জন্য
দূর হতে শুরু করবে। যতক্ষণ এই দুটি লবঙ্গের দানা আপনার কাছে উপস্থিত থাকবে, দুনিয়ার
কোনো শক্তি আপনার ক্ষতি করতে পারবে না এবং রিজিক নিজে হেঁটে আপনার দরজা পর্যন্ত
আসবে।
আল্লাহর বান্দারা, লবণ বরকতের প্রতীক এবং লবঙ্গ এমন এক
জিনিস যা প্রভাবকে নিজের ভেতর বন্দি করে নেয়। যখন আপনি 'ইয়া গানী' অর্থাৎ
আল্লাহর ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের নাম এবং সূরা কাওসারের অপরিসীম কল্যাণকে একত্রিত
করে এদের ওপর দম করবেন,
তখন এই দুটি দানা আপনার রিজিকের মাধ্যম হয়ে উঠবে; ঠিক যেমন
একটি অ্যান্টেনা চারদিক থেকে ধন-সম্পদ ও বরকত টেনে আপনার জীবনে নিয়ে আসে।
এই দুটি লবঙ্গের দানার ওপর যে বিশেষ নিয়ম ও আমল
আমি আপনাকে দিতে যাচ্ছি,
তা করা আপনার দায়িত্ব,
তবে বিশ্বাস রাখুন ফলাফল আল্লাহর হুকুমে আপনি অবশ্যই পাবেন। যদি আপনার রিজিকের
অভাব থাকে, তবে
এই দানাগুলোর ওপর আল্লাহর এই নাম পাঠ করুন; যদি আপনার দোকানে কাস্টমার না আসে, তবে এই
আমলটিই করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, কাউকে নিজের বশে আনার জন্য, কাউকে বাধ্য করার জন্য বা কারো
ইচ্ছার বিরুদ্ধে চালানোর জন্য এই ধরনের আমল ব্যবহার করা দ্বীনের পরিপন্থী। তাই এ
থেকে বিরত থাকুন এবং এই আমলটি কেবল হালাল, জায়েজ ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে করুন।
এই আমলের উপকারিতা এত বেশি যে, তা বর্ণনা
করা শুরু করলে কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। শুধু এতটুকু বুঝে নিন যে, আপনি যদি
আপনার জীবন থেকে সব ধরনের পেরেশানি, সব ধরনের বিপদ-আপদ, সব ধরনের
অভাব-অনটন এবং বরকতহীনতা দূর করে এক নতুন শান্তিময় জীবন শুরু করতে চান, তবে এই
আমলটি আপনার জন্য। এটি কোনো সাধারণ ওজিফা নয়, বরং আল্লাহর অলিদের আধ্যাত্মিক
অভিজ্ঞতার এক বিশেষ গোপন রহস্য, যার ওপর আমলকারী দুনিয়াতেও সফল হয় এবং আখেরাতেও সফলতা লাভ
করে।
লবঙ্গ প্রতিটি ঘরেই থাকে, যা গরম
মসলার একটি অংশ এবং লবণও প্রতিটি ঘরে সহজেই পাওয়া যায়। আপনি যেকোনো পরিষ্কার লবণ
নিতে পারেন। এখন আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, এক মুঠো লবণ নিন এবং দুটি লবঙ্গের
দানা নিন এবং এদের ওপর এই বিশেষ ওজিফা পাঠ করুন। লবণের বিষয়ে বলা হয়ে থাকে যে, এটি খারাপ
প্রভাব, জাদু, কুদৃষ্টি
এবং ব্লকেজ বা বাধা দূর করতে সাহায্য করে।
প্রায়শই এমন হয় যে, মানুষ
পরিশ্রমও করে, দোয়াও
করে, তাসবিহও
পড়ে, কিন্তু
তাও রিজিকে বরকত আসে না,
ব্যবসা চলে না,
ঘরে অশান্তি বিরাজ করে এবং মানুষ বুঝতে পারে না যে আসলে কী হচ্ছে। এমন
পরিস্থিতিতে এই আমলটি একটি পথ দেখায়। যদি আপনার ওপর জাদু, জিন, কুদৃষ্টি
বা যেকোনো ধরনের বাধার প্রভাব থাকে, যদি আপনার ব্যবসায় বাধা থাকে, সম্পর্কে
টানাপোড়েন থাকে, ঘরে
বরকত না থাকে, তবে
এই আমলটি আপনার জন্য একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে। আজকে সে মহান আমলটি বলার আগে
আপনাদের সামনে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কয়েকটি আমল তুলে ধরতে চাই, যা আমাদের
জীবনের মোর ঘুরিয়ে দিতে পারে, যারাই এই আমল করেছে তারাই পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরনিয়
হয়ে আছে, তারপর আজকের সে কাংখিত লবন ও লবঙ্গের আমলটি বলব।
যুগে যুগে যারাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য
নিজেদের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করেছেন, তারাই সফল হয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা হাশরের ৯
নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন:
وَ يُؤْثِرُونَ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ
"তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও
অন্যদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দিত।"
হযরত আবু তালহা (রা.)-এর অত্যন্ত চমৎকার একটি বাগান ছিল, যার নাম 'বীরহা'। বাগানে
একটি সুন্দর কুপও ছিল। একদিন তিনি সেই বাগানে নফল নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎ একটি সুন্দর
পাখি বাগানে ঢুকে পড়ে এবং বের হওয়ার পথ পাচ্ছিল না। পাখিটির ছোটাছুটি দেখতে গিয়ে
আবু তালহা (রা.) খেয়াল হারিয়ে ফেললেন যে তিনি কত রাকাত নামাজ পড়েছেন।
নামাজ শেষে তিনি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর
দরবারে হাজির হয়ে বললেন,
"ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই বাগান আজ আমার নামাজের মনোযোগ নষ্টের
কারণ হয়েছে। তাই আমি এই কোটি টাকার বাগানটি আল্লাহর ওয়াস্তে সদকা করে দিলাম। আপনি
যেভাবে ইচ্ছে এটি ভালো কাজে ব্যবহার করুন।" (সহিহ
আত-তারগিব)
একবার চিন্তা করে দেখুন, ইবাদতে
সামান্য বিঘ্ন ঘটায় তিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদটি দান করে দিলেন!
সূরা ফুরকানের ৬৩ থেকে ৭৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ
তাআলা নিজের খাঁটি বান্দাদের ১২টি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন:
1.
পৃথিবীতে
বিনয়ের সাথে চলাফেরা করা।
2.
মূর্খ বা
অজ্ঞ লোকদের সাথে তর্কে না জড়িয়ে শান্তভাবে সালাম দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া।
3.
রাতের কিছু
অংশ সেজদায় ও দাঁড়িয়ে ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়া (তাহাজ্জুদ)।
4.
জাহান্নামের
শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে ব্যাকুল হয়ে দোয়া করা।
5.
খরচের
ক্ষেত্রে অপচয় ও কৃপণতা পরিহার করে ভারসাম্য বজায় রাখা।
6.
আল্লাহর সাথে
কাউকে শরিক না করা।
7.
অন্যায়ভাবে
কাউকে হত্যা না করা।
8.
ব্যভিচার
থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
9.
মিথ্যা
সাক্ষ্য না দেওয়া।
10.
অনর্থক ও
বেকার কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
11.
আল্লাহর
আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে অন্ধ বা বধিরের মতো আচরণ না করে মনোযোগ দেওয়া।
12.
নিজের
স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য চোখের শীতলতা এবং মুত্তাকিদের আদর্শ হওয়ার দোয়া করা।
একবার মদিনায় এক মুসাফির আসলেন, যার থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, "যে এই লোকটিকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করবে,
আল্লাহ তার ওপর
সদয় হবেন।" হযরত আবু তালহা (রা.) সাথে সাথে মেহমানকে নিজের ঘরে নিয়ে
গেলেন।
ঘরে গিয়ে দেখলেন, শিশুদের জন্য রাখা সামান্য খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি
স্ত্রী হযরত উম্মু সুলাইম (রা.)-কে বললেন, "বাচ্চাদের বুঝিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। তারপর
খাবার সামনে দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর অজুহাতে আলো নিভিয়ে দাও। আমরা অন্ধকারে খাওয়ার
ভান করব, যেন মেহমান তৃপ্তি সহকারে পুরো খাবার খেয়ে নিতে
পারেন।"
সে রাতে পুরো পরিবার উপোস থেকে মেহমানকে খাওয়ালেন। সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসলে তিনি মুচকি হেসে বললেন,
"তোমাদের রাতের
আচরণে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।"
মেহমানদারীর অনেক
ফজিলত: আছে মেহমানকে সম্মান করলে আল্লাহ খুশি হন।
রিজিক বৃদ্ধি: ঘরে বরকত বাড়ে এবং রিজিকের দুয়ার খুলে যায়।
গুনাহ মাফ: মেহমানের সাথে সুন্দর ব্যবহারে অতীতের গুনাহ ক্ষমা হয়।
হযরত আবু তালহা (রা.) ও উম্মু সুলাইম (রা.)-এর
একটি সন্তান অসুস্থ ছিল। আবু তালহা (রা.) যখন মসজিদে নববীতে ছিলেন, তখন শিশুটি
ইন্তেকাল করে। উম্মু সুলাইম (রা.) স্বামীর মানসিক কষ্টের কথা চিন্তা করে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর সংবাদ না জানিয়ে ধৈর্য ধারণ
করলেন।
রাতে আবু তালহা (রা.) ঘরে ফিরলে স্ত্রী উম্মু
সুলাইম স্বামীকে খেদমত করলেন। স্বামী যখন সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন, "সে
আগের চেয়ে ভালো আছে।" রাতে স্বামীর সেবা করলেন। শেষ রাতে
অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে বললেন, "যদি কেউ আপনাকে কোনো আমানত দেয়, আর পরে তা
ফেরত চায়—তবে
কি আপনি অসন্তুষ্ট হবেন?"
স্বামী বললেন, "না।" তখন তিনি
বললেন, "আল্লাহ
তাঁর আমানত বা তাদর সন্তান ফেরত নিয়েছেন।" অর্থ্যাৎ তাঁদের অসুস্থ সন্তান
ইন্তেকাল করেছেন।
পরদিন সকালে
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘটনা শুনে তাদের জন্য দোয়া করলেন, "আল্লাহ
তোমাদের গত রাতে বরকত দান করুন।" সেই রাতে আবু তালহার স্ত্রীর গর্ভে
সন্তান আসল আর সে সন্তানের নাম রাখা হয় 'আব্দুল্লাহ'। এই
আব্দুল্লাহর মাধ্যমেই পরবর্তীতে তাঁদের বংশধারায় অসংখ্য বড় আলেম ও বুজুর্গের জন্ম
হয়।
এই আবু তালহার আরো ১টি ফজিলত ছিল। তিনি মহানবীর
কবর খনন করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর কবর খননের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ
দেখা দিলে সিদ্ধান্ত হয় যে হযরত আবু উবাইদাহ (রা.) ও হযরত আবু তালহা (রা.)-এর
মধ্যে যিনি আগে আসবেন তাঁর পদ্ধতিই গ্রহণ করা হবে; পরবর্তীতে
আবু তালহা (রা.) আগে পৌঁছানোয় মদিনাবাসীদের 'লাহাদ' বা বগলী পদ্ধতিতে মহানবী (সা.)-এর কবর শরীফ খননের সৌভাগ্য লাভ করেন।
সুন্নাহসম্মত কবর মূলত দুই ধরণের: ১. 'লাহদ' বা বগলী কবর (কিবলার দিকের দেওয়ালে ভেতরে গর্ত করে
লাশ রাখা), যা শক্ত মাটির জন্য সুন্নত; এবং ২. 'শাক্ব' বা সিন্দুকী
কবর (কবরের মাঝবরাবর নিচে ছোট গর্ত করে লাশ রাখা), যা ধসে পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ নরম মাটির জন্য প্রযোজ্য। কবরের গভীরতা সর্বনিম্ন
নাভি পর্যন্ত থেকে সর্বোচ্চ একজন ব্যক্তির দু'হাত তোলা
উচ্চতা। দৈর্ঘ্য মৃতের সমান এবং প্রস্থ
দৈর্ঘ্যের অর্ধেক বা তার চেয়ে কিছুটা কম হওয়া সুন্নাত।
আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় আরো একটি আমল
হল তাওবা করে ফিরে আসা বাগদাদের ধনকুবের হাবিব আজমি সুদের ব্যবসা
করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে গেছেন।
একদিন তিনি বাড়িতে সুদের টাকায় কেনা কাঠ দিয়ে
মাংস রান্না করতে দিলেন। কিন্তু নেককার স্ত্রী চুলা থেকে ঢাকনা তুলে দেখেন মাংসের
বদলে রক্ত ফুটছে! স্ত্রী বললেন, "আল্লাহ দুনিয়াতেই আপনাকে রক্ত
দেখাচ্ছেন, আখেরাতে
কী হবে?"
ঘটনাটিতে অনুতপ্ত হয়ে তিনি বাইরে বের হলে খেলার
মাঠে বাচ্চারা তাকে দেখে বলতে লাগল, "সরে যাও!
ওই সুদখোর আসছে,
ওর ছায়া পড়লে আমরাও বরবাদ হয়ে যাব।" বাচ্চাদের
মুখে এই কথা শুনে তিনি কেঁদে ফেললেন এবং সুদের পথ থেকে চিরতরে তাওবা করলেন।
স্ত্রী বললেন, "আপনি হালাল
পথে থাকুন, আধা
রুটি এনে দিলেও আমি সবর করব।"
কাজ না জানা হাবিব আজমি প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে
ইবাদত করতেন আর স্ত্রীকে বলতেন, "এক বাদশাহর কাজ করি, পরে বেতন
দেবে।"
টানা ৫ দিন পর ঘরে ফিরে দেখেন ঘর আলোয় ঝলমল করছে, সুস্বাদু
খাবার সাজানো! স্ত্রী বললেন, "আপনার বাদশাহর সিপাহী এসে এই খাবার
দিয়ে গেছেন এবং বলেছেন পরিশ্রম চালিয়ে যেতে।"
হাবিব আজমি বুঝতে পারলেন, এটি কোনো
পার্থিব বাদশাহর লোক নয়—বরং খোদ রাব্বুল আলামিন তাঁর সম্মান বাঁচাতে ফেরেশতা
পাঠিয়েছেন! এরপর তিনি আল্লাহর এত বড় ওলি হন যে, বড় বড় বুজুর্গগণও তাঁকে সম্মান
করতেন।
এবার আসুন আজকের মুল আমলটি কিভাবে করবেন তার
বর্ণনা শুনুন। এই আমলটি মূলত ঘরে বরকত বৃদ্ধি, রিজিকের অভাব দূর করা, ঋণমুক্তি, পারিবারিক
অশান্তি নিরসন এবং কুদৃষ্টি বা জাদুর প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য একটি আধ্যাত্মিক
আমল। এটি লবঙ্গ ও লবণের ওপর আল্লাহর নাম ও পবিত্র সূরা পাঠের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে
হয়।
এর জন্য প্রয়োজনীয়
উপকরন হলো
২টি আস্ত ও নিখুঁত লবঙ্গ (ভাঙা বা খাঁজকাটা হওয়া
যাবে না) এবং ১ মুঠো পরিষ্কার সাধারণ লবণ।
আমল করার সঠিক
নিয়ম ও ধাপ
১. অজু করে পাক-পবিত্র অবস্থায়
জায়নামাজে বসুন।
২. ২টি
লবঙ্গ ডান হাতের তালুতে রেখে মুষ্টিবদ্ধ করুন। ৩. পূর্ণ
একাগ্রতার সাথে
১১ বার ‘ইয়া রব্বানা’ পাঠ করে
লবঙ্গের ওপর ফুঁ দিন। ৪. এরপর ৩১৩ বার ‘ইয়া গানী’ পাঠ করে
লবঙ্গ ও এক মুঠো লবণের ওপর ফুঁ দিন। ৫. সবশেষে ৪১
বার সূরা
কাওসার
পাঠ করে পুনরায় লবঙ্গ ও লবণের ওপর ফুঁ দিন। ৬. আমল শেষে লবঙ্গ দুটি লবণের মধ্যে বা
লবণের কৌটায় রেখে নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।
আমলের মূল
শর্তাবলী
সৎ নিয়ত: আমলটি কেবল হালাল, জায়েজ ও
কল্যাণের উদ্দেশ্যে করতে হবে। কারো ক্ষতি করা বা অনিচ্ছায় কাউকে বশে আনার
উদ্দেশ্যে করা নিষেধ।
বিশ্বাস ও নিষ্ঠা: সম্পূর্ণ
ঈমান, একাগ্রতা
ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমলটি করতে হবে।
আমলটির প্রধান
উপকারিতাসমূহ হলো
আর্থিক সচ্ছলতা: ঋণ
পরিশোধের পথ সুগম হয়,
ব্যবসায় কাস্টমার ও উন্নতি বৃদ্ধি পায় এবং অভাব-অনটন দূর হয়।
পারিবারিক শান্তি: পারিবারিক
ও দাম্পত্য কলহ দূর হয়ে ঘরে শান্তি ও ভালোবাসা ফিরে আসে।
সুরক্ষা: হিংসা, কুদৃষ্টি, জাদু ও
বিভিন্ন ধরনের বাধার কুপ্রভাব থেকে ঘর ও ব্যবসা সুরক্ষিত থাকে।
সবাই চায় এমন কোনো ওজিফার কথা জানা যাক, যা পাঠ করার পর আর কখনো
অন্য কোনো ওজিফার প্রয়োজন না পড়ে। তাই আজ আমি আপনাকে সেই আধ্যাত্মিক রহস্য দিচ্ছি—লবঙ্গ ও লবণের ওপর এই আমলটি করুন, ইনশাআল্লাহ আপনাকে
আর কখনো অন্য কোনো ওজিফার প্রয়োজন হবে না। আপনাকে লবঙ্গ ও লবণের ওপর এই পবিত্র
সূরাটি মাত্র ৪১ বার পাঠ করতে হবে। ৪১ বার পাঠ করতে হবে—এটি
অলি-বুজুর্গদের নির্ধারিত সংখ্যা, এতে কোনো কমবেশি করবেন না।
এই সূরায় আল্লাহ অপরিসীম সম্পদ রেখেছেন, অপরিসীম বরকত রেখেছেন,
অফুরন্ত সুফল, আনন্দ ও সমৃদ্ধি রেখেছেন। এই সূরা পাঠ করলে রিজিকের সংকট দূর হয়ে যায়,
ঘরের অশান্তি মুছে যায়; আল্লাহ এমন সব পথ খুলে
দেন যা বান্দার চিন্তাভাবনাতেও আসে না।
জীবনে অলৌকিক বরকত, রিজিকে অসীম সচ্ছলতা এবং পরিবারে স্থায়ী শান্তি পেতে হলে আমাদের দুটি বিষয়ের
সমন্বয় ঘটাতে হবে। প্রথমত, আমাদের আখলাক ও চরিত্রকে সুন্দর
করতে হবে—হযরত আবু তালহা ও উম্মু সুলাইম (রা.)-এর মতো প্রিয়
বস্তু আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা, চরম বিপদেও
সবর করা এবং হাবিব আজমি (রহ.)-এর মতো যেকোনো অন্যায্য ও সুদী পথ থেকে খাঁটি তাওবা
করে ফিরে আসা। আর দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ ঈমান ও হালাল নিয়ত নিয়ে
লবঙ্গ ও লবণের ওপর ৩১৩ বার 'ইয়া গানী' এবং
৪১ বার সূরা কাওসারের এই মোবারক ওজিফাটি পাঠ করা। এই আমলটি আপনার ঘর ও ব্যবসা থেকে
অভাব, হিংসা, জাদুটোনা ও কুদৃষ্টির
সমস্ত কালো ছায়া দূর করে আল্লাহর কুদরতি রিজিকের দুয়ার খুলে দেবে—ইনশাআল্লাহ।
আজকের এই পবিত্র আলোচনা ও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে
দেওয়ার মতো আমলটি যদি আপনার অন্তরে বিন্দুমাত্র আলো ছড়িয়ে থাকে, তবে এখনই ভিডিওটিতে একটি লাইক দিন এবং আপনার পরিবার ও প্রিয়জনদের সাথে
বেশি বেশি শেয়ার করে দিন! আপনার একটি শেয়ার হয়তো কোনো চিন্তিত ও অভাবগ্রস্ত ভাইয়ের
ঘরে বরকতের অসীলা হয়ে উঠতে পারে, যার বিনিময়ে আপনিও পাবেন
অগণিত সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব।
কমেন্ট বক্সে 'ইয়া গানী'
অথবা 'ইনশাআল্লাহ' লিখে
আপনার সুন্দর অনুভূতি জানিয়ে দিন এবং এমনই ঈমানদীপ্ত ও আমলী ভিডিও নিয়মিত পেতে
আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশেই থাকুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে
হেদায়েত ও রিজিকে অফুরন্ত বরকত দান করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল
আলামিন।
কোন মন্তব্য নেই